হবিগঞ্জ বন বিভাগের স্পেশাল টিমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে চুনারুঘাটে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ এনে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুনারুঘাট পৌর শহরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডে এ সমাবেশের আয়োজন করে চুনারুঘাট কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।
কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন মহালদারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির চুনারুঘাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মীর সাহেব আলীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
কাঠ ব্যবসায়ী শফিক মিয়া মহালদার দাবি করেন, গত ৫ মার্চ গাজীপুর ইউনিয়নের বাগিয়ারগাও গ্রাম এলাকা থেকে একটি ট্রাক্টর আটকের ঘটনায় তার গাছ থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রোশে শানু মিয়া নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাক্টর ও চালককে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অপর কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর। তিনি সাধারণ মানুষকে মামলায় দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাচ্ছেন, যা নিন্দনীয়।
গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী নাসির মিয়া অভিযোগ করেন, নিয়মিত চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান নিজেকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের একান্ত লোক দাবি করে অনিয়ম করছেন।
ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য রাখেন। চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক মিয়া মহালদার প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
চুনারুঘাট ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিএনপি সরকারের সুনাম নষ্ট করছেন। তিনি তাকে ঘুষের নেশায় আসক্ত বলে মন্তব্য করেন।
চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিমউদ্দিন সামসু ও বিএনপি নেতা সৈয়দ লিয়াকত হাসান বক্তব্যে সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সৈয়দ লিয়াকত হাসান জানান, এ বিষয়ে তিনি মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এসময় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার করিম সরকার, যুবদলের সদস্য সচিব সাবেক কাউন্সিলর জালাল আহমেদ, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তোতাসহ শত শত সাধারণ কাঠ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দ্রুত ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানান, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
হবিগঞ্জ বন বিভাগের স্পেশাল টিমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে চুনারুঘাটে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ এনে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুনারুঘাট পৌর শহরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডে এ সমাবেশের আয়োজন করে চুনারুঘাট কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।
কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন মহালদারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির চুনারুঘাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মীর সাহেব আলীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
কাঠ ব্যবসায়ী শফিক মিয়া মহালদার দাবি করেন, গত ৫ মার্চ গাজীপুর ইউনিয়নের বাগিয়ারগাও গ্রাম এলাকা থেকে একটি ট্রাক্টর আটকের ঘটনায় তার গাছ থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রোশে শানু মিয়া নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাক্টর ও চালককে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অপর কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর। তিনি সাধারণ মানুষকে মামলায় দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাচ্ছেন, যা নিন্দনীয়।
গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী নাসির মিয়া অভিযোগ করেন, নিয়মিত চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমান নিজেকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের একান্ত লোক দাবি করে অনিয়ম করছেন।
ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য রাখেন। চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক মিয়া মহালদার প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
চুনারুঘাট ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ অভিযোগ করেন, ডেপুটি রেঞ্জার আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিএনপি সরকারের সুনাম নষ্ট করছেন। তিনি তাকে ঘুষের নেশায় আসক্ত বলে মন্তব্য করেন।
চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিমউদ্দিন সামসু ও বিএনপি নেতা সৈয়দ লিয়াকত হাসান বক্তব্যে সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সৈয়দ লিয়াকত হাসান জানান, এ বিষয়ে তিনি মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এসময় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার করিম সরকার, যুবদলের সদস্য সচিব সাবেক কাউন্সিলর জালাল আহমেদ, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তোতাসহ শত শত সাধারণ কাঠ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দ্রুত ডেপুটি রেঞ্জার আশিকুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানান, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।

আপনার মতামত লিখুন