সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ


রথীন্দ্র নাথ বাপ্পি
রথীন্দ্র নাথ বাপ্পি নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সেই সাহসী মুখ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত লগ্নে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের নির্মমভাবে গুলি করার দৃশ্যটি ছিল পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক ক্ষণ। এরপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পরদিন থেকে সারাদেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর বিক্ষোভে দমন-পীড়ন আর সহিংসতার মধ্যে ১৯ জুলাই কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার।

গণ-আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের টানা শাসনের অবসান ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের উদ্যোগ নেয়। এরপর আবু সাঈদের মামলাও ট্রাইব্যুনালে আসে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এরপর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পলাতক থাকা ২৪ আসামির জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রসিকিউশন এবং ২৭ জানুয়ারি আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

​মামলার রায় প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে অকাট্য প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ, যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র গোটা বিশ্ব দেখেছে। এমনকি জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এ মামলার তদন্তে আমরা সন্দেহাতীতভাবে অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা একটি কাঙ্ক্ষিত রায় পাব বলে আশা করি, কারণ প্রসিকিউশন মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।”

অধিক সংখ্যক আসামির কারণে মামলা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আসামি বেশি হলে মামলা দুর্বল বা কম হলে শক্ত হবে, বিষয়টি এমন নয়। যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।”

​অন্যদিকে, রায়ের প্রাক্কালে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবু সাঈদের বন্ধু মাহিদ হাসান শাকিল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংবাদ‌কে বলেন, “আমরা চাই প্রত্যেক অপরাধীর তার অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি হোক।” 

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানের নাম আসামির তালিকায় না রেখে কেবল সাক্ষী হিসেবে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিল জানান, চিফ প্রসিকিউটর তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনা হবে।

তবে মামলার অন্যতম সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. আরমান হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদ‌কে বলেন, “যেসব পুলিশ সরাসরি জড়িত তাদের সর্বোচ্চ বিচার হোক, তবে লঘু অপরাধের জন্য যাতে কেউ গুরু দণ্ড না পায় এবং সবার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।”

আরমান অভিযোগ তুলে বলেন, “প্রসিকিউশন আমাদের মডিফাইড বা সাজানো সাক্ষ্য দিতে বলেছিলো, কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। আমাদের অসম্মতির কারণেই অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি।”

গত ১ এপ্রিল জুলাই আবু সাঈদ হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা। ঐ দিন তারা প্রসিকিউটর মইনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

ট্রাইব্যুনালে আসা প্রতিনিধি দলে ছিলেন আবু সাঈদের দুই বড় ভাই আবু হোসেন এবং রমজান আলী, যিনি এই মামলার বাদী। এছাড়া তাদের সঙ্গে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুরের সমন্বয়ক রহমত আলী, আবু সাঈদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা মাহিদ হাসান শাকিল এবং মামলার অন্যতম সাক্ষী, সহযোদ্ধা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন।

​প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এদিন ঠিক করে। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।

গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচার শুরু হয়েছিলো। মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনই এখনো পলাতক এবং বাকি ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ আপেল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সেই সাহসী মুখ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত লগ্নে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের নির্মমভাবে গুলি করার দৃশ্যটি ছিল পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক ক্ষণ। এরপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পরদিন থেকে সারাদেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর বিক্ষোভে দমন-পীড়ন আর সহিংসতার মধ্যে ১৯ জুলাই কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার।

গণ-আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের টানা শাসনের অবসান ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের উদ্যোগ নেয়। এরপর আবু সাঈদের মামলাও ট্রাইব্যুনালে আসে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এরপর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পলাতক থাকা ২৪ আসামির জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রসিকিউশন এবং ২৭ জানুয়ারি আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

​মামলার রায় প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে অকাট্য প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ, যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র গোটা বিশ্ব দেখেছে। এমনকি জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এ মামলার তদন্তে আমরা সন্দেহাতীতভাবে অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা একটি কাঙ্ক্ষিত রায় পাব বলে আশা করি, কারণ প্রসিকিউশন মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।”

অধিক সংখ্যক আসামির কারণে মামলা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আসামি বেশি হলে মামলা দুর্বল বা কম হলে শক্ত হবে, বিষয়টি এমন নয়। যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।”

​অন্যদিকে, রায়ের প্রাক্কালে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবু সাঈদের বন্ধু মাহিদ হাসান শাকিল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংবাদ‌কে বলেন, “আমরা চাই প্রত্যেক অপরাধীর তার অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি হোক।” 

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানের নাম আসামির তালিকায় না রেখে কেবল সাক্ষী হিসেবে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিল জানান, চিফ প্রসিকিউটর তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনা হবে।

তবে মামলার অন্যতম সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. আরমান হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদ‌কে বলেন, “যেসব পুলিশ সরাসরি জড়িত তাদের সর্বোচ্চ বিচার হোক, তবে লঘু অপরাধের জন্য যাতে কেউ গুরু দণ্ড না পায় এবং সবার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।”

আরমান অভিযোগ তুলে বলেন, “প্রসিকিউশন আমাদের মডিফাইড বা সাজানো সাক্ষ্য দিতে বলেছিলো, কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। আমাদের অসম্মতির কারণেই অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি।”

গত ১ এপ্রিল জুলাই আবু সাঈদ হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা। ঐ দিন তারা প্রসিকিউটর মইনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

ট্রাইব্যুনালে আসা প্রতিনিধি দলে ছিলেন আবু সাঈদের দুই বড় ভাই আবু হোসেন এবং রমজান আলী, যিনি এই মামলার বাদী। এছাড়া তাদের সঙ্গে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুরের সমন্বয়ক রহমত আলী, আবু সাঈদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা মাহিদ হাসান শাকিল এবং মামলার অন্যতম সাক্ষী, সহযোদ্ধা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন।

​প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এদিন ঠিক করে। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।

গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচার শুরু হয়েছিলো। মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনই এখনো পলাতক এবং বাকি ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ আপেল।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত