সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় ৮৫ মামলায় ১৩৭জন গ্রেপ্তার

মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৫টি ইঞ্জিন দিয়ে চলছে ট্রেন


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৫টি ইঞ্জিন দিয়ে চলছে ট্রেন

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন কার্যত মেয়াদোত্তীর্ণ নড়বড়ে ইঞ্জিনের ওপর ভর করে চলছে। রেলওয়ের মোট ২৭১টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১২৫টিই তাদের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পার করেছে অনেক আগেই।

এমনকি পাকিস্তান আমলের ৭০ বছরের পুরনো ইঞ্জিন জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে বেশ কিছু রুটে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ইঞ্জিনগুলোর সংখ্যা বর্তমানে ৭৬টি। রেল ভবনের নিয়ম অনুযায়ী একটি ইঞ্জিনের সাধারণ মেয়াদ ২০ বছর হলেও, এখানে যুগের পর যুগ ধরে সেগুলো টেনে নেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন আর যন্ত্রাংশের সংকটে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় যান্ত্রিক ত্রুটি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ১০০টি ইঞ্জিন কেনার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে ইঞ্জিন সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন ইঞ্জিন না আসা পর্যন্ত এই পুরনো ইঞ্জিনগুলোই সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। শুধু ইঞ্জিন নয়, রেলের ওয়ার্কশপগুলোতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে পাহাড়তলী বা সৈয়দপুরের মতো কারখানাগুলোতে সংস্কার কাজ ঝুলে আছে।

এ ছাড়া রেলপথে পর্যাপ্ত পাথর না থাকা এবং ক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের কন্টেইনার পরিবহনের কারণে যাত্রীদের চলন্ত ট্রেনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রেলওয়ের সম্পদ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। গত ১৪ মাসে সারা দেশে রেলের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় মোট ৮৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই হয়েছে ১৪টি মামলা। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।

তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চুরির সব ঘটনায় মামলা না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে জয়দেবপুর, টঙ্গী, ভৈরব আখাউড়া এলাকায় চোরচক্র সবচাইতে বেশি সক্রিয়। তারা রেলের মূল্যবান ক্যাবল কেটে ভেতরের তামা বের করে কেজি দরে বিক্রি করে দিচ্ছে। এমনকি ট্রেনের ছাদে উঠে বা চলন্ত ট্রেনের সংযোগ নাট খুলে নেওয়ার মতো ভয়ানক কাণ্ডও ঘটছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সামলানোর জন্য জনবল অত্যন্ত নগণ্য। সারাদেশে প্রায় হাজার কিলোমিটার রেলপথ এবং ৫০০ বেশি স্টেশনের নিরাপত্তার জন্য পদ হাজার ৪০০টি হলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র হাজার ৭০০ জন। অর্ধেক জনবল দিয়ে সিগন্যাল বক্স, এসির যন্ত্রাংশ এবং বগির সরঞ্জাম পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় লোহার খাঁচা দিয়ে সরঞ্জাম আটকে রেখেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভৈরবের মতো স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামামাত্রই চোরচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অনেকেই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে রেল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমলাপুর, বিমানবন্দর চট্টগ্রামসহ প্রধান স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবা দিতে হেল্প ডেস্কের পাশাপাশি চুরি ছিনতাই রোধে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে রেল পুলিশ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনবল সংকট পুরনো যন্ত্রাংশের সীমাবদ্ধতা রেলের সেবাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৫টি ইঞ্জিন দিয়ে চলছে ট্রেন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন কার্যত মেয়াদোত্তীর্ণ নড়বড়ে ইঞ্জিনের ওপর ভর করে চলছে। রেলওয়ের মোট ২৭১টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১২৫টিই তাদের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পার করেছে অনেক আগেই।

এমনকি পাকিস্তান আমলের ৭০ বছরের পুরনো ইঞ্জিন জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে বেশ কিছু রুটে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ইঞ্জিনগুলোর সংখ্যা বর্তমানে ৭৬টি। রেল ভবনের নিয়ম অনুযায়ী একটি ইঞ্জিনের সাধারণ মেয়াদ ২০ বছর হলেও, এখানে যুগের পর যুগ ধরে সেগুলো টেনে নেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন আর যন্ত্রাংশের সংকটে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় যান্ত্রিক ত্রুটি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ১০০টি ইঞ্জিন কেনার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে ইঞ্জিন সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন ইঞ্জিন না আসা পর্যন্ত এই পুরনো ইঞ্জিনগুলোই সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। শুধু ইঞ্জিন নয়, রেলের ওয়ার্কশপগুলোতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে পাহাড়তলী বা সৈয়দপুরের মতো কারখানাগুলোতে সংস্কার কাজ ঝুলে আছে।

এ ছাড়া রেলপথে পর্যাপ্ত পাথর না থাকা এবং ক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের কন্টেইনার পরিবহনের কারণে যাত্রীদের চলন্ত ট্রেনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রেলওয়ের সম্পদ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। গত ১৪ মাসে সারা দেশে রেলের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় মোট ৮৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই হয়েছে ১৪টি মামলা। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।

তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চুরির সব ঘটনায় মামলা না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে জয়দেবপুর, টঙ্গী, ভৈরব আখাউড়া এলাকায় চোরচক্র সবচাইতে বেশি সক্রিয়। তারা রেলের মূল্যবান ক্যাবল কেটে ভেতরের তামা বের করে কেজি দরে বিক্রি করে দিচ্ছে। এমনকি ট্রেনের ছাদে উঠে বা চলন্ত ট্রেনের সংযোগ নাট খুলে নেওয়ার মতো ভয়ানক কাণ্ডও ঘটছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সামলানোর জন্য জনবল অত্যন্ত নগণ্য। সারাদেশে প্রায় হাজার কিলোমিটার রেলপথ এবং ৫০০ বেশি স্টেশনের নিরাপত্তার জন্য পদ হাজার ৪০০টি হলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র হাজার ৭০০ জন। অর্ধেক জনবল দিয়ে সিগন্যাল বক্স, এসির যন্ত্রাংশ এবং বগির সরঞ্জাম পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় লোহার খাঁচা দিয়ে সরঞ্জাম আটকে রেখেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভৈরবের মতো স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামামাত্রই চোরচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অনেকেই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে রেল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমলাপুর, বিমানবন্দর চট্টগ্রামসহ প্রধান স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবা দিতে হেল্প ডেস্কের পাশাপাশি চুরি ছিনতাই রোধে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে রেল পুলিশ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনবল সংকট পুরনো যন্ত্রাংশের সীমাবদ্ধতা রেলের সেবাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত