সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম

পুলিশে ১০ বছরের নিয়োগ জালিয়াতি অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি


প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬

পুলিশে ১০ বছরের নিয়োগ জালিয়াতি অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি

ভুয়া ঠিকানা ও রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশে চাকরি, তদন্তে নামছে বিশেষ কমিটি

 বিগত দশ বছরে পুলিশ সদস্য নিয়োগে সংঘটিত ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে মাঠে নামছে বিশেষ তদন্ত কমিটি।

২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সব অনিয়ম, বিধি বহির্ভূত কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের নির্দেশে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটি আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

তদন্তের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুয়া ঠিকানার ব্যবহার। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১০ বছরে অনেক প্রার্থী নিজের জেলা গোপন করে শুধুমাত্র জমি কেনার ভিত্তিতে ভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সেজে চাকরি হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা, ধামরাই, সাভার ও আশুলিয়ার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী পুলিশে যোগ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে অযোগ্য ঘোষণা বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের অস্বাভাবিক ব্যবধান। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অত্যন্ত কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পেয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশেষ কক্ষে নির্দিষ্ট পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ বা প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত অসাধু পুলিশ সদস্য, দালাল এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কতটুকু তৎপর ছিলেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকির সেই তথ্যও উদঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই তদন্ত কার্যক্রম দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সবকটিতেই পরিচালিত হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ এবং আরওআই/আরও-১।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এ সব নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান চালানো হলে নিয়োগ দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


পুলিশে ১০ বছরের নিয়োগ জালিয়াতি অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ভুয়া ঠিকানা ও রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশে চাকরি, তদন্তে নামছে বিশেষ কমিটি

 বিগত দশ বছরে পুলিশ সদস্য নিয়োগে সংঘটিত ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে মাঠে নামছে বিশেষ তদন্ত কমিটি।

২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সব অনিয়ম, বিধি বহির্ভূত কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের নির্দেশে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটি আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

তদন্তের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুয়া ঠিকানার ব্যবহার। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১০ বছরে অনেক প্রার্থী নিজের জেলা গোপন করে শুধুমাত্র জমি কেনার ভিত্তিতে ভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সেজে চাকরি হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা, ধামরাই, সাভার ও আশুলিয়ার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী পুলিশে যোগ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে অযোগ্য ঘোষণা বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের অস্বাভাবিক ব্যবধান। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অত্যন্ত কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পেয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশেষ কক্ষে নির্দিষ্ট পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ বা প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত অসাধু পুলিশ সদস্য, দালাল এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কতটুকু তৎপর ছিলেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকির সেই তথ্যও উদঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই তদন্ত কার্যক্রম দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সবকটিতেই পরিচালিত হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ এবং আরওআই/আরও-১।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এ সব নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান চালানো হলে নিয়োগ দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত