সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কদর বাড়ছে হাতে তৈরি পাখির বাসার



কদর বাড়ছে হাতে তৈরি পাখির বাসার
ছবি : সংবাদ

বাবুই পাখিকে বলা হয় শিল্পের কারিগর। বাসা তৈরিতে এদের নিপুণ দক্ষতা সবার জানা। এক সময় গ্রাম-বাংলার তাল-খেজুর গাছে চোখে পড়ত এসব বাসা।

কালের বিবর্তনে পাখিটি এখন বিলুপ্তির পথে। দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির মতো হলেও বাস্তবে এরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল। শুধু নিজের ঠোঁটের জোরে ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তারা তৈরি করে মজবুত ও আরামদায়ক বাসা। পাখির রাজ্যে এভাবেই বাসা তৈরির ক্ষমতা আর কারও নেই বললেই চলে।

এই পাখির বাসার প্রতি মানুষের রয়েছে এক অন্য রকম আকর্ষণ। আর সেই আকর্ষণকে পুঁজি করে কৃত্রিম বাসা তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন হাতে তৈরি বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেকেই।

গত কয়েক দিন ধরে চিতলমারী সদর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এসব বাসা বিক্রি করছেন।

বাসা কিনতে উৎসুক ক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষ করা গেছে। আবার অনেকে শুধু এক নজর দেখার জন্যও ভিড় করছেন। বাসাগুলো অনেকটা বাবুই পাখির বাসার আদলেই তৈরি করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কেনার আগ্রহ বাড়ছে। ঘরে শোভাবর্ধনের জন্যই মূলত হাতে তৈরি এসব বাসা কিনছেন অনেকে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. আল মামুন শেখ ও সুমন শেখ জানান, তারা পার্শ্ববর্তী পাটরপাড়া গ্রাম থেকে বাসাগুলো কিনে এনেছেন।

চিতলমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সেগুলো বিক্রি করে তাদের ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি সংসার চালাচ্ছেন। প্রতি পিচ পাখির বাসা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। বিক্রিতে ক্রেতাদেরও সাড়া মিলছে বলে জানান এই ব্যবসায়ীরা।

এলাকার পাখিপ্রেমী বাবলু মণ্ডল জানান, বাবুই পাখির এখন উপযুক্ত বাসস্থান নেই। পাশাপাশি খাদ্যসংকটের কারণেও পাখিটি দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া শিকারিরাও মেরে ফেলছে তাদের। এক সময় হয়তো পাখিটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তবে তাদের ব্যতিক্রমী বাসা তৈরির দক্ষতার কারণে গল্প-কবিতায় তারা চিরকাল বইয়ের পাতায় বেঁচে থাকবে। এমন হাতে তৈরি বাসা দেখলে যে কারও মনে পড়ে যায় বাবুই পাখির নিপুণ দক্ষতার কথা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


কদর বাড়ছে হাতে তৈরি পাখির বাসার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

বাবুই পাখিকে বলা হয় শিল্পের কারিগর। বাসা তৈরিতে এদের নিপুণ দক্ষতা সবার জানা। এক সময় গ্রাম-বাংলার তাল-খেজুর গাছে চোখে পড়ত এসব বাসা।

কালের বিবর্তনে পাখিটি এখন বিলুপ্তির পথে। দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির মতো হলেও বাস্তবে এরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল। শুধু নিজের ঠোঁটের জোরে ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তারা তৈরি করে মজবুত ও আরামদায়ক বাসা। পাখির রাজ্যে এভাবেই বাসা তৈরির ক্ষমতা আর কারও নেই বললেই চলে।

এই পাখির বাসার প্রতি মানুষের রয়েছে এক অন্য রকম আকর্ষণ। আর সেই আকর্ষণকে পুঁজি করে কৃত্রিম বাসা তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন হাতে তৈরি বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেকেই।

গত কয়েক দিন ধরে চিতলমারী সদর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এসব বাসা বিক্রি করছেন।

বাসা কিনতে উৎসুক ক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষ করা গেছে। আবার অনেকে শুধু এক নজর দেখার জন্যও ভিড় করছেন। বাসাগুলো অনেকটা বাবুই পাখির বাসার আদলেই তৈরি করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কেনার আগ্রহ বাড়ছে। ঘরে শোভাবর্ধনের জন্যই মূলত হাতে তৈরি এসব বাসা কিনছেন অনেকে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. আল মামুন শেখ ও সুমন শেখ জানান, তারা পার্শ্ববর্তী পাটরপাড়া গ্রাম থেকে বাসাগুলো কিনে এনেছেন।

চিতলমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সেগুলো বিক্রি করে তাদের ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি সংসার চালাচ্ছেন। প্রতি পিচ পাখির বাসা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। বিক্রিতে ক্রেতাদেরও সাড়া মিলছে বলে জানান এই ব্যবসায়ীরা।

এলাকার পাখিপ্রেমী বাবলু মণ্ডল জানান, বাবুই পাখির এখন উপযুক্ত বাসস্থান নেই। পাশাপাশি খাদ্যসংকটের কারণেও পাখিটি দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া শিকারিরাও মেরে ফেলছে তাদের। এক সময় হয়তো পাখিটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তবে তাদের ব্যতিক্রমী বাসা তৈরির দক্ষতার কারণে গল্প-কবিতায় তারা চিরকাল বইয়ের পাতায় বেঁচে থাকবে। এমন হাতে তৈরি বাসা দেখলে যে কারও মনে পড়ে যায় বাবুই পাখির নিপুণ দক্ষতার কথা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত