গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকার গজারি বনে প্রতি বছর আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগজনক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই বনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভাওয়ালের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ, ওষুধি উদ্ভিদ এবং লতা-গুল্ম রয়েছে। আগুন লাগলে শুধু গাছপালা নয়, মাটির উর্বর স্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটির জৈব উপাদান ও অণুজীব ধ্বংস হলে নতুন গাছ জন্মানোর পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। বনের ছায়া কমে গেলে মাটির আর্দ্রতাও কমে যায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো বনভ‚মির পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে ওঠে।
বনের আগুনের পেছনে একাধিক কারণের কথা বলা হচ্ছে। কখনও অসতর্কতা, কখনও বাগান পরিষ্কারের নামে আগুন ব্যবহার, আবার কখনও দুষ্কৃতকারীদের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেও অনেক সময় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে বনভ‚মি দখলের উদ্দেশ্যেও আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বনের গাছ কেটে নেয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে বন সুরক্ষায় নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বনাঞ্চলে আগুন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বন বিভাগের নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বনাঞ্চলের আশপাশের জনগণকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে অনেক ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব। ভাওয়ালের গজারি বন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বন রক্ষা করা গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকার গজারি বনে প্রতি বছর আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগজনক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই বনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভাওয়ালের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ, ওষুধি উদ্ভিদ এবং লতা-গুল্ম রয়েছে। আগুন লাগলে শুধু গাছপালা নয়, মাটির উর্বর স্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটির জৈব উপাদান ও অণুজীব ধ্বংস হলে নতুন গাছ জন্মানোর পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। বনের ছায়া কমে গেলে মাটির আর্দ্রতাও কমে যায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো বনভ‚মির পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে ওঠে।
বনের আগুনের পেছনে একাধিক কারণের কথা বলা হচ্ছে। কখনও অসতর্কতা, কখনও বাগান পরিষ্কারের নামে আগুন ব্যবহার, আবার কখনও দুষ্কৃতকারীদের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেও অনেক সময় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে বনভ‚মি দখলের উদ্দেশ্যেও আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বনের গাছ কেটে নেয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে বন সুরক্ষায় নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বনাঞ্চলে আগুন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বন বিভাগের নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বনাঞ্চলের আশপাশের জনগণকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে অনেক ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব। ভাওয়ালের গজারি বন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বন রক্ষা করা গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন