বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার
মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক এই স্পিকারকে নিয়ে আসার
পর এবং কারাগারে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত একদল আইনজীবী ও সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
দেন।
আদালতে দীর্ঘ
শুনানি ও আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালত কক্ষে শুনানির
শুরুতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আসামির দুই
দিনের রিমান্ড আবেদন পেশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল
রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের
কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক বলেন, "আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সরাসরি
যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন।" তিনি আসামির রিমান্ডের পক্ষে জোর প্রশ্ন তুলেন।
পাল্টা যুক্তিতে
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, "মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কিন্তু
কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে মনে রাখতে হবে, আসামি
একজন সাবেক নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে নিজে গিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে
এর আগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই।"
শুনানির একপর্যায়ে
আদালত কক্ষে আইনজীবীদের হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলতে থাকে। বিচারক উভয়পক্ষের
বক্তব্য শুনে জামিন ও রিমান্ড; দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ
দেন।
নেপথ্যে লালবাগের
সেই সহিংসতার মামলা
মামলার এজাহার সূত্রে
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর
সরকারি কলোনি এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলো। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে
পুলিশ ও তৎকালীন সরকারি দলের ক্যাডাররা গুলিবর্ষণ করে। এতে আশরাফুল ফাহিম নামে এক যুবক
গুরুতর আহত হন, যার বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের
১৭ জুলাই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং
শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
আটক ও নিরাপত্তা
ব্যবস্থা
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে
৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। দুপুর
পৌনে ২টার দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত চত্বরে আনা হয়। সাবেক স্পিকারের উপস্থিতিকে
কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিলো। বিপুল সংখ্যক পুলিশ
সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাধারণের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। আদালত থেকে কারাগারে
নেওয়ার সময় তাকে ঘিরে সমর্থকদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মামলাটির পরবর্তী
তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন ছিলো বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার
মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক এই স্পিকারকে নিয়ে আসার
পর এবং কারাগারে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত একদল আইনজীবী ও সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
দেন।
আদালতে দীর্ঘ
শুনানি ও আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালত কক্ষে শুনানির
শুরুতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আসামির দুই
দিনের রিমান্ড আবেদন পেশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল
রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের
কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক বলেন, "আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সরাসরি
যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন।" তিনি আসামির রিমান্ডের পক্ষে জোর প্রশ্ন তুলেন।
পাল্টা যুক্তিতে
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, "মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কিন্তু
কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে মনে রাখতে হবে, আসামি
একজন সাবেক নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে নিজে গিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে
এর আগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই।"
শুনানির একপর্যায়ে
আদালত কক্ষে আইনজীবীদের হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলতে থাকে। বিচারক উভয়পক্ষের
বক্তব্য শুনে জামিন ও রিমান্ড; দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ
দেন।
নেপথ্যে লালবাগের
সেই সহিংসতার মামলা
মামলার এজাহার সূত্রে
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর
সরকারি কলোনি এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলো। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে
পুলিশ ও তৎকালীন সরকারি দলের ক্যাডাররা গুলিবর্ষণ করে। এতে আশরাফুল ফাহিম নামে এক যুবক
গুরুতর আহত হন, যার বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের
১৭ জুলাই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং
শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
আটক ও নিরাপত্তা
ব্যবস্থা
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে
৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। দুপুর
পৌনে ২টার দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত চত্বরে আনা হয়। সাবেক স্পিকারের উপস্থিতিকে
কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিলো। বিপুল সংখ্যক পুলিশ
সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাধারণের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। আদালত থেকে কারাগারে
নেওয়ার সময় তাকে ঘিরে সমর্থকদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মামলাটির পরবর্তী
তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন ছিলো বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন