হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার সংকটের কারণে এবার বোরো আবাদের পরিবর্তে গম চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গমের পর একই জমিতে পাট চাষ করে বছরে কমপক্ষে তিনটি ফসল আবাদের সুযোগ থাকায় অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে অধিক লাভের আশায় জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন গমের সোনালি শিষে ভরে উঠেছে।
পঞ্চগড়ের কৃষি সমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে এখন যতদূর চোখ যায়, শুধু দুলছে গমের সোনালি শিষ। প্রতিবছর এসব জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও এ বছর চাষিরা গম চাষ করেছেন। সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, গম চাষে খরচ কম হওয়া এবং বাড়তি সেচের প্রয়োজন না পড়ায় এ ফলের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
চাষিরা বলছেন, অন্যান্য ফসল আবাদ করলে বছরে দুটি ফসল পাওয়া যায়; কিন্তু গম চাষ করলে একই জমিতে বছরে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব। গম তোলার পর জমিতে পাট, আর পাটের পর আমন ধান আবাদ করবেন তারা। ফলে গম চাষে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এবার গম আবাদে ঝুঁকেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গমের ফলনও ব্যাপক হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম ঘরে তোলার আশা তাদের। তবে এ জন্য সরকারের কাছে গমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে চাষিদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের তেমন সহযোগিতা করছেন না।
তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন (৪৭) জানান, কয়েক বছর ধরে বোরো আবাদ না করে গম চাষ করছেন তিনি। এ বছর দুই একর জমিতে গম আবাদ করেছেন তিনি।
‘একরে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে। তিনবার সার ও তিনবার সেচ দিয়েছি। আশা করছি, বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম পাব,’ বলেন ফারুক হোসেন।
সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার কৃষক আবু বক্কর (৬৫) জানান, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সরকার যদি ন্যায্যমূল্য দেয়, তবেই চাষিরা লাভবান হবেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে আমাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি, একদিনও অফিসের কেউ খোঁজ নেয়নি।’
স্থানীয় অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তারা শুধু ধনী ও প্রভাবশালী কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার ও বীজ পৌঁছে দেন।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের জন্য মাঠ দিবসের মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ, সার ও কীটনাশকসহ সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। মাঠের ফসলের উপযোগিতা যাচাই করতে সার্বক্ষণিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কাজ করছেন বলে তারা জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে গম পাকা শুরু হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে গম কর্তন শুরু হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার কৃষকরা গম চাষে লাভবান হবেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার সংকটের কারণে এবার বোরো আবাদের পরিবর্তে গম চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গমের পর একই জমিতে পাট চাষ করে বছরে কমপক্ষে তিনটি ফসল আবাদের সুযোগ থাকায় অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে অধিক লাভের আশায় জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন গমের সোনালি শিষে ভরে উঠেছে।
পঞ্চগড়ের কৃষি সমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে এখন যতদূর চোখ যায়, শুধু দুলছে গমের সোনালি শিষ। প্রতিবছর এসব জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও এ বছর চাষিরা গম চাষ করেছেন। সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, গম চাষে খরচ কম হওয়া এবং বাড়তি সেচের প্রয়োজন না পড়ায় এ ফলের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
চাষিরা বলছেন, অন্যান্য ফসল আবাদ করলে বছরে দুটি ফসল পাওয়া যায়; কিন্তু গম চাষ করলে একই জমিতে বছরে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব। গম তোলার পর জমিতে পাট, আর পাটের পর আমন ধান আবাদ করবেন তারা। ফলে গম চাষে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এবার গম আবাদে ঝুঁকেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গমের ফলনও ব্যাপক হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম ঘরে তোলার আশা তাদের। তবে এ জন্য সরকারের কাছে গমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে চাষিদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের তেমন সহযোগিতা করছেন না।
তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন (৪৭) জানান, কয়েক বছর ধরে বোরো আবাদ না করে গম চাষ করছেন তিনি। এ বছর দুই একর জমিতে গম আবাদ করেছেন তিনি।
‘একরে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে। তিনবার সার ও তিনবার সেচ দিয়েছি। আশা করছি, বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম পাব,’ বলেন ফারুক হোসেন।
সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার কৃষক আবু বক্কর (৬৫) জানান, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সরকার যদি ন্যায্যমূল্য দেয়, তবেই চাষিরা লাভবান হবেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে আমাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি, একদিনও অফিসের কেউ খোঁজ নেয়নি।’
স্থানীয় অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তারা শুধু ধনী ও প্রভাবশালী কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার ও বীজ পৌঁছে দেন।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের জন্য মাঠ দিবসের মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ, সার ও কীটনাশকসহ সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। মাঠের ফসলের উপযোগিতা যাচাই করতে সার্বক্ষণিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কাজ করছেন বলে তারা জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে গম পাকা শুরু হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে গম কর্তন শুরু হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার কৃষকরা গম চাষে লাভবান হবেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন