মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। বিশেষ করে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এমন সংকটকালীন মুহূর্তে
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখতে এবং জরুরি মজুদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে
সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি
ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাইভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোগ্যাস
ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন’ থেকে এই জ্বালানি তেল সংগ্রহের একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয়
সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী,
১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন (অকটেন) আমদানিতে সরকারের
সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২ হাজার
৪৬ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকার সমান।
জ্বালানি বিভাগ
থেকে তৈরি করা এক সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু
হওয়া অস্থিরতার প্রভাবে অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করেছে। বিশেষ করে কাতার
ও ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তরল জ্বালানির চাহিদা ও দাম—উভয়ই
বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে
দেশে ডিজেলের যে মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র ১৩ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই স্বল্পকালীন
মজুদ এবং আমদানির পাইপলাইনে থাকা বেশ কিছু চালানের অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে সরকার দ্রুত
এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিপিসি সাধারণত
উন্মুক্ত দরপত্র এবং জি-টু-জি পদ্ধতিতে তেল আমদানি করলেও বর্তমান বৈশ্বিক বিপর্যয়কর
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের বিশেষ ধারা অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি
অনুসরণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,
পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে যে দামে তেল কেনা হচ্ছে, তা আগের আন্তর্জাতিক দরপত্রের
তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। যেখানে আগে প্রতি ব্যারেলে প্রিমিয়াম দিতে হতো ৪ ডলারের বেশি,
সেখানে বর্তমান সংকটের মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩ ডলার প্রিমিয়ামে তেল সরবরাহে রাজি
হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের
এই সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত
সূচি অনুযায়ী তেলবাহী জাহাজ আসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য খোলা
এলসিগুলোর অনেক চালানেরই এখন পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় সরবরাহ
শৃঙ্খল ঠিক রাখতে বিকল্প উৎস হিসেবে সৌদি রাজপরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মন্ত্রী এই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন এবং দ্রুতই এটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে চূড়ান্ত
অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। বিশেষ করে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এমন সংকটকালীন মুহূর্তে
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখতে এবং জরুরি মজুদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে
সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি
ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাইভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোগ্যাস
ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন’ থেকে এই জ্বালানি তেল সংগ্রহের একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয়
সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী,
১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন (অকটেন) আমদানিতে সরকারের
সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২ হাজার
৪৬ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকার সমান।
জ্বালানি বিভাগ
থেকে তৈরি করা এক সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু
হওয়া অস্থিরতার প্রভাবে অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করেছে। বিশেষ করে কাতার
ও ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তরল জ্বালানির চাহিদা ও দাম—উভয়ই
বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে
দেশে ডিজেলের যে মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র ১৩ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই স্বল্পকালীন
মজুদ এবং আমদানির পাইপলাইনে থাকা বেশ কিছু চালানের অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে সরকার দ্রুত
এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিপিসি সাধারণত
উন্মুক্ত দরপত্র এবং জি-টু-জি পদ্ধতিতে তেল আমদানি করলেও বর্তমান বৈশ্বিক বিপর্যয়কর
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের বিশেষ ধারা অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি
অনুসরণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,
পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে যে দামে তেল কেনা হচ্ছে, তা আগের আন্তর্জাতিক দরপত্রের
তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। যেখানে আগে প্রতি ব্যারেলে প্রিমিয়াম দিতে হতো ৪ ডলারের বেশি,
সেখানে বর্তমান সংকটের মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩ ডলার প্রিমিয়ামে তেল সরবরাহে রাজি
হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের
এই সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত
সূচি অনুযায়ী তেলবাহী জাহাজ আসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য খোলা
এলসিগুলোর অনেক চালানেরই এখন পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় সরবরাহ
শৃঙ্খল ঠিক রাখতে বিকল্প উৎস হিসেবে সৌদি রাজপরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মন্ত্রী এই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন এবং দ্রুতই এটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে চূড়ান্ত
অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন