সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

উচ্ছেদে ফাঁকা, ঘণ্টা পেরোতেই দখল


আয়েশা জান্নাত
আয়েশা জান্নাত
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

উচ্ছেদে ফাঁকা, ঘণ্টা পেরোতেই দখল

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েও স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের ব্যবধানে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো আবার দখলে চলে যাচ্ছে। কখনও আগের মতো পুরোপুরি, কখনও সীমিত পরিসরে। ফলে ‘অভিযান বনাম পুনর্দখল’ এই চক্র যেন এখন ঢাকার নগর বাস্তবতার এক স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে চলতি এপ্রিলের শুরুতে চার দিনব্যাপী বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল যানজট কমানো, পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকাতেই পুরনো চিত্র ফিরে এসেছে।

গত রোববার সকালে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এলাকায় অভিযান চালানো হলে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং ফুটপাত দখলের দায়ে জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় দৃশ্যত পরিবর্তন দেখা গেলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পরিবর্তন ম্লান হয়ে যায়। পুলিশ সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে আবার দোকান বসতে শুরু করে। ভেঙে দেয়া দোকান দ্রুত মেরামত করে বা আগে সরিয়ে রাখা মালামাল এনে আবার ব্যবসা চালু করা হয়।

শুধু নিউমার্কেট এলাকা নয়, রাজধানীর মগবাজার, বাংলামটর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, গুলিস্তান, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, গ্রিন রোড, মালিবাগ, খিলগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব এলাকাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর ছোট ছোট চা-সিগারেটের দোকান, কোথাও ফল বা সবজির ভ্যান, আবার কোথাও বড় আকারের অস্থায়ী দোকান সবমিলিয়ে পথচারীদের চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযানের পরের বাস্তবতা: গতকাল সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক হকার এখন আর আগের মতো প্রকাশ্যে বড় পরিসরে দোকান বসাচ্ছেন না। বরং তারা পরিস্থিতি বুঝে ছোট আকারে ব্যবসা করছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেয়া যায়। অনেকেই চৌকি, টেবিল বা পণ্যসামগ্রী কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে রাখেন। পুলিশ এলেই সরিয়ে ফেলেন, চলে গেলে আবার নিয়ে আসেন।

সায়েন্সল্যাব এলাকায় এক বিক্রেতা বলেন, ‘পুলিশ আসলে আমরা উঠে যাই। তারা চলে গেলে আবার বসি। এভাবেই চলতে হয়।’

আরেকজন জানান, ‘এখন আর আগের মতো বড় করে বসি না। ছোট করে বসি, যাতে ঝামেলা কম হয়।’

এই ‘চলমান-সরানো-ফিরে আসা’ পদ্ধতিই এখন অনেক হকারের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পথচারীদের অভিজ্ঞতা: অভিযানের প্রথম দিকের কয়েক দিনে অনেক পথচারী স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর তারা ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে হাঁটার সুযোগ পান। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, ‘দুই-একদিন মনে হয়েছিল শহরটা বদলে গেছে। এখন আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে।’

ইডেন কলেজের আরেকজন শিক্ষার্থী রুবি বলেন, ‘ফুটপাত ফাঁকা থাকলে হাঁটা কত সহজ এই কয়েকদিন বুঝেছি। কিন্তু আবার আগের অবস্থায় ফিরছে।’

স্থায়ী বাসিন্দা রানী দাস বলেন, ‘আগে এত ভিড় থাকতো যে হাঁটাই যেত না। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হতো। এতে অনেক সময় বিরক্তিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখন কিছুটা ভালো লাগছিল, কিন্তু আবার ভয় হচ্ছে আগের মতো হয়ে যাবে।’

আরেক নারী কুলসুম বেগম বলেন, ‘ফুটপাত দখল থাকলে আমাদের নিরাপত্তাও কমে যায়। ভিড়ের মধ্যে অনেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এখন খালি থাকলে অন্তত একটু স্বস্তি।’ এক তরুণ পথচারীর ভাষ্য, ‘ফুটপাত তো মানুষের হাঁটার জন্য। এটা দোকান দিয়ে ভরে রাখলে আমরা কোথায় যাব?’

চালকদের স্বস্তি: ‘লেন খালি থাকলে শহর বদলে যায়’ উচ্ছেদের ফলে সাময়িকভাবে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছিল বলে জানান চালকরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আগে রাস্তার অর্ধেক জায়গা হকাররা দখল করে রাখতো। এখন কিছুটা জায়গা পাওয়া গেলে গাড়ি চালানো সহজ হয়।’

সিএনজিচালক কামাল জানান, ‘জ্যাম কম থাকলে আমরা বেশি ট্রিপ দিতে পারি। এতে আয়ও বাড়ে।’ প্রাইভেটকারচালক বাবলু বলেন, ‘যেখানে আগে ২০ মিনিট লাগতো, এখন ১০-১২ মিনিটে পার হওয়া যায় যদি রাস্তা দখলমুক্ত থাকে। শুধু অভিযান করলে হবে না, এটা ধরে রাখতে হবে। না হলে আবার একই অবস্থা।’

ব্যবসায়ীদের বাস্তবতা: ‘পেটের দায়ে বারবার ফিরি’ হকারদের মতে, তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই ফুটপাতে ফিরে আসছেন। আরেক বয়স্ক হকার চাচা বলেন, ‘আমরা ৬০-৭০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে বসেছে। কিন্তু আজও কোনো স্থায়ী জায়গা পাইনি। একটা দোকান দিয়েই পুরো পরিবার চলে। এটা উঠিয়ে দিলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’ চা বিক্রেতা কালাম বলেন, ‘দিনে যা বিক্রি করি, তা দিয়েই সংসার চলে। একদিন বসতে না পারলে সমস্যা হয়। আমাদের যদি একটা নির্দিষ্ট জায়গা দেয়া হয়, আমরা আর রাস্তা দখল করবো না। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাব? এটা তো আমাদের জীবনের প্রশ্ন।’

ঢাকা মেডিকেল এলাকা: ‘চাহিদা আছে, তাই ব্যবসা আছে’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের চিত্র আরও স্পষ্ট। এখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কেন্দ্র করে শত শত ছোট দোকান গড়ে উঠেছে।

বিক্রেতা আলী বলেন, ‘এখানে সারাদিন মানুষ থাকে, তাই বিক্রি হয়। অন্য কোথাও গেলে এই আয় হবে না। আমরা জানি ফুটপাত দখল করা ঠিক না, কিন্তু আমাদের আর উপায় কী?’

পুলিশের অবস্থান: ‘ফলোআপ ছাড়া উপায় নেই’ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও চালাবেন। তবে একার পক্ষে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সিটি করপোরেশন, অন্যান্য সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং ও ফলোআপ অভিযান চালানো ছাড়া এই পরিস্থিতি বদলানো কঠিন।

ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নতুন নয়, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধানও এখনো আসেনি। একদিকে নাগরিকদের স্বস্তি, অন্যদিকে হাজারো মানুষের জীবিকার প্রশ্ন এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যতদিন না এই সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করা হচ্ছে, ততদিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে, আবার দখলও ফিরে আসবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


উচ্ছেদে ফাঁকা, ঘণ্টা পেরোতেই দখল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image



রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েও স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের ব্যবধানে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো আবার দখলে চলে যাচ্ছে। কখনও আগের মতো পুরোপুরি, কখনও সীমিত পরিসরে। ফলে ‘অভিযান বনাম পুনর্দখল’ এই চক্র যেন এখন ঢাকার নগর বাস্তবতার এক স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে চলতি এপ্রিলের শুরুতে চার দিনব্যাপী বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল যানজট কমানো, পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকাতেই পুরনো চিত্র ফিরে এসেছে।

গত রোববার সকালে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এলাকায় অভিযান চালানো হলে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং ফুটপাত দখলের দায়ে জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় দৃশ্যত পরিবর্তন দেখা গেলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পরিবর্তন ম্লান হয়ে যায়। পুলিশ সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে আবার দোকান বসতে শুরু করে। ভেঙে দেয়া দোকান দ্রুত মেরামত করে বা আগে সরিয়ে রাখা মালামাল এনে আবার ব্যবসা চালু করা হয়।

শুধু নিউমার্কেট এলাকা নয়, রাজধানীর মগবাজার, বাংলামটর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, গুলিস্তান, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, গ্রিন রোড, মালিবাগ, খিলগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব এলাকাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর ছোট ছোট চা-সিগারেটের দোকান, কোথাও ফল বা সবজির ভ্যান, আবার কোথাও বড় আকারের অস্থায়ী দোকান সবমিলিয়ে পথচারীদের চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযানের পরের বাস্তবতা: গতকাল সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক হকার এখন আর আগের মতো প্রকাশ্যে বড় পরিসরে দোকান বসাচ্ছেন না। বরং তারা পরিস্থিতি বুঝে ছোট আকারে ব্যবসা করছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেয়া যায়। অনেকেই চৌকি, টেবিল বা পণ্যসামগ্রী কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে রাখেন। পুলিশ এলেই সরিয়ে ফেলেন, চলে গেলে আবার নিয়ে আসেন।

সায়েন্সল্যাব এলাকায় এক বিক্রেতা বলেন, ‘পুলিশ আসলে আমরা উঠে যাই। তারা চলে গেলে আবার বসি। এভাবেই চলতে হয়।’

আরেকজন জানান, ‘এখন আর আগের মতো বড় করে বসি না। ছোট করে বসি, যাতে ঝামেলা কম হয়।’

এই ‘চলমান-সরানো-ফিরে আসা’ পদ্ধতিই এখন অনেক হকারের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পথচারীদের অভিজ্ঞতা: অভিযানের প্রথম দিকের কয়েক দিনে অনেক পথচারী স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর তারা ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে হাঁটার সুযোগ পান। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, ‘দুই-একদিন মনে হয়েছিল শহরটা বদলে গেছে। এখন আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে।’

ইডেন কলেজের আরেকজন শিক্ষার্থী রুবি বলেন, ‘ফুটপাত ফাঁকা থাকলে হাঁটা কত সহজ এই কয়েকদিন বুঝেছি। কিন্তু আবার আগের অবস্থায় ফিরছে।’

স্থায়ী বাসিন্দা রানী দাস বলেন, ‘আগে এত ভিড় থাকতো যে হাঁটাই যেত না। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হতো। এতে অনেক সময় বিরক্তিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখন কিছুটা ভালো লাগছিল, কিন্তু আবার ভয় হচ্ছে আগের মতো হয়ে যাবে।’

আরেক নারী কুলসুম বেগম বলেন, ‘ফুটপাত দখল থাকলে আমাদের নিরাপত্তাও কমে যায়। ভিড়ের মধ্যে অনেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এখন খালি থাকলে অন্তত একটু স্বস্তি।’ এক তরুণ পথচারীর ভাষ্য, ‘ফুটপাত তো মানুষের হাঁটার জন্য। এটা দোকান দিয়ে ভরে রাখলে আমরা কোথায় যাব?’

চালকদের স্বস্তি: ‘লেন খালি থাকলে শহর বদলে যায়’ উচ্ছেদের ফলে সাময়িকভাবে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছিল বলে জানান চালকরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আগে রাস্তার অর্ধেক জায়গা হকাররা দখল করে রাখতো। এখন কিছুটা জায়গা পাওয়া গেলে গাড়ি চালানো সহজ হয়।’

সিএনজিচালক কামাল জানান, ‘জ্যাম কম থাকলে আমরা বেশি ট্রিপ দিতে পারি। এতে আয়ও বাড়ে।’ প্রাইভেটকারচালক বাবলু বলেন, ‘যেখানে আগে ২০ মিনিট লাগতো, এখন ১০-১২ মিনিটে পার হওয়া যায় যদি রাস্তা দখলমুক্ত থাকে। শুধু অভিযান করলে হবে না, এটা ধরে রাখতে হবে। না হলে আবার একই অবস্থা।’

ব্যবসায়ীদের বাস্তবতা: ‘পেটের দায়ে বারবার ফিরি’ হকারদের মতে, তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই ফুটপাতে ফিরে আসছেন। আরেক বয়স্ক হকার চাচা বলেন, ‘আমরা ৬০-৭০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে বসেছে। কিন্তু আজও কোনো স্থায়ী জায়গা পাইনি। একটা দোকান দিয়েই পুরো পরিবার চলে। এটা উঠিয়ে দিলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’ চা বিক্রেতা কালাম বলেন, ‘দিনে যা বিক্রি করি, তা দিয়েই সংসার চলে। একদিন বসতে না পারলে সমস্যা হয়। আমাদের যদি একটা নির্দিষ্ট জায়গা দেয়া হয়, আমরা আর রাস্তা দখল করবো না। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাব? এটা তো আমাদের জীবনের প্রশ্ন।’

ঢাকা মেডিকেল এলাকা: ‘চাহিদা আছে, তাই ব্যবসা আছে’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের চিত্র আরও স্পষ্ট। এখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কেন্দ্র করে শত শত ছোট দোকান গড়ে উঠেছে।

বিক্রেতা আলী বলেন, ‘এখানে সারাদিন মানুষ থাকে, তাই বিক্রি হয়। অন্য কোথাও গেলে এই আয় হবে না। আমরা জানি ফুটপাত দখল করা ঠিক না, কিন্তু আমাদের আর উপায় কী?’

পুলিশের অবস্থান: ‘ফলোআপ ছাড়া উপায় নেই’ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও চালাবেন। তবে একার পক্ষে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সিটি করপোরেশন, অন্যান্য সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং ও ফলোআপ অভিযান চালানো ছাড়া এই পরিস্থিতি বদলানো কঠিন।

ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নতুন নয়, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধানও এখনো আসেনি। একদিকে নাগরিকদের স্বস্তি, অন্যদিকে হাজারো মানুষের জীবিকার প্রশ্ন এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যতদিন না এই সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করা হচ্ছে, ততদিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে, আবার দখলও ফিরে আসবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত