সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বাবার পথেই ছেলে

৫০ বছর পর রাষ্ট্রপতির সেই স্মৃতি ফেরালেন প্রধানমন্ত্রী


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬

৫০ বছর পর রাষ্ট্রপতির সেই স্মৃতি ফেরালেন প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের এক অনন্য পুনরাবৃত্তির সাক্ষী হলো উত্তরবঙ্গের মাটি। ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন, শুরু করেছিলেন খাল খনন কর্মসূচি।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর ২০২৬ সালে দিনাজপুরের কাহারোলের সাহাপাড়ায় সেই একই দৃশ্যের অবতারণা করলেন তাঁরই সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে তিনি একযোগে দেশের ৫৩টি খাল খনন পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। ১২ দশমিক কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কাজের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা।

কাহারোলের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে গ্রামের সাধারণ মানুষের শ্রমে। বর্তমানে পলি জমে নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় যেমন বন্যার প্রকোপ বাড়ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে মাঠ চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বর্ষার পানি ধরে রেখে তা চাষাবাদে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। দিনাজপুরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের অন্তত ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন, যা দেশের সামগ্রিক ফসল উৎপাদনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরসবুজ বিপ্লব স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের জন্য একমোক্ষম দাওয়াই’। সেই সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিজিয়া মডেলহিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিলো এবং প্রায় ৫২ লাখ একর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলো; যা তৎকালীন দুর্ভিক্ষপ্রবণ পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।

সেই স্মৃতি সফলতাকে সামনে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও মনে করেন, নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে একদিকে যেমন বর্ষায় বন্যা হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে তীব্র খরা। এই প্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলা এবং বর্ষার পানি ধরে রেখে তা সেচ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই পুনঃখনন প্রকল্প অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিলো।

মূলত ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্মৃতিকেই নতুন আঙ্গিকে আধুনিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে আনলেন। কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি কেবল মাটিই কাটেননি, বরং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন দেশবাসীর কাছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, নদী খাল রক্ষা করতে পারলেই এদেশের প্রকৃতি অর্থনীতি রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার কেবল কথায় নয়, বরং কাজে বিশ্বাসী। কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশকে একটি সত্যিকারের স্বনির্ভর পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর প্রশাসনের অঙ্গীকার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


৫০ বছর পর রাষ্ট্রপতির সেই স্মৃতি ফেরালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইতিহাসের এক অনন্য পুনরাবৃত্তির সাক্ষী হলো উত্তরবঙ্গের মাটি। ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন, শুরু করেছিলেন খাল খনন কর্মসূচি।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর ২০২৬ সালে দিনাজপুরের কাহারোলের সাহাপাড়ায় সেই একই দৃশ্যের অবতারণা করলেন তাঁরই সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে তিনি একযোগে দেশের ৫৩টি খাল খনন পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। ১২ দশমিক কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কাজের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা।

কাহারোলের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে গ্রামের সাধারণ মানুষের শ্রমে। বর্তমানে পলি জমে নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় যেমন বন্যার প্রকোপ বাড়ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে মাঠ চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বর্ষার পানি ধরে রেখে তা চাষাবাদে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। দিনাজপুরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের অন্তত ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন, যা দেশের সামগ্রিক ফসল উৎপাদনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরসবুজ বিপ্লব স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের জন্য একমোক্ষম দাওয়াই’। সেই সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিজিয়া মডেলহিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিলো এবং প্রায় ৫২ লাখ একর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলো; যা তৎকালীন দুর্ভিক্ষপ্রবণ পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।

সেই স্মৃতি সফলতাকে সামনে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও মনে করেন, নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে একদিকে যেমন বর্ষায় বন্যা হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে তীব্র খরা। এই প্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলা এবং বর্ষার পানি ধরে রেখে তা সেচ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই পুনঃখনন প্রকল্প অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিলো।

মূলত ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্মৃতিকেই নতুন আঙ্গিকে আধুনিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে আনলেন। কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি কেবল মাটিই কাটেননি, বরং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন দেশবাসীর কাছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, নদী খাল রক্ষা করতে পারলেই এদেশের প্রকৃতি অর্থনীতি রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার কেবল কথায় নয়, বরং কাজে বিশ্বাসী। কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশকে একটি সত্যিকারের স্বনির্ভর পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর প্রশাসনের অঙ্গীকার।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত