সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সংসদে বিতর্কে জড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমির


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

সংসদে বিতর্কে জড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমির
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমির। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন এবং বিষয়টি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তাঁকে মাইক দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে, যা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ জারি করা হয়। তিনি সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটা পড়ে শোনান। বলেন, ‘এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।’

জুলাই সনদ আদেশের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আদেশে বলা রয়েছে গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এটি গঠন হয়নি। তিনি আরও বলেন, যে পদ্ধতিতে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়, সেই একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

এবারের সংসদ সদস্যরা দুটি আলাদা ভোটের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন ক্ষমতায় (ক্যাপাসিটি) নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই আদেশ অনুসারে তাঁরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার সরকারি দল থেকে বক্তব্য আশা করলে জবাব দিতে দাঁড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুরুতে তিনি স্পিকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কোন বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব বা সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। সেই বিধিতে কোনো নোটিশ তিনি দিয়েছেন কি না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা বা সংবিধান পরিবর্তন হয় এমন কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন। মাঝামাঝি জিনিস।' এই আদেশটিকে 'আরোপিত' আদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদ আহ্বানও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেছেন। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সেটা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। ফলে রাষ্ট্রপতি সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, মর্মে আদালত রুল জারি করেছেন। এখানে হয়তো বিচার বিভাগ মতামত দেবে। তবে তাদের মতামত এই সার্বভৌম সংসদের ওপর কখনো বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু সার্বভৌম সংসদ আবার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না, যেটা বিচার বিভাগে গিয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হয়ে যাবে বা সংবিধান লঙ্ঘন হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'উভয় দিকে লক্ষ রেখে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আইনানুগভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যেতে হবে।' গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের জন্য আরেকটি আইন হয়েছে। বিএনপিও এটা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাঝখানে আদেশ জারি করে চারটি প্রশ্নে গণভোট দেওয়া হয়। যে প্রশ্নের মধ্যে একটি বিশাল প্রশ্ন জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতা হয়নি। এটি একটি জবরদস্তিমূলক আরোপিত আদেশ করে সেই আদেশের একটি প্রশ্ন গণভোটের মধ্যে দেওয়া হয়। চারটি প্রশ্ন হলেও মানুষ কোন প্রশ্নে 'হ্যাঁ' বা 'না' বলবে, সে বিকল্প ছিল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতাকে। তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটি বড় আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সমাধান দেওয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিশ দেবেন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেব।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


সংসদে বিতর্কে জড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন এবং বিষয়টি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তাঁকে মাইক দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে, যা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ জারি করা হয়। তিনি সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটা পড়ে শোনান। বলেন, ‘এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।’

জুলাই সনদ আদেশের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আদেশে বলা রয়েছে গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এটি গঠন হয়নি। তিনি আরও বলেন, যে পদ্ধতিতে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়, সেই একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

এবারের সংসদ সদস্যরা দুটি আলাদা ভোটের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন ক্ষমতায় (ক্যাপাসিটি) নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই আদেশ অনুসারে তাঁরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার সরকারি দল থেকে বক্তব্য আশা করলে জবাব দিতে দাঁড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুরুতে তিনি স্পিকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কোন বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব বা সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। সেই বিধিতে কোনো নোটিশ তিনি দিয়েছেন কি না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা বা সংবিধান পরিবর্তন হয় এমন কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন। মাঝামাঝি জিনিস।' এই আদেশটিকে 'আরোপিত' আদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদ আহ্বানও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেছেন। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সেটা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। ফলে রাষ্ট্রপতি সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, মর্মে আদালত রুল জারি করেছেন। এখানে হয়তো বিচার বিভাগ মতামত দেবে। তবে তাদের মতামত এই সার্বভৌম সংসদের ওপর কখনো বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু সার্বভৌম সংসদ আবার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না, যেটা বিচার বিভাগে গিয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হয়ে যাবে বা সংবিধান লঙ্ঘন হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'উভয় দিকে লক্ষ রেখে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আইনানুগভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যেতে হবে।' গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের জন্য আরেকটি আইন হয়েছে। বিএনপিও এটা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাঝখানে আদেশ জারি করে চারটি প্রশ্নে গণভোট দেওয়া হয়। যে প্রশ্নের মধ্যে একটি বিশাল প্রশ্ন জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতা হয়নি। এটি একটি জবরদস্তিমূলক আরোপিত আদেশ করে সেই আদেশের একটি প্রশ্ন গণভোটের মধ্যে দেওয়া হয়। চারটি প্রশ্ন হলেও মানুষ কোন প্রশ্নে 'হ্যাঁ' বা 'না' বলবে, সে বিকল্প ছিল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতাকে। তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটি বড় আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সমাধান দেওয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিশ দেবেন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেব।'


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত