সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

শুরুতেই ভুল ছিল, ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ 'এক্সএআই' ফের নতুন করে সাজানো হচ্ছে



শুরুতেই ভুল ছিল, ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ 'এক্সএআই' ফের নতুন করে সাজানো হচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণার জগতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান 'এক্সএআই' (xAI)। কিন্তু শুরুতেই বড়সড় গলদ থেকে যাওয়ায় এখন প্রতিষ্ঠানটিকে আক্ষরিক অর্থেই একেবারে গোড়া থেকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রথম দিকের ১১ জন প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২ জন টিকে আছেন। তীব্র প্রতিযোগিতার এই বাজারে পিছিয়ে পড়ার পর নিজেদের ভুল শুধরে নিতে এখন রীতিমতো লড়াই করছেন মাস্ক।

গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্ক জানান, "প্রথমবার এক্সএআই ঠিকঠাকভাবে তৈরি করা হয়নি। তাই একেবারে ভিত্তি থেকে এটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।"

প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার হতাশা থেকেই মূলত এই রদবদল। প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে এআই কোডিং টুলগুলোর ব্যাপক চাহিদা, যা আয়ের অন্যতম বড় উৎস। কিন্তু মাস্কের অভিযোগ, তাঁদের কোডিং টুলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের 'ক্লড কোড' কিংবা ওপেনএআই-এর 'কোডেক্স'-এর সঙ্গে ঠিকমতো পেরে উঠছে না। এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার জের ধরেই চলতি সপ্তাহে এক্সএআই ছেড়ে গেছেন সহপ্রতিষ্ঠাতা জিহাং দাই এবং গুওডং ঝাং।

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গত বুধবার কর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন মাস্ক। সেখানে তিনি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রতিযোগীদের সমকক্ষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

তবে এই ছাঁটাই ও রদবদল কেবল চলতি সপ্তাহেই সীমাবদ্ধ নেই। এক মাস আগেই দুই সহপ্রতিষ্ঠাতাসহ ১১ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী এক্সএআই ছেড়ে যান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের অন্য দুই প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং টেসলার শীর্ষ নির্বাহীরা এক্সএআই-তে এসে কর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন এবং যাঁরা মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

লিংকডইনের তথ্যমতে, এক্সএআই-তে বর্তমানে ৫ হাজারের কিছু বেশি কর্মী রয়েছেন, যেখানে ওপেনএআই-তে সাড়ে ৭ হাজার এবং অ্যানথ্রপিকে ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন। কর্মী সংকট মেটাতে এখন মাস্ক ও তাঁর সহকর্মী বারিস আকিস পুরোনো বাতিল হওয়া চাকরির আবেদনপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করছেন। এমনকি যাঁদের আগে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন মাস্ক।

তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার আলো দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই কোডিং টুল প্রতিষ্ঠান 'কার্সার' থেকে অ্যান্ড্রু মিলিক এবং জেসন গিনসবার্গ সম্প্রতি এক্সএআই-তে যোগ দিয়েছেন।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাস্ক 'ম্যাক্রোহ্যার্ড' (Macrohard) নামের একটি বড় প্রকল্পের স্বপ্ন দেখছেন। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি এআই এজেন্ট তৈরি করা, যা সাধারণ করপোরেট কর্মীদের যেকোনো কাজ কম্পিউটারে করে দিতে পারবে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের নেতৃত্ব পাওয়া টবি পোলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ স্থগিত রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, টেসলার সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হবে, যেখানে টেসলা 'ডিজিটাল অপটিমাস' নামের একটি পরিপূরক এজেন্ট নিয়ে কাজ করছে।

সূত্র :  techcrunch

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


শুরুতেই ভুল ছিল, ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ 'এক্সএআই' ফের নতুন করে সাজানো হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণার জগতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান 'এক্সএআই' (xAI)। কিন্তু শুরুতেই বড়সড় গলদ থেকে যাওয়ায় এখন প্রতিষ্ঠানটিকে আক্ষরিক অর্থেই একেবারে গোড়া থেকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রথম দিকের ১১ জন প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২ জন টিকে আছেন। তীব্র প্রতিযোগিতার এই বাজারে পিছিয়ে পড়ার পর নিজেদের ভুল শুধরে নিতে এখন রীতিমতো লড়াই করছেন মাস্ক।

গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্ক জানান, "প্রথমবার এক্সএআই ঠিকঠাকভাবে তৈরি করা হয়নি। তাই একেবারে ভিত্তি থেকে এটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।"

প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার হতাশা থেকেই মূলত এই রদবদল। প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে এআই কোডিং টুলগুলোর ব্যাপক চাহিদা, যা আয়ের অন্যতম বড় উৎস। কিন্তু মাস্কের অভিযোগ, তাঁদের কোডিং টুলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের 'ক্লড কোড' কিংবা ওপেনএআই-এর 'কোডেক্স'-এর সঙ্গে ঠিকমতো পেরে উঠছে না। এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার জের ধরেই চলতি সপ্তাহে এক্সএআই ছেড়ে গেছেন সহপ্রতিষ্ঠাতা জিহাং দাই এবং গুওডং ঝাং।

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গত বুধবার কর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন মাস্ক। সেখানে তিনি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রতিযোগীদের সমকক্ষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

তবে এই ছাঁটাই ও রদবদল কেবল চলতি সপ্তাহেই সীমাবদ্ধ নেই। এক মাস আগেই দুই সহপ্রতিষ্ঠাতাসহ ১১ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী এক্সএআই ছেড়ে যান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের অন্য দুই প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং টেসলার শীর্ষ নির্বাহীরা এক্সএআই-তে এসে কর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন এবং যাঁরা মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

লিংকডইনের তথ্যমতে, এক্সএআই-তে বর্তমানে ৫ হাজারের কিছু বেশি কর্মী রয়েছেন, যেখানে ওপেনএআই-তে সাড়ে ৭ হাজার এবং অ্যানথ্রপিকে ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন। কর্মী সংকট মেটাতে এখন মাস্ক ও তাঁর সহকর্মী বারিস আকিস পুরোনো বাতিল হওয়া চাকরির আবেদনপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করছেন। এমনকি যাঁদের আগে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন মাস্ক।

তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার আলো দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই কোডিং টুল প্রতিষ্ঠান 'কার্সার' থেকে অ্যান্ড্রু মিলিক এবং জেসন গিনসবার্গ সম্প্রতি এক্সএআই-তে যোগ দিয়েছেন।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাস্ক 'ম্যাক্রোহ্যার্ড' (Macrohard) নামের একটি বড় প্রকল্পের স্বপ্ন দেখছেন। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি এআই এজেন্ট তৈরি করা, যা সাধারণ করপোরেট কর্মীদের যেকোনো কাজ কম্পিউটারে করে দিতে পারবে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের নেতৃত্ব পাওয়া টবি পোলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ স্থগিত রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, টেসলার সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হবে, যেখানে টেসলা 'ডিজিটাল অপটিমাস' নামের একটি পরিপূরক এজেন্ট নিয়ে কাজ করছে।

সূত্র :  techcrunch


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত