সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মধুপুর গড়ে গারো পরিবারের বাড়ি পরিদর্শনে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬

মধুপুর গড়ে গারো পরিবারের বাড়ি পরিদর্শনে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় এলাকায় গারো আদিবাসী পরিবারের ঘর নির্মাণে বাধা নারী-শিশুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস-এর একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী গারো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামের রাবার বাগানসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি কিনে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন তারা। জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি, বাগানের শুকনো পাতা সংগ্রহ এবং ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন।

সম্প্রতি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওই গারো পরিবারের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং উচ্ছেদের অপচেষ্টার অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ১৬ মার্চ (সোমবার) ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস-এর প্রতিনিধি দল মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুপুরে তারা সেখানে পৌঁছে আক্রান্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের স্টাফ ল’ইয়ার শামসিন্নাহার লিজা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা প্রমুখ।

মতবিনিময়কালে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই তারা সেখানে গেছেন। তিনি বলেন, পরিবারটি যেন স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, প্রশাসনের দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো নাগরিক এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আক্রান্ত পরিবারের জন্য উন্নত স্যানিটেশন, শিক্ষা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

লেখক গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ স্বাগতযোগ্য হলেও ধরনের পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পর্যবেক্ষণে জানা যায়, রমেন কুবি স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত প্রায় শতাংশ জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানে আম কাঁঠাল গাছ রোপণ করেন। সম্প্রতি ঘর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করলে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ বাধা দেয় এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলে, এমনকি কিছু গাছও উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

গত মার্চ ২০২৬ রাবার বাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য নির্মাণকাজে বাধা দেন। সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যদের এক নারী সদস্যের দিকে অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ভবিষ্যতে ধরনের অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


মধুপুর গড়ে গারো পরিবারের বাড়ি পরিদর্শনে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় এলাকায় গারো আদিবাসী পরিবারের ঘর নির্মাণে বাধা নারী-শিশুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস-এর একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী গারো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামের রাবার বাগানসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি কিনে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন তারা। জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি, বাগানের শুকনো পাতা সংগ্রহ এবং ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন।

সম্প্রতি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওই গারো পরিবারের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং উচ্ছেদের অপচেষ্টার অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ১৬ মার্চ (সোমবার) ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস-এর প্রতিনিধি দল মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুপুরে তারা সেখানে পৌঁছে আক্রান্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের স্টাফ ল’ইয়ার শামসিন্নাহার লিজা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা প্রমুখ।

মতবিনিময়কালে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই তারা সেখানে গেছেন। তিনি বলেন, পরিবারটি যেন স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, প্রশাসনের দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো নাগরিক এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আক্রান্ত পরিবারের জন্য উন্নত স্যানিটেশন, শিক্ষা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

লেখক গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ স্বাগতযোগ্য হলেও ধরনের পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পর্যবেক্ষণে জানা যায়, রমেন কুবি স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত প্রায় শতাংশ জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানে আম কাঁঠাল গাছ রোপণ করেন। সম্প্রতি ঘর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করলে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ বাধা দেয় এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলে, এমনকি কিছু গাছও উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

গত মার্চ ২০২৬ রাবার বাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য নির্মাণকাজে বাধা দেন। সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যদের এক নারী সদস্যের দিকে অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ভবিষ্যতে ধরনের অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত