সোমবার অধ্যাদেশের ১০টি বিল সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এ দিন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রুপান্তরে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি নির্ধারণ করে রিপোর্ট দেয় গত ২ এপ্রিল। এই ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০টি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হয়।
উত্থাপিত অপর তিনটি বিলে বিরোধী দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করে। ফলে এসব বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, বিরোধী দলের মতামত ও বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই এসব বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অধিবেশনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের বিলগুলো হচ্ছে: ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন- ২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (আমেনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (এমনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬।
আপত্তি থাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২(রহিতকরণ) আইন-২০২৬ আলোচনার জন্য রাখা হয়। সংসদের বিশেষ কমিটিতে আলোচনা শেষে এই বিলগুলোর পাস করার জন্য আবার উত্থাপন করা হবে।
ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল উত্থাপন
দেশের ক্ষয়প্রাপ্ত চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে সোমবার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন আইনটি অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের কারণে চাষযোগ্য জমির অব্যাহত ক্ষয় রোধে কার্যকর হবে।
বিল অনুযায়ী তামাক চাষ, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে, তিন বা ততোধিক ফসলের জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলের জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের সব জমি (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ছাড়া) একটি জাতীয় জোন ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠ যাচাই ব্যবহার করে জমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। ফসলী জমি, বিশেষ চাষযোগ্য অঞ্চল ও উচ্চফসলী জমি মূলত কৃষি কাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এগুলোতে অ-কৃষিকাজ করা যাবে না। মোট চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অ-কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও জরিমানা এবং প্রয়োজনে ভূমি মূল অবস্থায় পুনরুদ্ধার বাধ্যতামূলক। সব সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে আইন মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসন অবৈধ জমি ব্যবহার ও নির্মাণ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি প্রযোজ্য, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা যাবে।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার অধ্যাদেশের ১০টি বিল সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এ দিন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রুপান্তরে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি নির্ধারণ করে রিপোর্ট দেয় গত ২ এপ্রিল। এই ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০টি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হয়।
উত্থাপিত অপর তিনটি বিলে বিরোধী দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করে। ফলে এসব বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, বিরোধী দলের মতামত ও বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই এসব বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অধিবেশনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের বিলগুলো হচ্ছে: ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন- ২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (আমেনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (এমনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬।
আপত্তি থাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২(রহিতকরণ) আইন-২০২৬ আলোচনার জন্য রাখা হয়। সংসদের বিশেষ কমিটিতে আলোচনা শেষে এই বিলগুলোর পাস করার জন্য আবার উত্থাপন করা হবে।
ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল উত্থাপন
দেশের ক্ষয়প্রাপ্ত চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে সোমবার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন আইনটি অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের কারণে চাষযোগ্য জমির অব্যাহত ক্ষয় রোধে কার্যকর হবে।
বিল অনুযায়ী তামাক চাষ, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে, তিন বা ততোধিক ফসলের জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলের জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের সব জমি (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ছাড়া) একটি জাতীয় জোন ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠ যাচাই ব্যবহার করে জমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। ফসলী জমি, বিশেষ চাষযোগ্য অঞ্চল ও উচ্চফসলী জমি মূলত কৃষি কাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এগুলোতে অ-কৃষিকাজ করা যাবে না। মোট চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অ-কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও জরিমানা এবং প্রয়োজনে ভূমি মূল অবস্থায় পুনরুদ্ধার বাধ্যতামূলক। সব সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে আইন মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসন অবৈধ জমি ব্যবহার ও নির্মাণ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি প্রযোজ্য, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন