সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সাটুরিয়ায় ‘২ শতাংশ ঘুষ’ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন প্রকৌশলী


মো.লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ
মো.লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

সাটুরিয়ায় ‘২ শতাংশ ঘুষ’ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন প্রকৌশলী

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে ২ শতাংশ হারে ঘুষ না দেওয়ায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডার্স’ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঠিকাদারের দাবি, কাজ বন্ধ থাকায় তার প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট ও চুরি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কের দুই হাজার মিটার উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পায় এস আর ট্রেডার্স। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কাজ শুরু করতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী তাতে বাধা দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রুমান বলেন, ‘আমি ছাত্রাবস্থায় ব্যবসা শুরু করেছি। উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার আগে বরাদ্দের ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার ওপর ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। আমি তিন দিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঘুষ দিতে না পারায় তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। দুই মাস কাজ বন্ধ থাকায় আমার ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমে পাথর হয়ে গেছে। সাইট থেকে রড, বালু ও পাথর চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে আমি ২০ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছি।’

রুমান আরও জানান, দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ মার্চ প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে ২৪ মার্চ তিনি আবার সাটুরিয়ায় বহাল হন। গত ২৫ মার্চ তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সাটুরিয়ার আরও কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রতিটি কাজ থেকে এই প্রকৌশলীকে ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এ ছাড়া কার্যাদেশ নিতেও প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম ঘুষ নেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় তা বন্ধ করা হয়েছে।’

ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। অনেকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে ভুয়া অডিও রেকর্ড তৈরি করতে পারে।’ এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি প্রতিবেদকের কাছে অনুরোধ জানান।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘যেকোনো প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


সাটুরিয়ায় ‘২ শতাংশ ঘুষ’ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন প্রকৌশলী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে ২ শতাংশ হারে ঘুষ না দেওয়ায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডার্স’ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঠিকাদারের দাবি, কাজ বন্ধ থাকায় তার প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট ও চুরি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কের দুই হাজার মিটার উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পায় এস আর ট্রেডার্স। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কাজ শুরু করতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী তাতে বাধা দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রুমান বলেন, ‘আমি ছাত্রাবস্থায় ব্যবসা শুরু করেছি। উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার আগে বরাদ্দের ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার ওপর ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। আমি তিন দিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঘুষ দিতে না পারায় তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। দুই মাস কাজ বন্ধ থাকায় আমার ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমে পাথর হয়ে গেছে। সাইট থেকে রড, বালু ও পাথর চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে আমি ২০ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছি।’

রুমান আরও জানান, দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ মার্চ প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে ২৪ মার্চ তিনি আবার সাটুরিয়ায় বহাল হন। গত ২৫ মার্চ তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সাটুরিয়ার আরও কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রতিটি কাজ থেকে এই প্রকৌশলীকে ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এ ছাড়া কার্যাদেশ নিতেও প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম ঘুষ নেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় তা বন্ধ করা হয়েছে।’

ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। অনেকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে ভুয়া অডিও রেকর্ড তৈরি করতে পারে।’ এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি প্রতিবেদকের কাছে অনুরোধ জানান।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘যেকোনো প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত