ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সরকারপ্রধান এ নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ।
তিনি বলেন, “বৈঠকে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা পরিবর্তন অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।”
এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড
টাঙ্গাইলের সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জসহ দেশের দশ জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ২১ হাজার ৫০০ কৃষক কার্ড দেবে সরকার। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষী ও খামারিরা পাবেন এই কার্ড।
টাঙ্গাইল সদরে পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে দিন একযোগে ১১টি উপজেলায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য মাসিক ভাতা সম্বলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত ১০ মার্চ ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এবার তিনি উদ্বোধন করবেন কৃষক কার্ড।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “আজকে এই বৈঠক হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, “এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।”
যে ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে, সেগুলো হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
এছাড়া বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছিলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার ছিল শবে কদর, সরকারি ছুটির দিন। এদিনও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বিগত বাজেট, জ্বালানি পরিস্থিতি, ঈদে জনভোগান্তি কমাতে আলোচনা হয়।
এর আগে বেলা ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের অফিসে আসেন।
শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২১ মার্চ টানা সাতদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরমধ্যে একদিন (১৮ মার্চ) অবশ্য নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সরকারপ্রধান এ নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ।
তিনি বলেন, “বৈঠকে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা পরিবর্তন অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।”
এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড
টাঙ্গাইলের সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জসহ দেশের দশ জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ২১ হাজার ৫০০ কৃষক কার্ড দেবে সরকার। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষী ও খামারিরা পাবেন এই কার্ড।
টাঙ্গাইল সদরে পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে দিন একযোগে ১১টি উপজেলায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য মাসিক ভাতা সম্বলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত ১০ মার্চ ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এবার তিনি উদ্বোধন করবেন কৃষক কার্ড।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “আজকে এই বৈঠক হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, “এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।”
যে ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে, সেগুলো হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
এছাড়া বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছিলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার ছিল শবে কদর, সরকারি ছুটির দিন। এদিনও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বিগত বাজেট, জ্বালানি পরিস্থিতি, ঈদে জনভোগান্তি কমাতে আলোচনা হয়।
এর আগে বেলা ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের অফিসে আসেন।
শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২১ মার্চ টানা সাতদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরমধ্যে একদিন (১৮ মার্চ) অবশ্য নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন