বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। হলুদ ফুলের সমারোহে দৃষ্টি কাড়ছে সবাইকে। মাঠভর্তি এসব ফুলে মৌমাছি আর পাখির মেলা বসেছে। বিকেল হলেই এলাকার তরুণ-তরুণী ও দর্শনার্থীরা ফুলের মাঠে ছবি তুলতে ভিড় করছেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ধান, গম ও নানা ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। বিশুদ্ধ তেল উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। এতে করে দিন দিন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বলেশ্বর নদীর চর ও আশপাশের এলাকায় সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে শিবপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের চরের জমি, বিভিন্ন ফসলের মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের পাড়ে এ ফুলের আবাদ হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল জাতের এই ফুল দেখতে যেমন বড়, তেমনি এর বীজ থেকে আশানুরূপ তেল পাওয়া যায় বলে জানান কৃষকরা। ফুলে মৌমাছির আনাগোনা থাকায় মধু সংগ্রহের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে, বীজ থেকে তেল উৎপাদনের পাশাপাশি গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমন নানা সুবিধার কারণে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
শিবপুর গ্রামের কৃষক জালাল শেখ জানান, তিনি আট কাঠা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তার প্রতিবেশী আরিফ শেখ পাঁচ কাঠা, আছাদ শেখ আট কাঠা ও বাইজিদ সরদার ১০ কাঠা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ধান, গম ও সবজি চাষের চেয়ে সূর্যমুখী চাষ অনেক সহজ। এতে সেচের প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশকও কম লাগে। গত কয়েক বছর ধরে তারা সূর্যমুখী চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের আশা তাদের।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে ৩৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল। এর তেল প্রতি লিটার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এবং গুণগত মানের দিক থেকেও এটি স্বাস্থ্যসম্মত।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। হলুদ ফুলের সমারোহে দৃষ্টি কাড়ছে সবাইকে। মাঠভর্তি এসব ফুলে মৌমাছি আর পাখির মেলা বসেছে। বিকেল হলেই এলাকার তরুণ-তরুণী ও দর্শনার্থীরা ফুলের মাঠে ছবি তুলতে ভিড় করছেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ধান, গম ও নানা ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। বিশুদ্ধ তেল উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। এতে করে দিন দিন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বলেশ্বর নদীর চর ও আশপাশের এলাকায় সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে শিবপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের চরের জমি, বিভিন্ন ফসলের মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের পাড়ে এ ফুলের আবাদ হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল জাতের এই ফুল দেখতে যেমন বড়, তেমনি এর বীজ থেকে আশানুরূপ তেল পাওয়া যায় বলে জানান কৃষকরা। ফুলে মৌমাছির আনাগোনা থাকায় মধু সংগ্রহের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে, বীজ থেকে তেল উৎপাদনের পাশাপাশি গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমন নানা সুবিধার কারণে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
শিবপুর গ্রামের কৃষক জালাল শেখ জানান, তিনি আট কাঠা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তার প্রতিবেশী আরিফ শেখ পাঁচ কাঠা, আছাদ শেখ আট কাঠা ও বাইজিদ সরদার ১০ কাঠা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ধান, গম ও সবজি চাষের চেয়ে সূর্যমুখী চাষ অনেক সহজ। এতে সেচের প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশকও কম লাগে। গত কয়েক বছর ধরে তারা সূর্যমুখী চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের আশা তাদের।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে ৩৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল। এর তেল প্রতি লিটার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এবং গুণগত মানের দিক থেকেও এটি স্বাস্থ্যসম্মত।

আপনার মতামত লিখুন