সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ভাওয়ালের বন আগুনে পোড়ে, দেখে না কেউ


কামরুজ্জামান
কামরুজ্জামান
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬

ভাওয়ালের বন আগুনে পোড়ে, দেখে না কেউ
বিঘার পর বিঘা বনভ‚মি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই

প্রতি বছর মার্চ মাস আসলেই ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কে বা কারা এই কাজটি করে তার কোনো হদিস পাওয়া যায় না। ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মি পত্র পতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। এখানের প্রায় সব গাছই শাল বৃক্ষ যা স্থানীয়ভাবে গজারি নামে পরিচিত। এই জন্য এই বনভ‚মিকে গজারি বৃক্ষের বনভূমিও ডাকা হয়। এই বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - শীতের শেষে সব পাতা ঝরে পড়ে।

ভাওয়ালগড় মূলত বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক ভূমিরূপ প্লাস্টোসিন চত্বরের ভূমিরূপের অংশ যা গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। প্লাস্টোসিন চত্বরের আরও কিছু অংশ রয়েছে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায়। ভাওয়ালের বনভ‚মি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড়, শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিমাংশ এবং কালিয়াকৈর উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।

ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মিতে দেখা যায় প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গা আগুনে পুড়ছে। দেখেই বুঝা যায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিঘার পর বিঘা বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই।

ভাওয়ালগড়ের বনভূমিতে যে গজারি বৃক্ষ জন্মে তার সব পাতা ফেব্রæয়ারীর শেষের দিকে কিংবা মার্চ মাসে ঝরে পড়ে। এই সব পাতা মাটিতে পড়ে জমা হয়। পুরো বন জুড়ে শুকনো পাতা ও ডালপালায় ভরে যায়। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা অতি উৎসাহী অসচেতন মানুষ এই সব পড়ে থাকা শুকনো পাতা ও ডালপালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে বনভূমি আগুনে পুড়তে থাকে দাউদাউ করে। বনের পাশ দিয়ে গেলেই এই দৃশ্য দেখা যায়।

বাংলাদেশে বনভূমি প্রতিনিয়ত কমছে। একক বনভূমি হিসাবে ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ আধার। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ বনভূমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। অথচ এই বনভূমি আজ দখল, দূষণ ও আগুনে পুড়ে হুমকির সম্মুখীন।

আগুন ধরিয়ে দেয়ার যতগুলো কারণ আছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে - কিছু মানুষের খামখেয়ালিপনা। বনের ভিতর বাইদ জমিতে গরুছাগল নেয়া হয় ঘাস খাওয়ানোর জন্য। গরুছাগল যারা দেখাশোনা করে তারাই বনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও একটি বিষয় হচ্ছে- ভাওয়ালগড় ও শ্রীপুর অঞ্চল শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে রয়েছে অসংখ্য মানুষের বসবাস। নিম্ন আয়ের মানুষ রান্নার জ্বালানি হিসাবে এ বনের পাতা লতা ও ডালপালা ব্যবহার করে। শুষ্ক মৌসুম আসলেই এরা বনে আগুন দেয় এবং পুড়ে যাওয়া ডালপালা গাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যায় রান্নার জন্য।

ভাওয়ালের বনে প্রতি বছর আগুন দেয়ার কারণে গাছ মরে যাচ্ছে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে, নতুন বৃক্ষের জন্ম ও বেড়ে উঠা ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। সর্বোপরি দিন দিন ভাওয়ালগড়ের আয়তন কমে আসছে।

ভাওয়ালগড়ের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশের গাছগুলোর দিকে তাকালে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। দুই পাশের গাছগুলো দিনদিন উজাড় হচ্ছে এবং বিভিন্ন রকমের দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠছে। রাস্তার পাশের গাছগুলো মরে যাওয়ার পেছনে আগুন ধরিয়ে দেয়া যেমন কাজ করে তেমনি গাছের গোড়ায় গরম পানি ঢেলে দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। আগুনের তাপে ছোট বড় সকল ধরনের গাছই জীবনী-শক্তি হারিয়ে আস্তে আস্তে মারা যায়। বিশেষ করে ছোট ছোট চারা গাছগুলো বড় হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বন আগুন দেয়া।

বনে আগুন দেয়ার কারণে প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। লোকমুখে কথিত আছে, ভাওয়ালগড়ে একসময় বাঘ বসবাস করতো। এছাড়া নানা রকমের পশুপাখি তো ছিলোই। কালের পরিক্রমায় ভাওয়ালগড়ে এখন বন্য প্রাণীর সংখ্যাও অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। প্রতিবছর বনে আগুন দেয়ার কারণে ছোট ছোট পোকামাকড় সাপ বেঁজি গুইসাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। গাছ মরে যাওয়ার কারণে বন্য প্রাণীগুলো খাদ্য সংকটে ভুগছে। প্রায় সময়ই দেখা যায় বনের বানরগুলো খাদ্য সংগ্রহ করতে লোকালয়ে চলে আসে।

শুধুমাত্র বনে আগুন দেয়ার কারণে নতুন বৃক্ষের জন্ম ও বেড়ে উঠা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্চের এই সময়টাতে বনে আগুন দেয়ার কারণে বনের নিচে পড়ে থাকা লতাপাতা ও ডালপালা পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট গাছগুলোও পুড়ে যায়। চারাগাছ বড় হওয়ার জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ প্রয়োজন। এভাবে আগুন দিয়ে বন পুড়িয়ে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত করা হচ্ছে প্রতিবছর।

ভাওয়ালগড়ের বনে আগুন সন্ত্রাসের কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সহাবস্থান ধ্বংস হচ্ছে প্রতি নিয়ত। নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ভাওয়ালগড়ের স্থল, জল ও বায়ুতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের মধ্যে যে জিনগত, প্রজাতিগত এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বা ভিন্নতা দেখা যায় তাই এখানকার জীববৈচিত্র্য। এটি মূলত জীবকূলের ভিন্নতা ও জীবন ধারণের বৈচিত্র্যময়তাকে বোঝায়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ভাওয়ালগড়ের বনভূমির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন।

ভাওয়ালগড়ের বনভূমিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বন বিভাগের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে জনবল বাড়িয়ে বাড়তি মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এর জন্য বনে আগুন দেয়ার কুফল সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। বন বিভাগের উদ্যোগে বনে আগুন দেয়া প্রতিরোধে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের তত্বাবধানও প্রয়োজন। প্রয়োজন প্রশাসনিক তদারকি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

সুন্দরবনের পরেই একক বনভূমি হিসাবে ভাওয়ালের বনভূমির অবস্থান। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবশ্যই অবশ্যই ভাওয়ালের বনে আগুন দেয়া বন্ধ করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং সবার সচেতনতা বৃদ্ধি।

[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


ভাওয়ালের বন আগুনে পোড়ে, দেখে না কেউ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image




প্রতি বছর মার্চ মাস আসলেই ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কে বা কারা এই কাজটি করে তার কোনো হদিস পাওয়া যায় না। ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মি পত্র পতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। এখানের প্রায় সব গাছই শাল বৃক্ষ যা স্থানীয়ভাবে গজারি নামে পরিচিত। এই জন্য এই বনভ‚মিকে গজারি বৃক্ষের বনভূমিও ডাকা হয়। এই বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - শীতের শেষে সব পাতা ঝরে পড়ে।

ভাওয়ালগড় মূলত বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক ভূমিরূপ প্লাস্টোসিন চত্বরের ভূমিরূপের অংশ যা গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। প্লাস্টোসিন চত্বরের আরও কিছু অংশ রয়েছে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায়। ভাওয়ালের বনভ‚মি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড়, শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিমাংশ এবং কালিয়াকৈর উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।

ভাওয়ালগড়ের বনভ‚মিতে দেখা যায় প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গা আগুনে পুড়ছে। দেখেই বুঝা যায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিঘার পর বিঘা বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই।

ভাওয়ালগড়ের বনভূমিতে যে গজারি বৃক্ষ জন্মে তার সব পাতা ফেব্রæয়ারীর শেষের দিকে কিংবা মার্চ মাসে ঝরে পড়ে। এই সব পাতা মাটিতে পড়ে জমা হয়। পুরো বন জুড়ে শুকনো পাতা ও ডালপালায় ভরে যায়। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা অতি উৎসাহী অসচেতন মানুষ এই সব পড়ে থাকা শুকনো পাতা ও ডালপালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে বনভূমি আগুনে পুড়তে থাকে দাউদাউ করে। বনের পাশ দিয়ে গেলেই এই দৃশ্য দেখা যায়।

বাংলাদেশে বনভূমি প্রতিনিয়ত কমছে। একক বনভূমি হিসাবে ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ আধার। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ বনভূমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। অথচ এই বনভূমি আজ দখল, দূষণ ও আগুনে পুড়ে হুমকির সম্মুখীন।

আগুন ধরিয়ে দেয়ার যতগুলো কারণ আছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে - কিছু মানুষের খামখেয়ালিপনা। বনের ভিতর বাইদ জমিতে গরুছাগল নেয়া হয় ঘাস খাওয়ানোর জন্য। গরুছাগল যারা দেখাশোনা করে তারাই বনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও একটি বিষয় হচ্ছে- ভাওয়ালগড় ও শ্রীপুর অঞ্চল শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে রয়েছে অসংখ্য মানুষের বসবাস। নিম্ন আয়ের মানুষ রান্নার জ্বালানি হিসাবে এ বনের পাতা লতা ও ডালপালা ব্যবহার করে। শুষ্ক মৌসুম আসলেই এরা বনে আগুন দেয় এবং পুড়ে যাওয়া ডালপালা গাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যায় রান্নার জন্য।

ভাওয়ালের বনে প্রতি বছর আগুন দেয়ার কারণে গাছ মরে যাচ্ছে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে, নতুন বৃক্ষের জন্ম ও বেড়ে উঠা ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। সর্বোপরি দিন দিন ভাওয়ালগড়ের আয়তন কমে আসছে।

ভাওয়ালগড়ের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশের গাছগুলোর দিকে তাকালে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। দুই পাশের গাছগুলো দিনদিন উজাড় হচ্ছে এবং বিভিন্ন রকমের দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠছে। রাস্তার পাশের গাছগুলো মরে যাওয়ার পেছনে আগুন ধরিয়ে দেয়া যেমন কাজ করে তেমনি গাছের গোড়ায় গরম পানি ঢেলে দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। আগুনের তাপে ছোট বড় সকল ধরনের গাছই জীবনী-শক্তি হারিয়ে আস্তে আস্তে মারা যায়। বিশেষ করে ছোট ছোট চারা গাছগুলো বড় হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বন আগুন দেয়া।

বনে আগুন দেয়ার কারণে প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। লোকমুখে কথিত আছে, ভাওয়ালগড়ে একসময় বাঘ বসবাস করতো। এছাড়া নানা রকমের পশুপাখি তো ছিলোই। কালের পরিক্রমায় ভাওয়ালগড়ে এখন বন্য প্রাণীর সংখ্যাও অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। প্রতিবছর বনে আগুন দেয়ার কারণে ছোট ছোট পোকামাকড় সাপ বেঁজি গুইসাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। গাছ মরে যাওয়ার কারণে বন্য প্রাণীগুলো খাদ্য সংকটে ভুগছে। প্রায় সময়ই দেখা যায় বনের বানরগুলো খাদ্য সংগ্রহ করতে লোকালয়ে চলে আসে।

শুধুমাত্র বনে আগুন দেয়ার কারণে নতুন বৃক্ষের জন্ম ও বেড়ে উঠা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্চের এই সময়টাতে বনে আগুন দেয়ার কারণে বনের নিচে পড়ে থাকা লতাপাতা ও ডালপালা পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট গাছগুলোও পুড়ে যায়। চারাগাছ বড় হওয়ার জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ প্রয়োজন। এভাবে আগুন দিয়ে বন পুড়িয়ে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত করা হচ্ছে প্রতিবছর।

ভাওয়ালগড়ের বনে আগুন সন্ত্রাসের কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সহাবস্থান ধ্বংস হচ্ছে প্রতি নিয়ত। নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ভাওয়ালগড়ের স্থল, জল ও বায়ুতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের মধ্যে যে জিনগত, প্রজাতিগত এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বা ভিন্নতা দেখা যায় তাই এখানকার জীববৈচিত্র্য। এটি মূলত জীবকূলের ভিন্নতা ও জীবন ধারণের বৈচিত্র্যময়তাকে বোঝায়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ভাওয়ালগড়ের বনভূমির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন।

ভাওয়ালগড়ের বনভূমিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বন বিভাগের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে জনবল বাড়িয়ে বাড়তি মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এর জন্য বনে আগুন দেয়ার কুফল সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। বন বিভাগের উদ্যোগে বনে আগুন দেয়া প্রতিরোধে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের তত্বাবধানও প্রয়োজন। প্রয়োজন প্রশাসনিক তদারকি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

সুন্দরবনের পরেই একক বনভূমি হিসাবে ভাওয়ালের বনভূমির অবস্থান। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবশ্যই অবশ্যই ভাওয়ালের বনে আগুন দেয়া বন্ধ করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং সবার সচেতনতা বৃদ্ধি।

[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত