সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বিশ্ব উত্তেজনার মাঝেও শক্ত অবস্থানে টাকার মান


প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

বিশ্ব উত্তেজনার মাঝেও শক্ত অবস্থানে টাকার মান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার দাবদাহ যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বইছে স্বস্তির হাওয়া।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রা বাজার কেবল স্থিতিশীলই নয়, বরং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো ধরনের অবমূল্যায়নের তাৎক্ষণিক চাপ নেই এবং বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বজায় রয়েছে।
​পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত এক মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোতে যেখানে ২.৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছিল, গত ৬ এপ্রিল তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাজারে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি তারল্য যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংকগুলোর এই নগদ উদ্বৃত্ত এবং পর্যাপ্ত তারল্য দেশের দৈনন্দিন আমদানি ব্যয় মেটানো ও আন্তর্জাতিক লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে।
​দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মজবুত অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় সুরক্ষা বলয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, সাধারণত ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলে তারা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে থাকে। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর এনওপি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও গত এক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে কোনো ডলার কেনেনি। যদি স্বাভাবিক তারল্য বজায় রেখে এই ডলার কেনা হতো, তবে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ আজ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত।
​এই স্বস্তির নেপথ্যে বড় কারিগর হিসেবে কাজ করছে প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। গত মার্চ মাসে দেশে ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো একক মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই জোয়ার চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে; মাসের প্রথম ছয় দিনেই দেশে এসেছে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাকাও ঘুরছে স্বাভাবিক নিয়মে। গত মাসে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারের আকু বিল এবং সম্প্রতি ১৮০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে স্থির থাকা অর্থনীতির সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
​সামগ্রিক এই স্থিতিশীল চিত্র তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে যে, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বর্তমানে চমৎকার ভারসাম্য বিদ্যমান এবং বাজারে পূর্ণ আস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তবে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে ডলারের মান পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় যেসব নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোকে মোটেও সমীচীন নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার অবকাশও নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


বিশ্ব উত্তেজনার মাঝেও শক্ত অবস্থানে টাকার মান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার দাবদাহ যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বইছে স্বস্তির হাওয়া।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রা বাজার কেবল স্থিতিশীলই নয়, বরং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো ধরনের অবমূল্যায়নের তাৎক্ষণিক চাপ নেই এবং বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বজায় রয়েছে।
​পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত এক মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোতে যেখানে ২.৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছিল, গত ৬ এপ্রিল তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাজারে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি তারল্য যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংকগুলোর এই নগদ উদ্বৃত্ত এবং পর্যাপ্ত তারল্য দেশের দৈনন্দিন আমদানি ব্যয় মেটানো ও আন্তর্জাতিক লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে।
​দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মজবুত অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় সুরক্ষা বলয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, সাধারণত ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলে তারা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে থাকে। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর এনওপি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও গত এক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে কোনো ডলার কেনেনি। যদি স্বাভাবিক তারল্য বজায় রেখে এই ডলার কেনা হতো, তবে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ আজ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত।
​এই স্বস্তির নেপথ্যে বড় কারিগর হিসেবে কাজ করছে প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। গত মার্চ মাসে দেশে ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো একক মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই জোয়ার চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে; মাসের প্রথম ছয় দিনেই দেশে এসেছে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাকাও ঘুরছে স্বাভাবিক নিয়মে। গত মাসে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারের আকু বিল এবং সম্প্রতি ১৮০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে স্থির থাকা অর্থনীতির সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
​সামগ্রিক এই স্থিতিশীল চিত্র তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে যে, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বর্তমানে চমৎকার ভারসাম্য বিদ্যমান এবং বাজারে পূর্ণ আস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তবে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে ডলারের মান পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় যেসব নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোকে মোটেও সমীচীন নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার অবকাশও নেই।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত