সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ধস

মার্চে উৎপাদন খাতে দেড় বছরের প্রবৃদ্ধিতে ছেদ


প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

মার্চে উৎপাদন খাতে দেড় বছরের প্রবৃদ্ধিতে ছেদ

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলেও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে উৎপাদন নির্মাণ খাত। দীর্ঘ ১৮ মাস টানা প্রবৃদ্ধির পর মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প। একই সাথে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নির্মাণ খাতেও নেতিবাচক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি হ্রাসের ফলে দেশের শিল্পখাতের এই স্থিতিশীলতা নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ প্রতিবেদনে পিএমআই সূচকের এই নিম্নমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে পিএমআই সূচক কমে ৫৩ দশমিক দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। নতুন অর্ডারের অভাব, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং সমাপ্ত পণ্যের চাহিদা হ্রাসের কারণে মূলত উৎপাদন খাত চাপের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি নির্মাণ খাতে নতুন ব্যবসার মন্দা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উৎপাদন নির্মাণ খাতের এই নাজুক অবস্থার পেছনে উচ্চ ব্যয় বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে শিল্পখাতে মন্দা থাকলেও আশার আলো দেখাচ্ছে সেবা খাত। টানা ১৮ মাস ধরে এই খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রমজান ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সেবা খুচরা ব্যবসায় উৎসবকালীন চাহিদার কারণে কিছুটা গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে কাঁচামাল, পরিবহন ইউটিলিটি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুনাফা এখন চরম চাপের মুখে।

দেশের এই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সিইও . এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, মার্চ মাসের পিএমআই সূচকগুলো ইঙ্গিত করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হচ্ছে, যা প্রধানত উৎপাদন খাতের মন্দার কারণে হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটজনিত বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এই খাতে প্রভাব ফেলেছে। চলমান সংঘাতের ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়ে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আরও দুর্বল হয়েছে।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


মার্চে উৎপাদন খাতে দেড় বছরের প্রবৃদ্ধিতে ছেদ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলেও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে উৎপাদন নির্মাণ খাত। দীর্ঘ ১৮ মাস টানা প্রবৃদ্ধির পর মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প। একই সাথে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নির্মাণ খাতেও নেতিবাচক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি হ্রাসের ফলে দেশের শিল্পখাতের এই স্থিতিশীলতা নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ প্রতিবেদনে পিএমআই সূচকের এই নিম্নমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে পিএমআই সূচক কমে ৫৩ দশমিক দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। নতুন অর্ডারের অভাব, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং সমাপ্ত পণ্যের চাহিদা হ্রাসের কারণে মূলত উৎপাদন খাত চাপের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি নির্মাণ খাতে নতুন ব্যবসার মন্দা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উৎপাদন নির্মাণ খাতের এই নাজুক অবস্থার পেছনে উচ্চ ব্যয় বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে শিল্পখাতে মন্দা থাকলেও আশার আলো দেখাচ্ছে সেবা খাত। টানা ১৮ মাস ধরে এই খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রমজান ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সেবা খুচরা ব্যবসায় উৎসবকালীন চাহিদার কারণে কিছুটা গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে কাঁচামাল, পরিবহন ইউটিলিটি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুনাফা এখন চরম চাপের মুখে।

দেশের এই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সিইও . এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, মার্চ মাসের পিএমআই সূচকগুলো ইঙ্গিত করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হচ্ছে, যা প্রধানত উৎপাদন খাতের মন্দার কারণে হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটজনিত বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এই খাতে প্রভাব ফেলেছে। চলমান সংঘাতের ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়ে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আরও দুর্বল হয়েছে।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত