সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

তরমুজের বাড়তি দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস


ডিজিটাল ডেস্ক
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

তরমুজের বাড়তি দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস

পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর এক ফালি রসালো তরমুজ রোজাদারদের মনে স্বস্তি এনে দেয়। তবে এবার নরসিংদীর বাজারে তরমুজের চিত্র পুরো উল্টো। স্বাদে মিষ্টি হলেও দামের পারদের তেজে সাধারণ মানুষের কাছে এ ফলটি যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয় ও শ্রমজীবী মানুষরা ইফতারের তালিকায় তরমুজ রাখার সাহস পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য আরও এক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে নরসিংদী বড় বাজার, ভেলানগর ও জেলখানা মোড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার তরমুজের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাজারে এখন পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি হয় বললেই চলে। অধিকাংশ দোকানেই এটি বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। মানভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ফলে একটি মাঝারি আকারের (৫-৬ কেজি) তরমুজ কিনতে খরচ পড়ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আর একটু বড় সাইজের তরমুজের দাম পৌঁছে যাচ্ছে ৭০০ টাকায়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিকশাচালক আব্দুল মজিদের কথায় ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের হতাশার চিত্র। তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোজা রেখে মন চেয়েছিল তরমুজ দিয়ে ইফতার করব। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখি, ছোট একটা তরমুজের দাম চায় ৪৫০ টাকা। সারাদিন যা আয় করি, তার পুরোটাই যদি একটা তরমুজ কিনে ফেলি, তাহলে পরিবার নিয়ে ইফতার করব কী দিয়ে? আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য তরমুজ এখন স্বপ্ন হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে, দাম বৃদ্ধির জন্য ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকেই তাদের চড়া দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। ভেলানগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘আড়তে দাম বেশি, তার ওপর পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। না হলে লোকসান গুনতে হবে।’

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কেজি দরে তরমুজ বিক্রির এই পদ্ধতি তাদের পকেট কাটারই একটি মাধ্যম। বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও সিন্ডিকেটের কারণে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপই এই দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কেজি দরে তরমুজ বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিলে রমজান মাসে তরমুজের দাম ক্রয়সীমার মধ্যে আসতে পারে বলে তাদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


তরমুজের বাড়তি দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর এক ফালি রসালো তরমুজ রোজাদারদের মনে স্বস্তি এনে দেয়। তবে এবার নরসিংদীর বাজারে তরমুজের চিত্র পুরো উল্টো। স্বাদে মিষ্টি হলেও দামের পারদের তেজে সাধারণ মানুষের কাছে এ ফলটি যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয় ও শ্রমজীবী মানুষরা ইফতারের তালিকায় তরমুজ রাখার সাহস পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য আরও এক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে নরসিংদী বড় বাজার, ভেলানগর ও জেলখানা মোড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার তরমুজের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাজারে এখন পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি হয় বললেই চলে। অধিকাংশ দোকানেই এটি বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। মানভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ফলে একটি মাঝারি আকারের (৫-৬ কেজি) তরমুজ কিনতে খরচ পড়ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আর একটু বড় সাইজের তরমুজের দাম পৌঁছে যাচ্ছে ৭০০ টাকায়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিকশাচালক আব্দুল মজিদের কথায় ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের হতাশার চিত্র। তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোজা রেখে মন চেয়েছিল তরমুজ দিয়ে ইফতার করব। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখি, ছোট একটা তরমুজের দাম চায় ৪৫০ টাকা। সারাদিন যা আয় করি, তার পুরোটাই যদি একটা তরমুজ কিনে ফেলি, তাহলে পরিবার নিয়ে ইফতার করব কী দিয়ে? আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য তরমুজ এখন স্বপ্ন হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে, দাম বৃদ্ধির জন্য ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকেই তাদের চড়া দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। ভেলানগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘আড়তে দাম বেশি, তার ওপর পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। না হলে লোকসান গুনতে হবে।’

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কেজি দরে তরমুজ বিক্রির এই পদ্ধতি তাদের পকেট কাটারই একটি মাধ্যম। বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও সিন্ডিকেটের কারণে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপই এই দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কেজি দরে তরমুজ বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিলে রমজান মাসে তরমুজের দাম ক্রয়সীমার মধ্যে আসতে পারে বলে তাদের প্রত্যাশা।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত