নওগাঁর সাপাহারে একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় তিন কোটি টাকা আমানত আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সঞ্চিত টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী শতাধিক গ্রাহক।
দুপুর ১২টার দিকে সাপাহার উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টে কোচকুড়লিয়া এলাকার ভুক্তভোগী ও সমিতির সদস্যদের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের কোচকুড়লিয়া এলাকায় ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ (নিবন্ধন নং-২৩৬৬) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সংস্থার পরিচালক মো. আবদুল হালিমসহ অন্য কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। কিন্তু গত বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে হঠাৎ সমিতির কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে টাকা নিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সমিতির পরিচালক মো. আবদুল হালিম, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম, মো. সবুজ, মোসা. সুবর্ণা, মো. সোহাগ, মো. হাই বাবু এবং মো. মাসুদ রানা। অভিযুক্তরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা বলেন, কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে অসংখ্য পরিবার এখন আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবং তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় টাকা উদ্ধারের কোনো পথ না পেয়ে অবশেষে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
কর্মসূচি শেষে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সাপাহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী ও নেতা মোকলেছুর রহমান এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।
সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ স্মারকলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, আইনি বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন