সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

চুয়াডাঙ্গায় নদীকৃত্য দিবসে মানববন্ধন, নদী রক্ষার দাবি



চুয়াডাঙ্গায় নদীকৃত্য দিবসে মানববন্ধন, নদী রক্ষার দাবি
ছবি : সংবাদ

'নদী বাঁচাও মানুষ বাঁচাও' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে শহীদ হাসান চত্বরের মুক্তমঞ্চে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন ও ধরিত্রি রক্ষায় আমরা (ধারা) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভা শেষে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতুতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস। সভাপতিত্বে ছিলেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লিটু বিশ্বাস, সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম.এম. আলাউদ্দিন, উদীচীর সভাপতি জহির রায়হান হাবিবী, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান ও অন্মেষা যুব নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিজা হুসাইন।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরিফুর রহমান। এ সময় সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান, মহিবুল হাবীব, হামিদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে একসময় প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি নদী প্রবাহিত ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ, অবৈধ ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক নদী সংকটের মুখে পড়েছে এবং বেশ কিছু নদী ইতোমধ্যে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা ও কৃষি কার্যক্রম নদী ও পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ ও নগর বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই নদী রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই দেশের সব নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় নদীকৃত্য দিবসে মানববন্ধন, নদী রক্ষার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

'নদী বাঁচাও মানুষ বাঁচাও' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে শহীদ হাসান চত্বরের মুক্তমঞ্চে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন ও ধরিত্রি রক্ষায় আমরা (ধারা) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভা শেষে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতুতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস। সভাপতিত্বে ছিলেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লিটু বিশ্বাস, সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম.এম. আলাউদ্দিন, উদীচীর সভাপতি জহির রায়হান হাবিবী, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান ও অন্মেষা যুব নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিজা হুসাইন।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরিফুর রহমান। এ সময় সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান, মহিবুল হাবীব, হামিদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে একসময় প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি নদী প্রবাহিত ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ, অবৈধ ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক নদী সংকটের মুখে পড়েছে এবং বেশ কিছু নদী ইতোমধ্যে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা ও কৃষি কার্যক্রম নদী ও পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ ও নগর বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই নদী রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই দেশের সব নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত