ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় সরকার যে ভিজিএফ কর্মসূচি পরিচালনা করে, তা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। কোথাও তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কোথাও আবার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তালিকা তৈরিকে ঘিরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত সহায়তার তালিকা যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় তৈরি না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিরোধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ থাকলেও তা সহিংসতায় রূপ নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে চাল বিতরণে নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সামান্য পরিমাণ কম দেয়া হলেও তা দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ক্ষতি। অনেক ক্ষেত্রে উপকারভোগীরা ভবিষ্যতে তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। ফলে ছোট ছোট অনিয়ম দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকে যায়।
শুধু চাল বরাদ্দ দেয়া যথেষ্ট নয়, বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। চাল বিতরণের সময় নির্ভুল ওজন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল স্কেলের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার মধ্য দিয়েই মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত লক্ষ্যপূরণ হবে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় সরকার যে ভিজিএফ কর্মসূচি পরিচালনা করে, তা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। কোথাও তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কোথাও আবার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তালিকা তৈরিকে ঘিরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত সহায়তার তালিকা যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় তৈরি না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিরোধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ থাকলেও তা সহিংসতায় রূপ নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে চাল বিতরণে নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সামান্য পরিমাণ কম দেয়া হলেও তা দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ক্ষতি। অনেক ক্ষেত্রে উপকারভোগীরা ভবিষ্যতে তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। ফলে ছোট ছোট অনিয়ম দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকে যায়।
শুধু চাল বরাদ্দ দেয়া যথেষ্ট নয়, বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। চাল বিতরণের সময় নির্ভুল ওজন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল স্কেলের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার মধ্য দিয়েই মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত লক্ষ্যপূরণ হবে।

আপনার মতামত লিখুন