ঈদে ছুটিতে যাওয়ার আগেই গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে শতভাগ বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ কলকারখানায় বকেয়া বেতন ও ৯১ শতাংশ ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঈদযাত্রায় যানজট এড়াতে এবারও ধাপে ধাপে ছুটি হচ্ছে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। সে হিসেবে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকেই অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করবেন।
শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ছুটি সাতদিনের হলেও পোশাক কারখানায় এ ছুটি ৭-১০ দিনের মতো হচ্ছে। তবে ঈদে যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও পোশাক কারখানার মালিকগণের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেল থেকে অনেক পোশাক কারখানা ছুটি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এই ছুটি আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এতে ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকরা টানা চার দিন ধরে ধাপে ধাপে গন্তব্যে যেতে পারবেন।
ধাপে ধাপে ছুটির কারণে পোশাক শ্রমিকদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি ও যানজট এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে এরইমধ্যে অনেকে তাদের পরিবার পরিজন গ্রামে পাঠানো শুরু করে দিয়েছেন। অবশ্য, সোমবার দুপুর পর্যন্ত সড়ক মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হবে। আর সন্ধ্যার পর থেকেই ছুটি পাওয়া পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফ্রেন্ডস শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার সংবাদকে বলেন, ১৫ মার্চ কলকাখানা অধিদপ্তরে পুলিশের প্রতিবেদনে দেখতে পেয়েছি ৯৫ শতাংশ বেতন বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদে বেশিরভাগ ফ্যাক্টরিতেই বেতন ভাতা ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে মিজানুর রহমান দাবি করেন, শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় একটি ও সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় একটি মোট দুটি কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়নি। তিনি মনে করছেন, এই ঈদে কোনো শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এবং শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো. শরিফুল আলম সংবাদকে বলেন, গাজীপুরে শিল্প কারখানাগুলোতে সোমবার পর্যন্ত গত মাসের বেতন প্রায় ৯০ শতাংশ ও ৮০ শতাংশ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। কোনো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাইনি।
এদিকে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন সংবাদকে বলেনন, পোশাক শ্রমিকদের ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যেতে যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি না হয় ও যানজটের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য গাজীপুরের সকল পোশাক কারখানাগুলো একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই হিসাবে সোমবার বিকেল থেকেই পোশাক শ্রমিকরা ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন বলে আশা করছি।পুলিশ সুপার আরও বলেন, যেকোনো প্রকার ভোগান্তি ও যানজটমুক্ত পরিবেশে এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারবেন। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম সংবাদকে বলেন, গাজীপুর মহানগর এলাকায় যানজট নিরসনে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। মহাসড়কে পেট্রোল টিম, মোবাইল টিম ছাড়াও পোশাকে সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজারের মতো মহানগর পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। রাস্তায় বিকল যানবাহন সরাতে নয়টি রেকার মোতায়েন রয়েছে।
চিরচেনা যানজটের এলাকা গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তায় ঢাকামুখী ফ্লাইওয়ে খুলে দেয়ায় এবারের ঈদে এই এলাকা যানজট মুক্ত থাকবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে ময়মনসিংহগামী গাড়িগুলো নিচের একটি ফ্লাইওভার ব্যবহার করে চলে গেলেও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলো নিচ দিয়ে যেতে হতো। এবার ওই এলাকায় উপরের থাকা ফ্লাইওয়েটি খুলে দেয়ায় নিচের যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সংবাদকে জানান, তাদের আওতাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও কালীগঞ্জ এলাকায় বিশ্বরোডে ৮শর উপরে জেলা পুলিশ ঈদের ট্রাফিক ডিউটিতে থাকছেন।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬
ঈদে ছুটিতে যাওয়ার আগেই গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে শতভাগ বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ কলকারখানায় বকেয়া বেতন ও ৯১ শতাংশ ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঈদযাত্রায় যানজট এড়াতে এবারও ধাপে ধাপে ছুটি হচ্ছে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। সে হিসেবে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকেই অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করবেন।
শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ছুটি সাতদিনের হলেও পোশাক কারখানায় এ ছুটি ৭-১০ দিনের মতো হচ্ছে। তবে ঈদে যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও পোশাক কারখানার মালিকগণের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেল থেকে অনেক পোশাক কারখানা ছুটি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এই ছুটি আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এতে ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকরা টানা চার দিন ধরে ধাপে ধাপে গন্তব্যে যেতে পারবেন।
ধাপে ধাপে ছুটির কারণে পোশাক শ্রমিকদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি ও যানজট এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে এরইমধ্যে অনেকে তাদের পরিবার পরিজন গ্রামে পাঠানো শুরু করে দিয়েছেন। অবশ্য, সোমবার দুপুর পর্যন্ত সড়ক মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হবে। আর সন্ধ্যার পর থেকেই ছুটি পাওয়া পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফ্রেন্ডস শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার সংবাদকে বলেন, ১৫ মার্চ কলকাখানা অধিদপ্তরে পুলিশের প্রতিবেদনে দেখতে পেয়েছি ৯৫ শতাংশ বেতন বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদে বেশিরভাগ ফ্যাক্টরিতেই বেতন ভাতা ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে মিজানুর রহমান দাবি করেন, শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় একটি ও সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় একটি মোট দুটি কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়নি। তিনি মনে করছেন, এই ঈদে কোনো শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এবং শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো. শরিফুল আলম সংবাদকে বলেন, গাজীপুরে শিল্প কারখানাগুলোতে সোমবার পর্যন্ত গত মাসের বেতন প্রায় ৯০ শতাংশ ও ৮০ শতাংশ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। কোনো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাইনি।
এদিকে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন সংবাদকে বলেনন, পোশাক শ্রমিকদের ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যেতে যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি না হয় ও যানজটের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য গাজীপুরের সকল পোশাক কারখানাগুলো একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই হিসাবে সোমবার বিকেল থেকেই পোশাক শ্রমিকরা ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন বলে আশা করছি।পুলিশ সুপার আরও বলেন, যেকোনো প্রকার ভোগান্তি ও যানজটমুক্ত পরিবেশে এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারবেন। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম সংবাদকে বলেন, গাজীপুর মহানগর এলাকায় যানজট নিরসনে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। মহাসড়কে পেট্রোল টিম, মোবাইল টিম ছাড়াও পোশাকে সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজারের মতো মহানগর পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। রাস্তায় বিকল যানবাহন সরাতে নয়টি রেকার মোতায়েন রয়েছে।
চিরচেনা যানজটের এলাকা গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তায় ঢাকামুখী ফ্লাইওয়ে খুলে দেয়ায় এবারের ঈদে এই এলাকা যানজট মুক্ত থাকবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে ময়মনসিংহগামী গাড়িগুলো নিচের একটি ফ্লাইওভার ব্যবহার করে চলে গেলেও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলো নিচ দিয়ে যেতে হতো। এবার ওই এলাকায় উপরের থাকা ফ্লাইওয়েটি খুলে দেয়ায় নিচের যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সংবাদকে জানান, তাদের আওতাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও কালীগঞ্জ এলাকায় বিশ্বরোডে ৮শর উপরে জেলা পুলিশ ঈদের ট্রাফিক ডিউটিতে থাকছেন।

আপনার মতামত লিখুন