সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

রম্যগদ্য

‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা’



‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা’

‘তুই যে কোথা হোতে কীসব নিয়ে আসিস, মানে চিন্তা করলে মাথা গরম হয়ে যায়! বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! মানে কী? বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘ওম্মারে, আন্নেরা যার নাম হুনলে টব্বস হোই বোই থাকেন, হ্যেরে আন্নেরা সকাল-সন্ধ্যা সন্মান করেন, অঁাঁই তো হ্যের কথা কোইলাম, আর আন্নেনি আঁরে কন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! মানে কী?’

‘এ-আবার কী কথা আমরা কাকে সকাল-সন্ধ্যা শ্রদ্ধা করি যার কথা তুই বলাতে আমরা বিরক্ত হচ্ছি?’

‘ক্যান আপনেগো ঠাকুর কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হ্যেয়তো কোইছে, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! উনি আবার কবে এ-কথা বললেন?’

‘ক্যান আপনে না অনেক শিক্ষিত, ঢাবি বাংলা অনার্স, আন্নে কি হুনেন নাই আপনেগো ঠাকুর, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় লিখছেন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা।’

‘সেকিরে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবে লিখলেন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘অতো ঢং কোইরেন না, আপনেগো ঠাকুরে ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় লিখছে না, ‘সাতকোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি কোরে মানুষ কর নি।’ 

‘হ্যাঁ, উনিতো ঠিকই লিখেছেন, আমরাতো আজও মানুষ হোতে পারলামনা, নিজেরা নিজেরা, বাঙালি হোয়ে বাঙালিরা মারামারি খুনাখুনি করে মোরছি। আমরা বাঙালিই থেকে গেলাম কিন্তু মানুষ হোতে পারলাম না!’

‘মানুষ হোইতে না পারলে আপনেরা জন্তু, তাই আমি কোইলাম ‘বঙ্গমাতার জন্তু পোলা’ বঙ্গমাতার পোলাপান জীন্দেগীতে আর মানুষ হোইবো না হালারা জন্তু জানোয়ারের মতুন নিজেরা নিজেরা কামড়া কামড়ি কোইরা মোরবো।’

‘তা-তুই কথাটা খুব খারাপ বলিসনি, ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু মনকষ্ট থেকে লিখেছেন, ‘সাতকোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি কোরে মানুষ কর নি।’ 

‘আপনেরা মানুষ হোইবেন ক্যেমনে, এইযে দেখেন, ময়মনসিংহের, জামালপুরের, বোলতা গ্রামের মেলান্দা-দুর্মুঠের, কাদামিয়ার পোলার বংশধর, মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারগো সাহায্য কোইরা, দেশ স্বাধীনের পর হালার বাপেরে আখ খেতে ফালায়া মুন্সিগঞ্জের, আটপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা, কি যেন নাম, হ্যেরা কি মাইরটাই না মারলো! তারপর হালারা কয়দিন আগে, নিজেগো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কয়া ক্যেমন মালটা কামায়লো! আর অহন কয়কি, হালার পোলা আগস্ট মুক্তিসেনা, এবার বুজেন আপনের ‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা’র কারবার। আবার হুনছি কাদা মিয়ার নাতি নাকি নিজেরে সাংবাদিক কয়া, বর্তমান পুরধানমন্ত্রীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ আবেদন করছে!’

‘বলিস কী? ময়মনসিংহের, জামালপুরের, বোলতা গ্রামের মেলান্দা-দুর্মুঠের কাদামিয়া চেয়ারম্যানের বংশধররা এখন ‘ফ্যমিলি কার্ডের’ জন্য আবেদন করেছে! কিন্তু এটাতো দুস্থ পরিবারের জন্য, কাদামিয়া চেয়ারম্যানের বংশধর, কীভাবে আবেদন করবে?’

‘ওম্মা আপনে জানেন না, কাদামিয়ার নাতি যেইটা নিজেরে সাংবাদিক কয়, হ্যেয়তো রহিমার বেডিরে বিয়া করছে, অহন রহিমার বেডি স্নো-পাওডার ধুয়া অরিজিনাল কামের বেডির মতুন পোষাক পিন্দা হেইদিন কড়াইল বস্তির পাশের টিএ্যান্ডটি’র মাঠে লাইন দিয়া দাঁড়ায়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ লোইছে, ইউটিউবে দ্যেইখা আপনের ভাবি আমারে কয় দ্যেহ দ্যেহ আমাগো পুরধান মন্ত্রীর হাত থ্যেইক্কা কাদামিয়া চেয়ারম্যনের সাংবাদিক পোলার বৌ, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ লোইতাছে!”

‘এই টাকা টাকা কোরে তোরা যে কোথায় নামিছিস তা তোরাই জানিস!’

‘কারে দোষ দিবেন কন, এই যে কত বড় বড় একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা ট্যাকা ট্যাকা কোইরা পুরা বাঙালি জাতিটার বারটা বাজাইলো। আবার হুনছেননি, যুদ্ধ হোইলো ইরানে, আর এহানের বাঙালিরা পেট্রল কিননের লাই হ্যেতাগো লাইন দ্যেহেন!’

‘যুদ্ধ বেশিদিন দীর্ঘায়িত হলে তেলের সাপ্লাই কমে যেতে পারে, তাই’

‘ওপব্বারে, আব্রাহাম লিংকনের নাতি গাড়ি ছাড়া হ্যেরা ছলতে পারে না। আরে ব্যাটা খড়ম পায়ে তোরা বড় হোইছস। তেল নাই তো কয়দিন গাড়ি চালাবি না! কাদাময়ি, বগামিয়ার পোলা তোগো হালায় গাড়ি ছাড়া চলে না! আরে ব্যাটা মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় সৈন্যগো লগে মিল্লা দেশটা স্বাধীন না করলে, এইসব বগামিয়া, কাদামিয়া, চানমিয়া, শুকরমিয়া তোরানি পাজেরো চালাইতি? পাকিস্তান থাকলে তোর বাপে পাজেরা না, বইল গাড়ি চালাইতো বুঝছস।’

‘আসলেই তুই ঠাট্টা-মশকরা যাই কর বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে, আমরা সারা জীবনেও এ্যতো প্রাচুর্য্য দেখতে পেতাম নারে। আজ বাঙালি উড়োজাহাজের মালিক, নিজস্ব স্যাটালাইটে সংবাদ প্রেরণ, ভাবতে পারিস!’

‘তো এ্যতোই যদি বুঝছেন তয় এবার বাঙালি না থাইক্কা মানুষ হন তায়লেতো পৃথিবীর বুকে পাবলিকে আপনেগো সম্মান করবো।’

‘জানিস কথাশিল্পী শওকত ওসমানও কবিগুরুর মতো বলতেন; কথাটা ঠিক মনে নেই... মানুষ হওয়া নিয়ে কি যেন বলতেন...’

‘ কথাশিল্পী শওকত ওসমানও কবিগুরুর মতো বলতেন, ‘এ-দেশে মানুষ হওয়ার আগে হিন্দু বা ক্রীশ্চান হওয়া লাগে।’

‘আরে না উনি হিন্দু বা ক্রীশ্চান না, অন্য কোনো ধর্মের কথা বোলেছেন।’

‘আরে ছাড়েন ভাই আপনের, হিন্দু না ক্রীশ্চান, এইসব তর্ক থুয়া, দ্যেখেন ক্যেমনে বাঙালিরে মানুষ করবেন হেই কথা ভাবেন!’

‘বাঙালি মানুষ হবে, মানুষ হবে বাঙালি, যারা তিন বছরের শিশুকে অত্যাচার করে, বৃদ্ধা মাকে গোয়ালে রাখে, রাস্তায় ফেলেদ্যেয়, মায়ের অন্যায় দেখে ‘ভয় পাইলে তো চোলবো না, মাইনষ্যে পারেনা এমন কোনো কামনাই, দেখি আমাগো নবনির্বাচিত সরকার বাঙালিরে মানুষ করা পারেনি?’

‘দ্যেখ আশায় বুকবাঁধ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বলেইছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এখন এই প্ল্যান যদি বাঙালিকে মানুষ করার প্ল্যান হয় তাহলেতো কথাই নেই।’

‘যাক রোজার মাসে আপনের কথা যদি কবুল হয় তয়লেতো বাঙালি মানুষ হোইবোই।’

‘আমারও মনে বড্ড আশা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী হয়তো পারবেন বাঙালিকে মানুষ কোরতে।’

‘চলেন তায়লে আমরা ব্যেবগতে মিল্লা কোই, ওই বাঙ্গালী এবার তোরা মানুষ হ...’

‘তুই ঠিকই বলেছিস, মানুষই পারবে মানুষকে মানুষ করতে।’

‘তায়লে আর কি, আপনের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো কন, ‘আরে তুই একেবারে আমার মনের কথা বলেছিস,

নিশ্চয় বাঙালি একদিন মানুষ হবে, ‘মানুষে বিশ্বাস হারোনো পাপ’।

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা’

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

‘তুই যে কোথা হোতে কীসব নিয়ে আসিস, মানে চিন্তা করলে মাথা গরম হয়ে যায়! বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! মানে কী? বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘ওম্মারে, আন্নেরা যার নাম হুনলে টব্বস হোই বোই থাকেন, হ্যেরে আন্নেরা সকাল-সন্ধ্যা সন্মান করেন, অঁাঁই তো হ্যের কথা কোইলাম, আর আন্নেনি আঁরে কন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! মানে কী?’

‘এ-আবার কী কথা আমরা কাকে সকাল-সন্ধ্যা শ্রদ্ধা করি যার কথা তুই বলাতে আমরা বিরক্ত হচ্ছি?’

‘ক্যান আপনেগো ঠাকুর কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হ্যেয়তো কোইছে, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা! উনি আবার কবে এ-কথা বললেন?’

‘ক্যান আপনে না অনেক শিক্ষিত, ঢাবি বাংলা অনার্স, আন্নে কি হুনেন নাই আপনেগো ঠাকুর, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় লিখছেন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা।’

‘সেকিরে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবে লিখলেন, বঙ্গমাতার জন্তুপোলা!’

‘অতো ঢং কোইরেন না, আপনেগো ঠাকুরে ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় লিখছে না, ‘সাতকোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি কোরে মানুষ কর নি।’ 

‘হ্যাঁ, উনিতো ঠিকই লিখেছেন, আমরাতো আজও মানুষ হোতে পারলামনা, নিজেরা নিজেরা, বাঙালি হোয়ে বাঙালিরা মারামারি খুনাখুনি করে মোরছি। আমরা বাঙালিই থেকে গেলাম কিন্তু মানুষ হোতে পারলাম না!’

‘মানুষ হোইতে না পারলে আপনেরা জন্তু, তাই আমি কোইলাম ‘বঙ্গমাতার জন্তু পোলা’ বঙ্গমাতার পোলাপান জীন্দেগীতে আর মানুষ হোইবো না হালারা জন্তু জানোয়ারের মতুন নিজেরা নিজেরা কামড়া কামড়ি কোইরা মোরবো।’

‘তা-তুই কথাটা খুব খারাপ বলিসনি, ‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু মনকষ্ট থেকে লিখেছেন, ‘সাতকোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি কোরে মানুষ কর নি।’ 

‘আপনেরা মানুষ হোইবেন ক্যেমনে, এইযে দেখেন, ময়মনসিংহের, জামালপুরের, বোলতা গ্রামের মেলান্দা-দুর্মুঠের, কাদামিয়ার পোলার বংশধর, মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারগো সাহায্য কোইরা, দেশ স্বাধীনের পর হালার বাপেরে আখ খেতে ফালায়া মুন্সিগঞ্জের, আটপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা, কি যেন নাম, হ্যেরা কি মাইরটাই না মারলো! তারপর হালারা কয়দিন আগে, নিজেগো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কয়া ক্যেমন মালটা কামায়লো! আর অহন কয়কি, হালার পোলা আগস্ট মুক্তিসেনা, এবার বুজেন আপনের ‘বঙ্গমাতার জন্তুপোলা’র কারবার। আবার হুনছি কাদা মিয়ার নাতি নাকি নিজেরে সাংবাদিক কয়া, বর্তমান পুরধানমন্ত্রীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ আবেদন করছে!’

‘বলিস কী? ময়মনসিংহের, জামালপুরের, বোলতা গ্রামের মেলান্দা-দুর্মুঠের কাদামিয়া চেয়ারম্যানের বংশধররা এখন ‘ফ্যমিলি কার্ডের’ জন্য আবেদন করেছে! কিন্তু এটাতো দুস্থ পরিবারের জন্য, কাদামিয়া চেয়ারম্যানের বংশধর, কীভাবে আবেদন করবে?’

‘ওম্মা আপনে জানেন না, কাদামিয়ার নাতি যেইটা নিজেরে সাংবাদিক কয়, হ্যেয়তো রহিমার বেডিরে বিয়া করছে, অহন রহিমার বেডি স্নো-পাওডার ধুয়া অরিজিনাল কামের বেডির মতুন পোষাক পিন্দা হেইদিন কড়াইল বস্তির পাশের টিএ্যান্ডটি’র মাঠে লাইন দিয়া দাঁড়ায়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ লোইছে, ইউটিউবে দ্যেইখা আপনের ভাবি আমারে কয় দ্যেহ দ্যেহ আমাগো পুরধান মন্ত্রীর হাত থ্যেইক্কা কাদামিয়া চেয়ারম্যনের সাংবাদিক পোলার বৌ, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ লোইতাছে!”

‘এই টাকা টাকা কোরে তোরা যে কোথায় নামিছিস তা তোরাই জানিস!’

‘কারে দোষ দিবেন কন, এই যে কত বড় বড় একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা ট্যাকা ট্যাকা কোইরা পুরা বাঙালি জাতিটার বারটা বাজাইলো। আবার হুনছেননি, যুদ্ধ হোইলো ইরানে, আর এহানের বাঙালিরা পেট্রল কিননের লাই হ্যেতাগো লাইন দ্যেহেন!’

‘যুদ্ধ বেশিদিন দীর্ঘায়িত হলে তেলের সাপ্লাই কমে যেতে পারে, তাই’

‘ওপব্বারে, আব্রাহাম লিংকনের নাতি গাড়ি ছাড়া হ্যেরা ছলতে পারে না। আরে ব্যাটা খড়ম পায়ে তোরা বড় হোইছস। তেল নাই তো কয়দিন গাড়ি চালাবি না! কাদাময়ি, বগামিয়ার পোলা তোগো হালায় গাড়ি ছাড়া চলে না! আরে ব্যাটা মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় সৈন্যগো লগে মিল্লা দেশটা স্বাধীন না করলে, এইসব বগামিয়া, কাদামিয়া, চানমিয়া, শুকরমিয়া তোরানি পাজেরো চালাইতি? পাকিস্তান থাকলে তোর বাপে পাজেরা না, বইল গাড়ি চালাইতো বুঝছস।’

‘আসলেই তুই ঠাট্টা-মশকরা যাই কর বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে, আমরা সারা জীবনেও এ্যতো প্রাচুর্য্য দেখতে পেতাম নারে। আজ বাঙালি উড়োজাহাজের মালিক, নিজস্ব স্যাটালাইটে সংবাদ প্রেরণ, ভাবতে পারিস!’

‘তো এ্যতোই যদি বুঝছেন তয় এবার বাঙালি না থাইক্কা মানুষ হন তায়লেতো পৃথিবীর বুকে পাবলিকে আপনেগো সম্মান করবো।’

‘জানিস কথাশিল্পী শওকত ওসমানও কবিগুরুর মতো বলতেন; কথাটা ঠিক মনে নেই... মানুষ হওয়া নিয়ে কি যেন বলতেন...’

‘ কথাশিল্পী শওকত ওসমানও কবিগুরুর মতো বলতেন, ‘এ-দেশে মানুষ হওয়ার আগে হিন্দু বা ক্রীশ্চান হওয়া লাগে।’

‘আরে না উনি হিন্দু বা ক্রীশ্চান না, অন্য কোনো ধর্মের কথা বোলেছেন।’

‘আরে ছাড়েন ভাই আপনের, হিন্দু না ক্রীশ্চান, এইসব তর্ক থুয়া, দ্যেখেন ক্যেমনে বাঙালিরে মানুষ করবেন হেই কথা ভাবেন!’

‘বাঙালি মানুষ হবে, মানুষ হবে বাঙালি, যারা তিন বছরের শিশুকে অত্যাচার করে, বৃদ্ধা মাকে গোয়ালে রাখে, রাস্তায় ফেলেদ্যেয়, মায়ের অন্যায় দেখে ‘ভয় পাইলে তো চোলবো না, মাইনষ্যে পারেনা এমন কোনো কামনাই, দেখি আমাগো নবনির্বাচিত সরকার বাঙালিরে মানুষ করা পারেনি?’

‘দ্যেখ আশায় বুকবাঁধ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বলেইছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এখন এই প্ল্যান যদি বাঙালিকে মানুষ করার প্ল্যান হয় তাহলেতো কথাই নেই।’

‘যাক রোজার মাসে আপনের কথা যদি কবুল হয় তয়লেতো বাঙালি মানুষ হোইবোই।’

‘আমারও মনে বড্ড আশা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী হয়তো পারবেন বাঙালিকে মানুষ কোরতে।’

‘চলেন তায়লে আমরা ব্যেবগতে মিল্লা কোই, ওই বাঙ্গালী এবার তোরা মানুষ হ...’

‘তুই ঠিকই বলেছিস, মানুষই পারবে মানুষকে মানুষ করতে।’

‘তায়লে আর কি, আপনের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো কন, ‘আরে তুই একেবারে আমার মনের কথা বলেছিস,

নিশ্চয় বাঙালি একদিন মানুষ হবে, ‘মানুষে বিশ্বাস হারোনো পাপ’।

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত