আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘দেশস্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, চুক্তিটি অত্যন্ত গোপনে ও তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তির কিছু বৈষম্যমূলক দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুক্তিতে বাধ্যতামূলক ‘শ্যাল’ শব্দটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১৩১ বার ব্যবহার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার মাত্র ছয় বার। এ ছাড়া বাংলাদেশের জন্য শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৪ শতাংশ করা হয়েছে, যার ফলে শুল্ক ব্যয় ১৬ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ লাখ টন পণ্য ও ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে বাংলাদেশ বাধ্য হচ্ছে। এতে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হবে। প্রতি টনে প্রায় ৩৫ ডলার বেশি গুনতে হবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে সরকার নিজস্ব শিল্পে ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং সস্তা উৎস থেকে পণ্য কেনার স্বাধীনতা হারাবে।
অধ্যাপক এম এম আকাশ অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইসিটি ও রোবোটিকসের মতো ভবিষ্যৎ খাতে চীনের আধিপত্য কমাতে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এটি ‘নয়া উপনিবেশবাদ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার কোনো নৈতিক এখতিয়ার নেই। কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অব্যাহতি দাবি করে বলেন, তিনি মূলত মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছেন।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল চুক্তি বাতিলের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। সভা থেকে চুক্তি বাতিল, শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না।

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘দেশস্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, চুক্তিটি অত্যন্ত গোপনে ও তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তির কিছু বৈষম্যমূলক দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুক্তিতে বাধ্যতামূলক ‘শ্যাল’ শব্দটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১৩১ বার ব্যবহার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার মাত্র ছয় বার। এ ছাড়া বাংলাদেশের জন্য শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৪ শতাংশ করা হয়েছে, যার ফলে শুল্ক ব্যয় ১৬ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ লাখ টন পণ্য ও ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে বাংলাদেশ বাধ্য হচ্ছে। এতে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হবে। প্রতি টনে প্রায় ৩৫ ডলার বেশি গুনতে হবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে সরকার নিজস্ব শিল্পে ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং সস্তা উৎস থেকে পণ্য কেনার স্বাধীনতা হারাবে।
অধ্যাপক এম এম আকাশ অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইসিটি ও রোবোটিকসের মতো ভবিষ্যৎ খাতে চীনের আধিপত্য কমাতে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এটি ‘নয়া উপনিবেশবাদ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার কোনো নৈতিক এখতিয়ার নেই। কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অব্যাহতি দাবি করে বলেন, তিনি মূলত মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছেন।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল চুক্তি বাতিলের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। সভা থেকে চুক্তি বাতিল, শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন