মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারী অতিদরিদ্র ও অসহায় প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, উপকারভোগীদের অনেকেই আট কেজি বা তারও কম চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলার ৯টি ওয়ার্ডের অতিদরিদ্র ও অসহায় এক হাজার ৫০ জন উপকারভোগী এ তালিকায় ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ কার্যক্রমে চাল মাপার জন্য ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করা হচ্ছে না। বরং বালতি দিয়ে আনুমানিক মেপে উপকারভোগীদের চাল দেওয়া হচ্ছে। এতে ওজনে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল থেকে দুই কেজি বা তার বেশি করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যা সরকারি নির্দেশনার চরম লঙ্ঘন।
বরাইদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘শুনেছি ১০ কেজি চাল দেবে। মেপে দেখলাম সাত কেজি ৯ গ্রাম। চাল কম দিলেও বলার কেউ নেই।’
৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগী আসমানী বলেন, ‘সরকার ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে শুনেছি, কিন্তু বাড়িতে এনে মেপে দেখি আট কেজির ৩০০ গ্রাম।’
খবর নিতে গেলে সাংবাদিকদের বাধাও দিতে দেখা যায়। তথ্য সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাধা দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম। তিনি বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, ‘যদি তিনি বাধা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি চরম অন্যায় হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত কারণে অন্যায় করে তাহলে দল তার দায়ভার বহন করবে না।’
একশ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে দুস্থদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন।
ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার অনির্বান সরকার বলেন, ‘যারা চাল বিতরণ করছেন তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনোভাবেই চাল কম না দেওয়া হয়। তবে সিস্টেম লসের কারণে হয়তো কিছু কম যেতে পারে। কিন্তু ১০ কেজির পরিবর্তে আট কেজি করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারী অতিদরিদ্র ও অসহায় প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, উপকারভোগীদের অনেকেই আট কেজি বা তারও কম চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলার ৯টি ওয়ার্ডের অতিদরিদ্র ও অসহায় এক হাজার ৫০ জন উপকারভোগী এ তালিকায় ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ কার্যক্রমে চাল মাপার জন্য ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করা হচ্ছে না। বরং বালতি দিয়ে আনুমানিক মেপে উপকারভোগীদের চাল দেওয়া হচ্ছে। এতে ওজনে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল থেকে দুই কেজি বা তার বেশি করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যা সরকারি নির্দেশনার চরম লঙ্ঘন।
বরাইদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘শুনেছি ১০ কেজি চাল দেবে। মেপে দেখলাম সাত কেজি ৯ গ্রাম। চাল কম দিলেও বলার কেউ নেই।’
৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগী আসমানী বলেন, ‘সরকার ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে শুনেছি, কিন্তু বাড়িতে এনে মেপে দেখি আট কেজির ৩০০ গ্রাম।’
খবর নিতে গেলে সাংবাদিকদের বাধাও দিতে দেখা যায়। তথ্য সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাধা দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম। তিনি বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, ‘যদি তিনি বাধা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি চরম অন্যায় হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত কারণে অন্যায় করে তাহলে দল তার দায়ভার বহন করবে না।’
একশ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে দুস্থদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন।
ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার অনির্বান সরকার বলেন, ‘যারা চাল বিতরণ করছেন তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনোভাবেই চাল কম না দেওয়া হয়। তবে সিস্টেম লসের কারণে হয়তো কিছু কম যেতে পারে। কিন্তু ১০ কেজির পরিবর্তে আট কেজি করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

আপনার মতামত লিখুন