পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে পুলিশ বাহিনীতে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশের লোকও অনেকে মাদকের সঙ্গে জড়িত। আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত এক বছরে অনেকবার ভিজিটে গিয়েছি। সেখানেও দেখেছি আমাদের পুলিশের লোক মাদকের সঙ্গে জড়িত। আমরা চেষ্টা করছি পুলিশে যেসব খারাপ লোক রয়েছে, যারা আইন মানে না, এ ধরনের খারাপ কাজে জড়িত হয়, তারা পুলিশে থাকবে না।’
পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা আগে দেখতাম ওসি সাহেবেরা এলাকার প্রেসিডেন্ট, উনিই সবকিছু, উনিই ক্ষমতার মালিক। এটি আর চলবে না। আপনি সেবক, জনগণকে আপনি সেবা দেবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। জনগণ যে কাজেই থানায় আসুন না কেন, পুলিশ জনগণকে সন্তুষ্ট করে বিদায় করবে। আমাদের থানার রিসেপশনটাই তো খারাপ। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকেই সামারি বা টাকা নেওয়ার প্রবণতা ছিল।’
পুলিশ বাহিনীর অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘তাদের সেই নেতৃত্বের কারণেই তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, পলাতক জীবনযাপন করছে, এটা আমার পুলিশ বাহিনী কিন্তু জানে। ওই ইতিহাস থেকে আমার পুলিশ বাহিনীকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি শিক্ষা না নেয় তাহলে এই সময়ে দু-চারজন যারা রয়েছে তারাও শাস্তি পাবে।’
গাজীপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘গাজীপুর ও চট্টগ্রাম হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখানটাকে যদি আমরা ঠিক রাখতে না পারি, তাহলে অর্থনীতি বলেন, জীবনযাত্রার মান বলেন, শান্তি বলেন, ন্যায়বিচার বলেন, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বলেন, কিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
আইজিপি বলেন, ‘এই গাজীপুরে ২০টি বস্তি রয়েছে, যেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। আমাদের সন্তানেরা মাদকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা কি আমরা খবর রাখি? পরিবারের সদস্যরা কি খবর রাখে? কেউ রাখে না। সন্তানেরা দরজা বন্ধ করে খারাপ ছবি দেখছে, নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে, তারা হতাশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। মাদক তরুণ সমাজকে পঙ্গু করছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
এ সময় গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. সফিক উদ্দিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে পুলিশ বাহিনীতে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশের লোকও অনেকে মাদকের সঙ্গে জড়িত। আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত এক বছরে অনেকবার ভিজিটে গিয়েছি। সেখানেও দেখেছি আমাদের পুলিশের লোক মাদকের সঙ্গে জড়িত। আমরা চেষ্টা করছি পুলিশে যেসব খারাপ লোক রয়েছে, যারা আইন মানে না, এ ধরনের খারাপ কাজে জড়িত হয়, তারা পুলিশে থাকবে না।’
পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা আগে দেখতাম ওসি সাহেবেরা এলাকার প্রেসিডেন্ট, উনিই সবকিছু, উনিই ক্ষমতার মালিক। এটি আর চলবে না। আপনি সেবক, জনগণকে আপনি সেবা দেবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। জনগণ যে কাজেই থানায় আসুন না কেন, পুলিশ জনগণকে সন্তুষ্ট করে বিদায় করবে। আমাদের থানার রিসেপশনটাই তো খারাপ। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকেই সামারি বা টাকা নেওয়ার প্রবণতা ছিল।’
পুলিশ বাহিনীর অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘তাদের সেই নেতৃত্বের কারণেই তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, পলাতক জীবনযাপন করছে, এটা আমার পুলিশ বাহিনী কিন্তু জানে। ওই ইতিহাস থেকে আমার পুলিশ বাহিনীকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি শিক্ষা না নেয় তাহলে এই সময়ে দু-চারজন যারা রয়েছে তারাও শাস্তি পাবে।’
গাজীপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘গাজীপুর ও চট্টগ্রাম হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখানটাকে যদি আমরা ঠিক রাখতে না পারি, তাহলে অর্থনীতি বলেন, জীবনযাত্রার মান বলেন, শান্তি বলেন, ন্যায়বিচার বলেন, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বলেন, কিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
আইজিপি বলেন, ‘এই গাজীপুরে ২০টি বস্তি রয়েছে, যেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। আমাদের সন্তানেরা মাদকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা কি আমরা খবর রাখি? পরিবারের সদস্যরা কি খবর রাখে? কেউ রাখে না। সন্তানেরা দরজা বন্ধ করে খারাপ ছবি দেখছে, নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে, তারা হতাশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। মাদক তরুণ সমাজকে পঙ্গু করছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
এ সময় গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. সফিক উদ্দিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন