সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সঙ্গীরা রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বলছে, সরকারি দল বিএনপি যদি রোববারের (১৫ মার্চ ) মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কার্যক্রম সংসদে শুরু না করে তাহলে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে তারা রাজপথে নামবে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াক আউট করে নজির স্থাপন করেছে জামায়াত জোট। রোববার (১৪ মার্চ) অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবস। বেলা ১১টায় শুরু হবে মুলতবি বৈঠক।
জামায়াত জোটের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সংস্কার পরিষদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে জামায়াত জোট রোববারও ওয়াক আউট করতে পারে।
জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের ইস্যুতে জাতির সাথে ‘প্রতারণা’ করছে।
জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জোটের শরীক দলের প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মতে, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম বিলম্ব করা উচিত নয়।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ব্রিফিংয়ে আসেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে জনগণের সমর্থন রয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আগামীকালের (রোববার) মধ্যে সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট উদ্যোগ না নিলে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও প্রত্যাশা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি রয়েছে।”
ওয়াক আউট, প্ল্যাকার্ড
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছিলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা (এমপি)। রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমন ঘোষণা দেয়ার পরপরই জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। এরপর ওইদিন তারা আর অধিবেশক কক্ষে ফিরে আসেননি।
প্রথম দিন অবিবেশন মুলতবির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদের বিরোধীদলের ওয়াকআউট করার অধিকার আছে, তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিরোধিতা করে তারা প্ল্যাকার্ড না দেখালেও পারতেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে। এর আগে তিনি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই কথা তিনি আগেও বলেছিলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার দিন তিনি বলেছিলেন, যে বিষয়ে সংবিধানে কিছু নেই, সেটি প্রথমে সংসদে তুলতে হবে। এরপর তা নিয়ে আলোচনা হবে।
জামায়াত জোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ওইদিন দুটো শপথ নিয়েছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। তবে বিএনপির সদস্যরা ওইদিন শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এতে জামায়াত ও এনসিপির কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপ্রতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা আলোচনা হবে। এই কমিটিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির নাহিদ ইসলামও আছেন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ি, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। এই আলোচনায় জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী দলীয় এমপিরা অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা আছে।
১১ দলীয় ঐক্যের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল যেহেতু রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করেছে, তার ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। সূত্র বলছে, এই ইস্যুতে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি অব্যহত থাকতে পারে। অর্থাৎ ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধী দল ওয়াক আউট করতে পারে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ি বিএনপি ও তার মিত্ররা জয়লাভ করে ২১২টি আসনে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পায় ৭৭ আসন। তারা হয় সংসদের বিরোধীদল।
বিএনপি একক দল হিসেবে পায় ২০৯টি আসন। তাদের মিত্রদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পাটি-বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পায়। জামায়াত একক দল হিসেবে পায় ৬৮টি আসন। তাদের মিত্র এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পায়।
জামায়াত জোট ছেড়ে আসা চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জয় পায় ১টি আসনে। নির্বাচনে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। তারা সবাই বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন। বিদ্রোহী হওয়ার কারণে এদের সবাইকে দল থেকে বহিস্কার করে বিএনপি।
তবে ওই নির্বাচন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াত ও এনসিপি নেতারা। তারা বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র হয়েছিল লন্ডনে’। মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। তাদের অভিযোগ ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে অনেকগুলো আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করা হয়েছে। তাদের দাবি, ষড়যন্ত্র না হলে জামায়াত-এনসিপি জোট এবার সরকার গঠন করতে পারতো।

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সঙ্গীরা রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বলছে, সরকারি দল বিএনপি যদি রোববারের (১৫ মার্চ ) মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কার্যক্রম সংসদে শুরু না করে তাহলে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে তারা রাজপথে নামবে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াক আউট করে নজির স্থাপন করেছে জামায়াত জোট। রোববার (১৪ মার্চ) অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবস। বেলা ১১টায় শুরু হবে মুলতবি বৈঠক।
জামায়াত জোটের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সংস্কার পরিষদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে জামায়াত জোট রোববারও ওয়াক আউট করতে পারে।
জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের ইস্যুতে জাতির সাথে ‘প্রতারণা’ করছে।
জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জোটের শরীক দলের প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মতে, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম বিলম্ব করা উচিত নয়।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ব্রিফিংয়ে আসেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে জনগণের সমর্থন রয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আগামীকালের (রোববার) মধ্যে সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট উদ্যোগ না নিলে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও প্রত্যাশা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি রয়েছে।”
ওয়াক আউট, প্ল্যাকার্ড
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছিলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা (এমপি)। রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমন ঘোষণা দেয়ার পরপরই জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। এরপর ওইদিন তারা আর অধিবেশক কক্ষে ফিরে আসেননি।
প্রথম দিন অবিবেশন মুলতবির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদের বিরোধীদলের ওয়াকআউট করার অধিকার আছে, তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিরোধিতা করে তারা প্ল্যাকার্ড না দেখালেও পারতেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে। এর আগে তিনি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই কথা তিনি আগেও বলেছিলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার দিন তিনি বলেছিলেন, যে বিষয়ে সংবিধানে কিছু নেই, সেটি প্রথমে সংসদে তুলতে হবে। এরপর তা নিয়ে আলোচনা হবে।
জামায়াত জোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ওইদিন দুটো শপথ নিয়েছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। তবে বিএনপির সদস্যরা ওইদিন শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এতে জামায়াত ও এনসিপির কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপ্রতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা আলোচনা হবে। এই কমিটিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির নাহিদ ইসলামও আছেন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ি, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। এই আলোচনায় জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী দলীয় এমপিরা অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা আছে।
১১ দলীয় ঐক্যের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল যেহেতু রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করেছে, তার ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। সূত্র বলছে, এই ইস্যুতে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি অব্যহত থাকতে পারে। অর্থাৎ ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধী দল ওয়াক আউট করতে পারে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ি বিএনপি ও তার মিত্ররা জয়লাভ করে ২১২টি আসনে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পায় ৭৭ আসন। তারা হয় সংসদের বিরোধীদল।
বিএনপি একক দল হিসেবে পায় ২০৯টি আসন। তাদের মিত্রদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পাটি-বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পায়। জামায়াত একক দল হিসেবে পায় ৬৮টি আসন। তাদের মিত্র এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পায়।
জামায়াত জোট ছেড়ে আসা চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জয় পায় ১টি আসনে। নির্বাচনে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। তারা সবাই বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন। বিদ্রোহী হওয়ার কারণে এদের সবাইকে দল থেকে বহিস্কার করে বিএনপি।
তবে ওই নির্বাচন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াত ও এনসিপি নেতারা। তারা বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র হয়েছিল লন্ডনে’। মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। তাদের অভিযোগ ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে অনেকগুলো আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করা হয়েছে। তাদের দাবি, ষড়যন্ত্র না হলে জামায়াত-এনসিপি জোট এবার সরকার গঠন করতে পারতো।

আপনার মতামত লিখুন