সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

রেলসেবায় মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৫ ইঞ্জিন

৭০ বছরের ইঞ্জিন মেরামত করে চলছে ট্রেন


প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

৭০ বছরের ইঞ্জিন মেরামত করে চলছে ট্রেন
সৈয়দপুর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

রেল বিভাগে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে অধিকাংশ ট্রেন চলাচল করছে। ২৭১টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১২৫টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। পাকিস্তান আমলসহ বিভিন্ন সময়ের পুরনো নড়বড়ে ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। পুরোনো ইঞ্জিনের মধ্যে ৭০ বছর আগের ইঞ্জিন মেরামত করে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চালাচল করছে। এ ধরনের ইঞ্জিন আছে প্রায় ৭৬টি।

রেল ভবনের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত বিশ বছর চালানো পর ট্রেনের ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ হয়ে  যায়। এখন মেয়াদ্দোত্তীর্ণ পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন। 

একজন সিনিয়র রেল কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে একশটি ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে নতুন ইঞ্জিন কেনা সম্ভব হবে। নতুন ইঞ্জিন না আনা পর্যন্ত পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে কাজ চালানো হবে। শুধু ইঞ্জিন সংকটই নয়। রেলওয়ের যে ওয়ার্কশপ আছে সেখানেও নানামুখী সমস্যা রয়েছে। 

রেল ভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রেলওয়ের ওয়ার্কশপে নানামুখী সমস্যার কারণে পুরনো ইঞ্জিন মেরামত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।  পুরনো নড়বড়ে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সমস্যার কারনে বহু মেরামতের কাজ ঝুলে আছে।

চলন্ত ট্রেনে ঝাঁকুনি: দেশের অধিকাংশ রেলপথে চলন্ত ট্রেনে ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে।  রেলপথে পাথর ঘাটতির কারণে এই সমস্যা হচ্ছে।  আবার অনেক সময় কন্টেইনার বহনকারী ইঞ্জিনের ক্যাপাসিটির চেয়ে ওজন বেশি হলে রেল পথে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

রেলওয়ের একজন সিনিয়র অফিসার নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানায়, ট্রেনের ইঞ্জিন  আমদানির কার্যক্রম চলমান আছে। বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি আনার চেষ্টা চলছে। এই লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। 

এ সম্পর্কে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে শনিবার বিকেলে ৪টা ৩৮ মিনিটের সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর রহস্যজনক কারণে ফোনটি কেটে দেন। যে কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে রেল ভবন থেকে বলা হয়েছে, রেলের ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল। 

রেলের যন্ত্রাংশ চুরি: সারাদেশে রেলওয়ের সম্প্রতি চুরির ঘটনায় জিআরপি থানায় ৮৫টি  মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় মোট ১১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  চলতি বছরের গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি আরও ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সব মিলিয়ে গত ১৪ মাসে ৮৫টি মামলার মোট ১৩৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সব চুরির ঘটনায় মামলা হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

রেল পুলিশ জানায়, রেলওয়ের স্টেশন ও রেল লাইনের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় জিআরপি থানায় দায়ের করা মামলাগুলো তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত ১৩৭ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

রেল পুলিশ জানায়, অনেক চুরিরর ঘটনা রেল কর্তৃপক্ষ মামলা না করলেও পুলিশ বাদি হয়ে অভিযোগ করে তদন্ত করছেন।  চোরদল গাজীপুরের  জয়দেবপুর থেকে টঙ্গী, ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরি করছে। তদন্ত করে ইতোমধ্যে কয়েকটি চুরির ঘটনা তদন্ত ও চোর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথ, ৫শর বেশি স্টেশন, ইঞ্জিন মেরামতের কারখানা ৪টি, বগি মেরামতের কারখানা  ২টি। আর ছোট ছোট মেরামতের কারখানা রয়েছে।  এসব কারখানাও চুরির ঘটনা ঘটছে।  পার্বতীপুর, সৈয়দপুর,পাহ্ড়াতলী, ঢাকায় কারখানা আছে। 

চোরদল পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে যন্ত্রপাতি চুরি করছে। আখাউড়া, ভৈরব, টঙ্গী ও জয়দেবপুরে চুরির ঘটনার তথ্য রয়েছে।  চোরেরা লোহার টুকরো, ক্যাবল চুরি করে নিয়ে যায়।  ক্যাবলের ভেতর থেকে তামার তার বের করে তা কেজি হিসাবে বিক্রি করে দেয়। আবার ছোটখাট লোহার টুকরোগুলো চুরি করে কেজি হিসাবে বিক্রি  করে দিচ্ছে।  ট্রেনের ছাদে, চলন্ত ট্রেনে ও স্টেশনে এসব চুরি অহরহ হচ্ছে। 

রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তার চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল ইসলাম মুঠোফোনে সংবাদকে বলেন, ট্রেনের ছাদে উঠে চুরি বন্ধ করতে এখন ছাদে উঠানো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।  অনেক সময় পরিত্যক্ত বা কেটে লোহার যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। 

রেলওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত কমান্ডেন্ট বলেন, সারাদেশে ৫শর বেশি রেল স্টেশন ও ৬টি কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তায় ৩ হাজার ৪শ জনবল আছে।  তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছে এক হাজার ৭শ জন। এত কম জনবল দিয়ে রেল স্টেশন, চলন্ত  ট্রেনের নিরাপত্তা দেয়া কষ্টকর। এরপর আবার রেলওয়ের বিভিন্ন ডিপোর মালামালও রয়েছে।   এরমধ্যে ক্যাবল চুরি ঠেকাতে মাঝে মধ্যে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রলিতে পেট্রোল ডিউটিও করেন। 

রেলওয়ের আউটার সিগনালের যন্ত্রাংশ লোহার খাঁচা দিয়ে আটকে রাখলে তা মানছে না। সেখান থেকেও চুরি হচ্ছে। ৫শ স্টেশন পালাক্রমে পাহারা দিতে হয়। এরমধ্যে চোরদল   ক্যাবল, এসির যন্ত্রণাংশ, বগি সংযোগের লোহার যন্ত্রাংশ, সিগনালের জিসিপত্র চুরি হচ্ছে। এসব জিনিস কেজি হিসাবে বিক্রি করছে।

ভৈরবে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন থামলে, সেখান থেকে কৌশলে চোরদল চলন্ত ট্রেনের সংযোগ নাট খুলে নিয়ে যায়। আর এর জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। 

রেল ভবনের একজন সিনিয়র অফিসার সংবাদকে বলেন, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরি এখন বড় সমস্যা।  আগেও চুরি হত। সম্প্রতি চুরি বেড়ে গেছে।  চুরি না হলে রেল ভবন পর্যন্ত খবর আসে না। এছাড়াও ছোটখাট ঘটনা প্রায় হচ্ছে।  রেলওয়ের নিরাপত্তাবাহিনী ও রেল পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়েছে।  আবার অনেক ঘটনায় এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা অভিযোগও করেন না। ফলে চুরি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। 

রেল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান সংবাদকে বলেন, ঈদমুখী যাত্রীদের বাড়তি নিরাপত্তায় কমলাপুর, এয়ারপোর্ট, জয়দেবপুর ও  চট্রগ্রাম রেল স্টেশনে বাড়তি এপিবিএন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।  যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে তার জন্য রেল পুলিশ তৎপর রয়েছে। কমলাপুরে ঈদ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে।  পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধে রেল পুলিশ কাজ করছেন। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


৭০ বছরের ইঞ্জিন মেরামত করে চলছে ট্রেন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

রেল বিভাগে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে অধিকাংশ ট্রেন চলাচল করছে। ২৭১টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১২৫টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। পাকিস্তান আমলসহ বিভিন্ন সময়ের পুরনো নড়বড়ে ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। পুরোনো ইঞ্জিনের মধ্যে ৭০ বছর আগের ইঞ্জিন মেরামত করে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চালাচল করছে। এ ধরনের ইঞ্জিন আছে প্রায় ৭৬টি।

রেল ভবনের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত বিশ বছর চালানো পর ট্রেনের ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ হয়ে  যায়। এখন মেয়াদ্দোত্তীর্ণ পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন। 

একজন সিনিয়র রেল কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে একশটি ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে নতুন ইঞ্জিন কেনা সম্ভব হবে। নতুন ইঞ্জিন না আনা পর্যন্ত পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে কাজ চালানো হবে। শুধু ইঞ্জিন সংকটই নয়। রেলওয়ের যে ওয়ার্কশপ আছে সেখানেও নানামুখী সমস্যা রয়েছে। 

রেল ভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রেলওয়ের ওয়ার্কশপে নানামুখী সমস্যার কারণে পুরনো ইঞ্জিন মেরামত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।  পুরনো নড়বড়ে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সমস্যার কারনে বহু মেরামতের কাজ ঝুলে আছে।

চলন্ত ট্রেনে ঝাঁকুনি: দেশের অধিকাংশ রেলপথে চলন্ত ট্রেনে ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে।  রেলপথে পাথর ঘাটতির কারণে এই সমস্যা হচ্ছে।  আবার অনেক সময় কন্টেইনার বহনকারী ইঞ্জিনের ক্যাপাসিটির চেয়ে ওজন বেশি হলে রেল পথে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

রেলওয়ের একজন সিনিয়র অফিসার নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানায়, ট্রেনের ইঞ্জিন  আমদানির কার্যক্রম চলমান আছে। বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি আনার চেষ্টা চলছে। এই লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। 

এ সম্পর্কে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে শনিবার বিকেলে ৪টা ৩৮ মিনিটের সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর রহস্যজনক কারণে ফোনটি কেটে দেন। যে কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে রেল ভবন থেকে বলা হয়েছে, রেলের ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল। 

রেলের যন্ত্রাংশ চুরি: সারাদেশে রেলওয়ের সম্প্রতি চুরির ঘটনায় জিআরপি থানায় ৮৫টি  মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় মোট ১১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  চলতি বছরের গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি আরও ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সব মিলিয়ে গত ১৪ মাসে ৮৫টি মামলার মোট ১৩৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সব চুরির ঘটনায় মামলা হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

রেল পুলিশ জানায়, রেলওয়ের স্টেশন ও রেল লাইনের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় জিআরপি থানায় দায়ের করা মামলাগুলো তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত ১৩৭ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

রেল পুলিশ জানায়, অনেক চুরিরর ঘটনা রেল কর্তৃপক্ষ মামলা না করলেও পুলিশ বাদি হয়ে অভিযোগ করে তদন্ত করছেন।  চোরদল গাজীপুরের  জয়দেবপুর থেকে টঙ্গী, ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরি করছে। তদন্ত করে ইতোমধ্যে কয়েকটি চুরির ঘটনা তদন্ত ও চোর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথ, ৫শর বেশি স্টেশন, ইঞ্জিন মেরামতের কারখানা ৪টি, বগি মেরামতের কারখানা  ২টি। আর ছোট ছোট মেরামতের কারখানা রয়েছে।  এসব কারখানাও চুরির ঘটনা ঘটছে।  পার্বতীপুর, সৈয়দপুর,পাহ্ড়াতলী, ঢাকায় কারখানা আছে। 

চোরদল পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে যন্ত্রপাতি চুরি করছে। আখাউড়া, ভৈরব, টঙ্গী ও জয়দেবপুরে চুরির ঘটনার তথ্য রয়েছে।  চোরেরা লোহার টুকরো, ক্যাবল চুরি করে নিয়ে যায়।  ক্যাবলের ভেতর থেকে তামার তার বের করে তা কেজি হিসাবে বিক্রি করে দেয়। আবার ছোটখাট লোহার টুকরোগুলো চুরি করে কেজি হিসাবে বিক্রি  করে দিচ্ছে।  ট্রেনের ছাদে, চলন্ত ট্রেনে ও স্টেশনে এসব চুরি অহরহ হচ্ছে। 

রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তার চিফ কমান্ডেন্ট আশাবুল ইসলাম মুঠোফোনে সংবাদকে বলেন, ট্রেনের ছাদে উঠে চুরি বন্ধ করতে এখন ছাদে উঠানো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।  অনেক সময় পরিত্যক্ত বা কেটে লোহার যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। 

রেলওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত কমান্ডেন্ট বলেন, সারাদেশে ৫শর বেশি রেল স্টেশন ও ৬টি কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তায় ৩ হাজার ৪শ জনবল আছে।  তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছে এক হাজার ৭শ জন। এত কম জনবল দিয়ে রেল স্টেশন, চলন্ত  ট্রেনের নিরাপত্তা দেয়া কষ্টকর। এরপর আবার রেলওয়ের বিভিন্ন ডিপোর মালামালও রয়েছে।   এরমধ্যে ক্যাবল চুরি ঠেকাতে মাঝে মধ্যে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রলিতে পেট্রোল ডিউটিও করেন। 

রেলওয়ের আউটার সিগনালের যন্ত্রাংশ লোহার খাঁচা দিয়ে আটকে রাখলে তা মানছে না। সেখান থেকেও চুরি হচ্ছে। ৫শ স্টেশন পালাক্রমে পাহারা দিতে হয়। এরমধ্যে চোরদল   ক্যাবল, এসির যন্ত্রণাংশ, বগি সংযোগের লোহার যন্ত্রাংশ, সিগনালের জিসিপত্র চুরি হচ্ছে। এসব জিনিস কেজি হিসাবে বিক্রি করছে।

ভৈরবে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন থামলে, সেখান থেকে কৌশলে চোরদল চলন্ত ট্রেনের সংযোগ নাট খুলে নিয়ে যায়। আর এর জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। 

রেল ভবনের একজন সিনিয়র অফিসার সংবাদকে বলেন, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরি এখন বড় সমস্যা।  আগেও চুরি হত। সম্প্রতি চুরি বেড়ে গেছে।  চুরি না হলে রেল ভবন পর্যন্ত খবর আসে না। এছাড়াও ছোটখাট ঘটনা প্রায় হচ্ছে।  রেলওয়ের নিরাপত্তাবাহিনী ও রেল পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়েছে।  আবার অনেক ঘটনায় এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা অভিযোগও করেন না। ফলে চুরি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। 

রেল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান সংবাদকে বলেন, ঈদমুখী যাত্রীদের বাড়তি নিরাপত্তায় কমলাপুর, এয়ারপোর্ট, জয়দেবপুর ও  চট্রগ্রাম রেল স্টেশনে বাড়তি এপিবিএন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।  যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে তার জন্য রেল পুলিশ তৎপর রয়েছে। কমলাপুরে ঈদ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে।  পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধে রেল পুলিশ কাজ করছেন। 



সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত