সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক নতুন যন্ত্র


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক নতুন যন্ত্র

সারাদেশে শিশুদের হামজনিত নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টের জটিলতা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগে আইসিডিডিআর,বি কম খরচে বাবল সিপ্যাপ নামে একটি শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করছে। এই যন্ত্রটি ব্যবহার করলে হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমবে। এমনকি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

মহাখালী আইসিডিডিআর,বির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবল কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (বিসিপ্যাপ)-এর ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহ্নত হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন শিশু এই সেবা গ্রহণ করেছে।

এই স্বল্পমূল্যের জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি সময়মতো প্রয়োগের ফলে সেসব শিশুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে। যারা আরও স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টির ঝুঁকিতে ছিল, যারা চিকিৎসায় আরও জটিল ও কম সহজলভ্য।

আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী ও তার সহকর্মীদের উদ্ভাবিত বাবল সিপ্যাপ একটি সহজলভ্য শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়ায় ও হাইপোক্সোমিয়ার (রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যেখানে আইসিডিডিআর,বি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এ পদ্ধতি দ্রুত ছড়িয়ে দিতে আইসিডিডিআর,বি ধারাবাহিকভাবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। যার অংশ হিসেবে গতকাল তৃতীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকায় আইসিডিডিআর,বিতে আয়োজিত প্রশিক্ষণে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালের ৩০ জন সেবাদানকারী অংশগ্রহণ করেছে। গতকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩০টির বেশি হাসপাতালের ৭৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা শুরু করতে সক্ষম করে তুলবে।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. থ্যাডিয়াস ডেভিস মে এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এ বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতিটি কেবল আইসিডিডিআর,বির ঢাকা হাসপাতালেই নয় বরং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও শিশুদের প্রাণ রক্ষা করছে, যা সীমিত সম্পদের পরিবেশে এর কার্যকারিতা প্রমাণ দেয়। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাবল সিপ্যাপের সময়োপযোগী ব্যবহার হামজনিত নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে শিশুদের মৃত্যু ও জটিলতা কমাতে ইতোমধ্যেই সাহায্য করছে। তিনি সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গরুত্বারোপ করেন। 

শিশু বিশেষজ্ঞ ও আইসিডিডিআর,বি ঢাকা হাসপাতালের চিফ অনারারি কনসালটেণ্ট অধ্যাপক ড. চৌধুরী আলী কাউসার এবং ড. চিশতী বাবল সিপ্যাপের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী তুলে ধরেন।

তারা শ্বাসকষ্ট ও হাইপোক্রোমিয়ার আক্রান্ত শিশুদের জন্য দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা, সঠিক রোগী নির্বাচন, অক্সিজেনের মাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার বিষয়ে গুরুত্বরোপ করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসার সর্বোচ্চ ফলাফল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের এ প্রটোকলগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

আর সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিনামূলে বাবল সিপ্যাপ সেটআপ গ্রদানসহ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট হটলাইন সেবা দিচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজশাহী, বরগুনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং নাটোরের হাসপাতালগুলোতে সরাসরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সরেজমিন পরিদর্শনে যাবে।

দেশে চলমমান হামের প্রাদুর্ভাবের প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু হ্রাস এবং নিউমোনিয়ার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে আইসিডিডিআর,বি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সম্পর্কে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের শিশু আইসিইউ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীম আরা সুলতানা বিথী জানান, বাবল সিপিএপিকে বাংলায় বলা হয়, এটি একটি শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র। এটা অসুস্থ বাচ্চাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এর উপকারিতা: ফুসফুস খোলা রাখতে সাহায্য করে। অক্সিজেন গ্রহণ বাড়ায়, শিশুদের শ্বাসকষ্ট কমায়। ফলে ভেন্টিলেটর ছাড়া অনেক শিশুকে ভালো রাখা যায়। রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি নন-ইনভেসিভ শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক কৌশল। এতে নাকের প্রং এর মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের নলটিকে পানিতে ডুবিয়ে বুদবুদ তৈরি করে পজিটিভ প্রেশার বজায় রাখা হয়। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা কমায়। অনেক গবেষণায় ভেন্টিলেটর প্রদত্ত সিপিএপি এর চেয়ে উন্নত বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। 

ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাবল সিপিএপি যন্ত্রটি ভালো। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে। দামেও কম বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল রাতে আইসিডিডিআর,বির থেকে জানা গেছে, এ সহায়ক যন্ত্রের মূল্য ৩শ’ টাকা হবে বলে একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক নতুন যন্ত্র

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সারাদেশে শিশুদের হামজনিত নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টের জটিলতা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগে আইসিডিডিআর,বি কম খরচে বাবল সিপ্যাপ নামে একটি শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করছে। এই যন্ত্রটি ব্যবহার করলে হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমবে। এমনকি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

মহাখালী আইসিডিডিআর,বির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবল কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (বিসিপ্যাপ)-এর ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহ্নত হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন শিশু এই সেবা গ্রহণ করেছে।

এই স্বল্পমূল্যের জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি সময়মতো প্রয়োগের ফলে সেসব শিশুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে। যারা আরও স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টির ঝুঁকিতে ছিল, যারা চিকিৎসায় আরও জটিল ও কম সহজলভ্য।

আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী ও তার সহকর্মীদের উদ্ভাবিত বাবল সিপ্যাপ একটি সহজলভ্য শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়ায় ও হাইপোক্সোমিয়ার (রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যেখানে আইসিডিডিআর,বি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এ পদ্ধতি দ্রুত ছড়িয়ে দিতে আইসিডিডিআর,বি ধারাবাহিকভাবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। যার অংশ হিসেবে গতকাল তৃতীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকায় আইসিডিডিআর,বিতে আয়োজিত প্রশিক্ষণে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালের ৩০ জন সেবাদানকারী অংশগ্রহণ করেছে। গতকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩০টির বেশি হাসপাতালের ৭৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা শুরু করতে সক্ষম করে তুলবে।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. থ্যাডিয়াস ডেভিস মে এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এ বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতিটি কেবল আইসিডিডিআর,বির ঢাকা হাসপাতালেই নয় বরং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও শিশুদের প্রাণ রক্ষা করছে, যা সীমিত সম্পদের পরিবেশে এর কার্যকারিতা প্রমাণ দেয়। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাবল সিপ্যাপের সময়োপযোগী ব্যবহার হামজনিত নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে শিশুদের মৃত্যু ও জটিলতা কমাতে ইতোমধ্যেই সাহায্য করছে। তিনি সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গরুত্বারোপ করেন। 

শিশু বিশেষজ্ঞ ও আইসিডিডিআর,বি ঢাকা হাসপাতালের চিফ অনারারি কনসালটেণ্ট অধ্যাপক ড. চৌধুরী আলী কাউসার এবং ড. চিশতী বাবল সিপ্যাপের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী তুলে ধরেন।

তারা শ্বাসকষ্ট ও হাইপোক্রোমিয়ার আক্রান্ত শিশুদের জন্য দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা, সঠিক রোগী নির্বাচন, অক্সিজেনের মাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার বিষয়ে গুরুত্বরোপ করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসার সর্বোচ্চ ফলাফল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের এ প্রটোকলগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

আর সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিনামূলে বাবল সিপ্যাপ সেটআপ গ্রদানসহ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট হটলাইন সেবা দিচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজশাহী, বরগুনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং নাটোরের হাসপাতালগুলোতে সরাসরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সরেজমিন পরিদর্শনে যাবে।

দেশে চলমমান হামের প্রাদুর্ভাবের প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু হ্রাস এবং নিউমোনিয়ার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে আইসিডিডিআর,বি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সম্পর্কে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের শিশু আইসিইউ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীম আরা সুলতানা বিথী জানান, বাবল সিপিএপিকে বাংলায় বলা হয়, এটি একটি শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র। এটা অসুস্থ বাচ্চাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এর উপকারিতা: ফুসফুস খোলা রাখতে সাহায্য করে। অক্সিজেন গ্রহণ বাড়ায়, শিশুদের শ্বাসকষ্ট কমায়। ফলে ভেন্টিলেটর ছাড়া অনেক শিশুকে ভালো রাখা যায়। রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি নন-ইনভেসিভ শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক কৌশল। এতে নাকের প্রং এর মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের নলটিকে পানিতে ডুবিয়ে বুদবুদ তৈরি করে পজিটিভ প্রেশার বজায় রাখা হয়। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা কমায়। অনেক গবেষণায় ভেন্টিলেটর প্রদত্ত সিপিএপি এর চেয়ে উন্নত বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। 

ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাবল সিপিএপি যন্ত্রটি ভালো। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে। দামেও কম বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল রাতে আইসিডিডিআর,বির থেকে জানা গেছে, এ সহায়ক যন্ত্রের মূল্য ৩শ’ টাকা হবে বলে একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।





সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত