সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

নওগাঁয় মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘ফারসি গারারা’


কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ
কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘ফারসি গারারা’
ছবি : সংবাদ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নওগাঁর বিপণিবিতানগুলো এখন ক্রেতাদের পদচারণায় জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটার ধুম। নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন অনেকে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা হচ্ছে জমজমাট। তবে পোশাকের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বেচাকেনায় সন্তুষ্ট বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগেভাগেই বিক্রি শুরু হয়েছে। রোজার দশদিন পর থেকেই বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনাও তত বাড়ছে।

সরেজমিনে আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, জহির প্লাজা, দেওয়ান বাজার, মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, বিসমিল্লাহ টাওয়ার, মদিনা মার্কেট, কুমারখালি বস্ত্রালয় ও বিশাল ক্লথ স্টোর ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি মার্কেটেই ব্যাপক ক্রেতার সমাগম।

ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। মার্কেটের ভেতরে দরদাম চলছে জোরেশোরে। পোশাকের পাশাপাশি প্রসাধনী ও অলংকার কিনতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। স্বল্প দামে পছন্দের পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পোশাকের পাশাপাশি এবার মেয়েদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি ও ইরানি ডিজাইনের বিশেষ ধরনের থ্রি-পিস 'ফারসি গারারা' ড্রেস। এছাড়া সারারা, গারারা, সায়রাকাট ও নায়রাকাট থ্রি-পিসের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

তরুণীদের মধ্যে গাউন, টপস, জিপসি, ফ্লোর টাচ ও লেহেঙ্গার কদরও কম নয়। নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও আরামদায়ক সুতি পোশাক। অন্যদিকে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, জিন্স, পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ বাহারি সব পোশাক।

পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় আসা রফিক ইসলাম বলেন, ‘এ বছর বাজারে পর্যাপ্ত পোশাক থাকলেও দাম গতবারের তুলনায় অনেকটা বেশি মনে হচ্ছে। বাচ্চাদের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। আমার পাঁচ বছরের মেয়ের জন্য পছন্দ হওয়া একটা ড্রেসের দামই চার হাজার টাকা।’

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, ‘মায়ের সাথে বিভিন্ন মার্কেটে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরে পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস কিনেছি। বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে এই পোশাকটি পছন্দ হওয়ায় কিনেছি।’

আল-আমিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি দেখছি। কিন্তু কী করব, সব জিনিসের দামই বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।’

আসমান বিগবাজার দোকানের কর্মচারী নাজমুল হোসেন বলেন, তাদের দোকানে ছোট-বড় সব বয়সী মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস, টপস, জিপসি, গাউন, লেহেঙ্গা ও ফ্লোর টাচ নামের পোশাক রয়েছে। আট থেকে ২১ বছর বয়সী শিশু ও তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে নারীদের পছন্দের শীর্ষে জয়পুরি, কাঞ্চিবরম ও বেনারসি। এছাড়া হাফসিল্ক, জামদানি, খাদি ও মাসরাইজ শাড়ির চাহিদাও রয়েছে।

আসমান বিগবাজার দোকানের মালিক ওহিদুর রহমান বলেন, ‘রোজার দশদিন পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের দোকানে সব ধরনের কালেকশন রয়েছে। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের ও দামের পোশাকের সমাহার রেখেছি। এর মধ্যে তরুণীরা পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস বেশি কিনছেন। এছাড়া পাকিস্তানি সারারা, নায়কাট থ্রি-পিস, লোন থ্রি-পিস ও ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের গাউন থ্রি-পিসের চাহিদাও বেশ ভালো।’

গীতাঞ্জলি মার্কেটের শিলামনি দোকানের মালিক নেপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমাদের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য পোশাক রয়েছে। প্রথম দিকে কেনাকাটা কম থাকলেও ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা তত বাড়ছে। আশা করছি সামনের কয়েকদিন আরও ভালো বেচাকেনা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


নওগাঁয় মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘ফারসি গারারা’

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নওগাঁর বিপণিবিতানগুলো এখন ক্রেতাদের পদচারণায় জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটার ধুম। নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন অনেকে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা হচ্ছে জমজমাট। তবে পোশাকের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বেচাকেনায় সন্তুষ্ট বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগেভাগেই বিক্রি শুরু হয়েছে। রোজার দশদিন পর থেকেই বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনাও তত বাড়ছে।

সরেজমিনে আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, জহির প্লাজা, দেওয়ান বাজার, মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, বিসমিল্লাহ টাওয়ার, মদিনা মার্কেট, কুমারখালি বস্ত্রালয় ও বিশাল ক্লথ স্টোর ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি মার্কেটেই ব্যাপক ক্রেতার সমাগম।

ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। মার্কেটের ভেতরে দরদাম চলছে জোরেশোরে। পোশাকের পাশাপাশি প্রসাধনী ও অলংকার কিনতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। স্বল্প দামে পছন্দের পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পোশাকের পাশাপাশি এবার মেয়েদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি ও ইরানি ডিজাইনের বিশেষ ধরনের থ্রি-পিস 'ফারসি গারারা' ড্রেস। এছাড়া সারারা, গারারা, সায়রাকাট ও নায়রাকাট থ্রি-পিসের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

তরুণীদের মধ্যে গাউন, টপস, জিপসি, ফ্লোর টাচ ও লেহেঙ্গার কদরও কম নয়। নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও আরামদায়ক সুতি পোশাক। অন্যদিকে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, জিন্স, পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ বাহারি সব পোশাক।

পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় আসা রফিক ইসলাম বলেন, ‘এ বছর বাজারে পর্যাপ্ত পোশাক থাকলেও দাম গতবারের তুলনায় অনেকটা বেশি মনে হচ্ছে। বাচ্চাদের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। আমার পাঁচ বছরের মেয়ের জন্য পছন্দ হওয়া একটা ড্রেসের দামই চার হাজার টাকা।’

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, ‘মায়ের সাথে বিভিন্ন মার্কেটে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরে পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস কিনেছি। বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে এই পোশাকটি পছন্দ হওয়ায় কিনেছি।’

আল-আমিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি দেখছি। কিন্তু কী করব, সব জিনিসের দামই বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।’

আসমান বিগবাজার দোকানের কর্মচারী নাজমুল হোসেন বলেন, তাদের দোকানে ছোট-বড় সব বয়সী মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস, টপস, জিপসি, গাউন, লেহেঙ্গা ও ফ্লোর টাচ নামের পোশাক রয়েছে। আট থেকে ২১ বছর বয়সী শিশু ও তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে নারীদের পছন্দের শীর্ষে জয়পুরি, কাঞ্চিবরম ও বেনারসি। এছাড়া হাফসিল্ক, জামদানি, খাদি ও মাসরাইজ শাড়ির চাহিদাও রয়েছে।

আসমান বিগবাজার দোকানের মালিক ওহিদুর রহমান বলেন, ‘রোজার দশদিন পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের দোকানে সব ধরনের কালেকশন রয়েছে। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের ও দামের পোশাকের সমাহার রেখেছি। এর মধ্যে তরুণীরা পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি-পিস বেশি কিনছেন। এছাড়া পাকিস্তানি সারারা, নায়কাট থ্রি-পিস, লোন থ্রি-পিস ও ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের গাউন থ্রি-পিসের চাহিদাও বেশ ভালো।’

গীতাঞ্জলি মার্কেটের শিলামনি দোকানের মালিক নেপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমাদের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য পোশাক রয়েছে। প্রথম দিকে কেনাকাটা কম থাকলেও ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা তত বাড়ছে। আশা করছি সামনের কয়েকদিন আরও ভালো বেচাকেনা হবে।’


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত