আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের প্রধান সেতুবন্ধন ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহেই এই মহাসড়কের ৯১ কিলোমিটারে ছোট-বড় অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কে যানবাহনের চাপ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। কিন্তু ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের ফরিদপুর-বরিশাল অংশটিকে ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প একের পর এক জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গত ৮ বছরে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের পর একাধিক মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন নেই বললেই চলে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলেও দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সংযোগ সড়কটির উন্নয়নে বিগত দুটি সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা অবিলম্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন প্রস্তাবনা বাতিল করে দেয়। পরে শুধু ফরিদপুর থেকে বরিশাল অংশে প্রকল্পটি সীমিত করা হয়। এতে পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা অংশ বাদ পড়েছে। এমনকি প্রস্তাবিত বরিশাল বাইপাসও বাতিল হওয়ায় ৬ লেনের মহাসড়কটি মহানগরীর মধ্যভাগ দিয়ে যাবে। এতে আগামীতে বরিশাল নগরী তীব্র যানজটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই মহাসড়কের ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার সড়ক যোগাযোগ। প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতুর পূর্ণ সুফলও পেতে হলে ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়কের উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি অধিগ্রহণে এক হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করার কথা থাকলেও গত বছরের জুন পর্যন্ত চাহিদার অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি। সম্প্রতি বরিশালের পথে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল পুনর্বাসন ও বিমানবন্দর ডাইভার্শন সংক্রান্ত জটিলতায় আরও অন্তত দুই শ হেক্টর জমির প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে সড়ক অধিদপ্তর।
সড়ক অধিদপ্তর বরিশাল জোনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে জড়িত ৬ জেলার প্রশাসনের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই কাজ এত পিছিয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তন ও নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এডিবি আগে এই প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখালেও এখন আর তেমন আগ্রহী নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যেখানে ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে এই অপ্রশস্ত সড়কেই মূল সময় নষ্ট হচ্ছে। ১৭ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা পুলিশ প্রশাসনের।
এ বিষয়ে সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুনের মধ্যে একটি অংশ ছাড়া বাকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে।
তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের প্রধান সেতুবন্ধন ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহেই এই মহাসড়কের ৯১ কিলোমিটারে ছোট-বড় অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কে যানবাহনের চাপ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। কিন্তু ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের ফরিদপুর-বরিশাল অংশটিকে ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প একের পর এক জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গত ৮ বছরে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের পর একাধিক মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন নেই বললেই চলে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলেও দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সংযোগ সড়কটির উন্নয়নে বিগত দুটি সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা অবিলম্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন প্রস্তাবনা বাতিল করে দেয়। পরে শুধু ফরিদপুর থেকে বরিশাল অংশে প্রকল্পটি সীমিত করা হয়। এতে পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা অংশ বাদ পড়েছে। এমনকি প্রস্তাবিত বরিশাল বাইপাসও বাতিল হওয়ায় ৬ লেনের মহাসড়কটি মহানগরীর মধ্যভাগ দিয়ে যাবে। এতে আগামীতে বরিশাল নগরী তীব্র যানজটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই মহাসড়কের ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার সড়ক যোগাযোগ। প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতুর পূর্ণ সুফলও পেতে হলে ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়কের উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি অধিগ্রহণে এক হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করার কথা থাকলেও গত বছরের জুন পর্যন্ত চাহিদার অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি। সম্প্রতি বরিশালের পথে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল পুনর্বাসন ও বিমানবন্দর ডাইভার্শন সংক্রান্ত জটিলতায় আরও অন্তত দুই শ হেক্টর জমির প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে সড়ক অধিদপ্তর।
সড়ক অধিদপ্তর বরিশাল জোনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে জড়িত ৬ জেলার প্রশাসনের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই কাজ এত পিছিয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তন ও নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এডিবি আগে এই প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখালেও এখন আর তেমন আগ্রহী নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যেখানে ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে এই অপ্রশস্ত সড়কেই মূল সময় নষ্ট হচ্ছে। ১৭ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা পুলিশ প্রশাসনের।
এ বিষয়ে সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুনের মধ্যে একটি অংশ ছাড়া বাকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে।
তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

আপনার মতামত লিখুন