নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অসময়ে প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সড়কে গাছ পড়ে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া এ প্রবল ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
জানা যায়, ঝড়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পের ওপর একটি বড় আমগাছ উপড়ে পড়ে। এতে ক্যাম্পের টিনের চাল ও লোহার অ্যাঙ্গেল দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বদলগাছী স্টেডিয়ামের পাশের একটি বসতবাড়ির ওপরও আমগাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ক্যাম্পে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, রাতে খাবার খেয়ে তাঁরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন, নইলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান। আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে প্রায় ৯৩ হেক্টর জমির কলাগাছ ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া আমবাগানের আমের গুটি ঝরে পড়া ও ডালপালা ভেঙে যাওয়ায় বাগান মালিকেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে মথরাপুর, আধাইপুর, মিঠাপুর, পাহাড়পুর ও বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিঘার পর বিঘা কলাগাছ মাঝখান থেকে ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে।
আধাইপুর ইউনিয়নের চকআলম নামক স্থানের সড়কে গাছ পড়ে থাকায় সকালে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে সেগুলো সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন। পল্লী বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব কলাগাছ কেবল হেলে পড়েছে, সেগুলো খুঁটি দিয়ে সোজা করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিক্রয়যোগ্য কলাগুলো দ্রুত বাজারে বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অসময়ে প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সড়কে গাছ পড়ে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া এ প্রবল ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
জানা যায়, ঝড়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পের ওপর একটি বড় আমগাছ উপড়ে পড়ে। এতে ক্যাম্পের টিনের চাল ও লোহার অ্যাঙ্গেল দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বদলগাছী স্টেডিয়ামের পাশের একটি বসতবাড়ির ওপরও আমগাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ক্যাম্পে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, রাতে খাবার খেয়ে তাঁরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন, নইলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান। আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে প্রায় ৯৩ হেক্টর জমির কলাগাছ ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া আমবাগানের আমের গুটি ঝরে পড়া ও ডালপালা ভেঙে যাওয়ায় বাগান মালিকেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে মথরাপুর, আধাইপুর, মিঠাপুর, পাহাড়পুর ও বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিঘার পর বিঘা কলাগাছ মাঝখান থেকে ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে।
আধাইপুর ইউনিয়নের চকআলম নামক স্থানের সড়কে গাছ পড়ে থাকায় সকালে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে সেগুলো সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন। পল্লী বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব কলাগাছ কেবল হেলে পড়েছে, সেগুলো খুঁটি দিয়ে সোজা করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিক্রয়যোগ্য কলাগুলো দ্রুত বাজারে বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন