২০১৫ সালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ হওয়া’ এবং পরবর্তী ছয় মাস ‘গোপন বন্দিশালায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার’ সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান মামুন দেশে ফিরে বিচারের দ্বারস্থ হয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
সোমবার
ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে করে
ট্রাইব্যুনালে এসে তিনি চিফ
প্রসিকিউটরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। গুমের
শিকার মশিউর বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও নিজের ওপর হওয়া সেই
‘ভয়াবহ পাশবিকতার’ বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন
হয়েছেন।
গুম
ও নির্যাতনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ
ট্রাইব্যুনাল
প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সেই দিনগুলোর বর্ণনা
দেন মশিউর রহমান মামুন। তিনি জানান, ২০১৫
সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক
যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে
তাকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।
এরপর টানা ছয় মাস
চোখ ও হাত বেঁধে
একটি গোপন স্থানে আটকে
রেখে তার ওপর অমানুষিক
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন
চালানো হয়।
মশিউর
বলেন, ‘আমি আগে প্রতিদিন
পাঁচ মাইল দৌড়াতাম, খেলাধুলা
করতাম। আর এখন আমি
ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না, অন্যের
ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি। গুম
অবস্থায় আমাকে টানা ছয় মাস
অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।’
তিনি
আরও জানান, ছাদ থেকে ঝুলিয়ে
পেটানো এবং বারবার হত্যার
হুমকি দেওয়া হতো তাকে।
রাজনৈতিক
নিপীড়নের শিকার মশিউর
নিজের
রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে মশিউর
রহমান মামুন বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতির
সঙ্গে জড়িত। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি
শুরু করি সেই ১৯৮৫
সাল থেকে। তারপরে আমি যুবদলের রাজনীতি
করেছি। আমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের
সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমরা শেখ হাসিনা
সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে ছিলাম। এই
ফ্যাসিস্ট সরকার আন্দোলনকে দমন করার জন্য
আমাদের মতো সক্রিয় কর্মীদের
ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যেই
গুম করেছিল। হয়তো ক্রসফায়ার দেওয়ার
জন্যও নিয়ে গিয়েছিলো, কেন
দেয়নি জানি না।’
তিনি
অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ
নির্দেশে এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে গুম করা
হয়েছিলো।
দীর্ঘ
এক দশক পর সুবিচারের দাবি
২০১৫
সালের ২৩ আগস্ট ডিবি
হেফাজতে হস্তান্তরের পর মশিউরকে দুই
বছর কারাগারে থাকতে হয়। মুক্তি পাওয়ার
পর শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের
কারণে দীর্ঘ সময় তিনি দেশ
ছাড়তে পারেননি। পরবর্তী সময়ে লন্ডনে গিয়ে
চিকিৎসা শুরু করেন এবং
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির কাছে তার ওপর
চলা নির্যাতনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বর্তমানে
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ না
করলেও তিনি জানান, শেখ
হাসিনাসহ গুমের নেপথ্যে থাকা প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি চান তিনি।
মশিউর
বলেন, ‘যাদের নির্দেশে অন্যান্য গুম ও খুন
হয়েছে, আমাকেও সেই নির্দেশেই গুম
করা হয়েছে।’ দীর্ঘ ১০ বছর পর
দেশে ফিরে ট্রাইব্যুনালের কাছে
সেই নির্মমতার সুবিচার চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
২০১৫ সালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ হওয়া’ এবং পরবর্তী ছয় মাস ‘গোপন বন্দিশালায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার’ সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান মামুন দেশে ফিরে বিচারের দ্বারস্থ হয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
সোমবার
ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে করে
ট্রাইব্যুনালে এসে তিনি চিফ
প্রসিকিউটরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। গুমের
শিকার মশিউর বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও নিজের ওপর হওয়া সেই
‘ভয়াবহ পাশবিকতার’ বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন
হয়েছেন।
গুম
ও নির্যাতনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ
ট্রাইব্যুনাল
প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সেই দিনগুলোর বর্ণনা
দেন মশিউর রহমান মামুন। তিনি জানান, ২০১৫
সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক
যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে
তাকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।
এরপর টানা ছয় মাস
চোখ ও হাত বেঁধে
একটি গোপন স্থানে আটকে
রেখে তার ওপর অমানুষিক
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন
চালানো হয়।
মশিউর
বলেন, ‘আমি আগে প্রতিদিন
পাঁচ মাইল দৌড়াতাম, খেলাধুলা
করতাম। আর এখন আমি
ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না, অন্যের
ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি। গুম
অবস্থায় আমাকে টানা ছয় মাস
অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।’
তিনি
আরও জানান, ছাদ থেকে ঝুলিয়ে
পেটানো এবং বারবার হত্যার
হুমকি দেওয়া হতো তাকে।
রাজনৈতিক
নিপীড়নের শিকার মশিউর
নিজের
রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে মশিউর
রহমান মামুন বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতির
সঙ্গে জড়িত। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি
শুরু করি সেই ১৯৮৫
সাল থেকে। তারপরে আমি যুবদলের রাজনীতি
করেছি। আমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের
সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমরা শেখ হাসিনা
সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে ছিলাম। এই
ফ্যাসিস্ট সরকার আন্দোলনকে দমন করার জন্য
আমাদের মতো সক্রিয় কর্মীদের
ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যেই
গুম করেছিল। হয়তো ক্রসফায়ার দেওয়ার
জন্যও নিয়ে গিয়েছিলো, কেন
দেয়নি জানি না।’
তিনি
অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ
নির্দেশে এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে গুম করা
হয়েছিলো।
দীর্ঘ
এক দশক পর সুবিচারের দাবি
২০১৫
সালের ২৩ আগস্ট ডিবি
হেফাজতে হস্তান্তরের পর মশিউরকে দুই
বছর কারাগারে থাকতে হয়। মুক্তি পাওয়ার
পর শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের
কারণে দীর্ঘ সময় তিনি দেশ
ছাড়তে পারেননি। পরবর্তী সময়ে লন্ডনে গিয়ে
চিকিৎসা শুরু করেন এবং
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির কাছে তার ওপর
চলা নির্যাতনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বর্তমানে
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ না
করলেও তিনি জানান, শেখ
হাসিনাসহ গুমের নেপথ্যে থাকা প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি চান তিনি।
মশিউর
বলেন, ‘যাদের নির্দেশে অন্যান্য গুম ও খুন
হয়েছে, আমাকেও সেই নির্দেশেই গুম
করা হয়েছে।’ দীর্ঘ ১০ বছর পর
দেশে ফিরে ট্রাইব্যুনালের কাছে
সেই নির্মমতার সুবিচার চেয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন