সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ট্রাইব্যুনালে স্ত্রীর দাবি

বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় নজরুলকে হত্যা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় নজরুলকে হত্যা
বিডিআর বিদ্রোহ নিহতদের কফিন।

২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. নজরুল ইসলামকে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এমন ভয়াবহ দাবি করেছেন নিখোঁজ নজরুলের স্ত্রী মুন্নী আক্তার।

বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মুন্নী আক্তার ট্রাইব্যুনালকে জানান, পিলখানা ট্রাজেডির সময় তার স্বামী সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং নিজ চোখে অনেক কিছু দেখেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

জবানবন্দিতে মুন্নী আক্তার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পিলখানার বিডিআর হাসপাতালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন তার স্বামী নজরুল ইসলাম। বিদ্রোহের দিন প্রাণভয়ে তিনি পিলখানার দেয়াল টপকে পালিয়ে কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে মুন্নী বলেন, ঘটনার পর স্বামীর সঙ্গে ফোনে আমার যোগাযোগ হয়। তখন আমরা পিলখানার ১ নম্বর গেটের সামনে একটি বাসায় থাকতাম। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পোস্তগোলায় আমি আমার কাকির বাসায় চলে যাই। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে স্বামীর কাছে যাই। কিছুদিন থাকার পর চলে যাই ঝালকাঠি বাবার বাড়িতে।

মুন্নী আক্তারের দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ মার্চ তার স্বামীকে গুম করা হয় এবং এর পেছনে তৎকালীন র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসানের সরাসরি হাত ছিলো।

ট্রাইব্যুনাল থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় কেন তার স্বামীকে টার্গেট করা হয়েছিলো, তখন মুন্নী আক্তার অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১০ সালে নজরুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ মামলাও করা হয়েছিলো, কিন্তু এতদিনেও কোনো বিচার মেলেনি।

মুন্নী আক্তারের এই জবানবন্দি শেষে আসামীপক্ষের জেরা শুরু হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সত্য আড়াল করতেই এই পরিকল্পিত গুম ও খুন করা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী নারী।

ট্রাইব্যুনালে মুন্নী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে গুমের পর হত্যা করেছে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ তিনি গুম হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অপহরণের মামলাও করে তার পরিবার।’

কী কারণে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।’

জবানবন্দি শেষে জেরা শুরু হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় নজরুলকে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. নজরুল ইসলামকে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এমন ভয়াবহ দাবি করেছেন নিখোঁজ নজরুলের স্ত্রী মুন্নী আক্তার।

বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মুন্নী আক্তার ট্রাইব্যুনালকে জানান, পিলখানা ট্রাজেডির সময় তার স্বামী সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং নিজ চোখে অনেক কিছু দেখেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

জবানবন্দিতে মুন্নী আক্তার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পিলখানার বিডিআর হাসপাতালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন তার স্বামী নজরুল ইসলাম। বিদ্রোহের দিন প্রাণভয়ে তিনি পিলখানার দেয়াল টপকে পালিয়ে কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে মুন্নী বলেন, ঘটনার পর স্বামীর সঙ্গে ফোনে আমার যোগাযোগ হয়। তখন আমরা পিলখানার ১ নম্বর গেটের সামনে একটি বাসায় থাকতাম। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পোস্তগোলায় আমি আমার কাকির বাসায় চলে যাই। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে স্বামীর কাছে যাই। কিছুদিন থাকার পর চলে যাই ঝালকাঠি বাবার বাড়িতে।

মুন্নী আক্তারের দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ মার্চ তার স্বামীকে গুম করা হয় এবং এর পেছনে তৎকালীন র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসানের সরাসরি হাত ছিলো।

ট্রাইব্যুনাল থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় কেন তার স্বামীকে টার্গেট করা হয়েছিলো, তখন মুন্নী আক্তার অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১০ সালে নজরুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ মামলাও করা হয়েছিলো, কিন্তু এতদিনেও কোনো বিচার মেলেনি।

মুন্নী আক্তারের এই জবানবন্দি শেষে আসামীপক্ষের জেরা শুরু হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সত্য আড়াল করতেই এই পরিকল্পিত গুম ও খুন করা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী নারী।

ট্রাইব্যুনালে মুন্নী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে গুমের পর হত্যা করেছে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ তিনি গুম হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অপহরণের মামলাও করে তার পরিবার।’

কী কারণে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।’

জবানবন্দি শেষে জেরা শুরু হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত