সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে যে ছক এঁকেছে ইরান-চীন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে যে ছক এঁকেছে ইরান-চীন

বৈশ্বিক আধিপত্যের লড়াইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুকৌশলে দাবার বোর্ড সাজিয়েছে ইরান ও চীন। কূটনৈতিক ও সামরিক- দুই ফ্রন্টেই মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও নৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে দেশ দুটি। 

চীনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর তার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধে আসক্ত’ ও ‘বৈশ্বিক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে মার্ক্সবাদ ও কনফুসীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে নৈতিক অবস্থান তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাকে সুসংহত করছে বেইজিং।

দ্য ক্রেডলের কলামিস্ট, এশিয়া টাইমসের এডিটর অ্যাট লার্জ ও ইউরেশিয়া–বিষয়ক স্বাধীন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার তার এক প্রবন্ধে এমনটা ব্যাখ্যা করেছেন। প্রবন্ধে বলেছেন, রণক্ষেত্রে ইরানকে কার্যত অজেয় করে তুলেছে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা। ইরানের সামরিক গ্রিড এখন পুরোপুরি বাইদু স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হানা ও জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষম। 

চীন ইরানকে দীর্ঘপাল্লার রাডারও সরবরাহ করেছে।  অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সমন্বয়ের কৌশল শিখিয়েছে ইরানকে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ হামলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক রণক্ষেত্রে। হরমুজ প্রণালিতে এখন কেবল সেই তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে, যাদের লেনদেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এখন চীনের আন্তঃসীমান্ত ব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা (সিআইপিএস)-এর মাধ্যমে ইউয়ানে নিষ্পত্তি হচ্ছে। ফলে ১৯৭৪ সাল থেকে টিকে থাকা পেট্রোডলার ব্যবস্থার কার্যকর অবসান ঘটছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া

চীনের সাম্প্রতিক ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এই কৌশলের মূল চালিকাশক্তি। ২০৩০ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে ধরে রাখা, ডিজিটাল অর্থনীতিকে জিডিপির ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেইজিং। 

এসব লক্ষ্য অর্জনের পথে পেট্রোডলার ব্যবস্থাকে চূর্ণ করে পেট্রো-ইউয়ান প্রতিষ্ঠা করা এখন প্রধান হাতিয়ার। বিশ্লেষক পেপে এসকোবারের মতে, ইরান ও চীন আসলে খেলছে ‘গো’-র মতো ধৈর্যশীল দাবা খেলা। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বোর্ড সাজিয়ে তারা এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তাদের পরাজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ।  বহুপক্ষীয় জোট, বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা ও নব্যসিল্ক রোডের মতো উদ্যোগে বিনিয়োগ করে তারা গড়ে তুলেছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক শক্তিশালী বিকল্প ধারা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে যে ছক এঁকেছে ইরান-চীন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক আধিপত্যের লড়াইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুকৌশলে দাবার বোর্ড সাজিয়েছে ইরান ও চীন। কূটনৈতিক ও সামরিক- দুই ফ্রন্টেই মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও নৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে দেশ দুটি। 

চীনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর তার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধে আসক্ত’ ও ‘বৈশ্বিক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে মার্ক্সবাদ ও কনফুসীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে নৈতিক অবস্থান তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাকে সুসংহত করছে বেইজিং।

দ্য ক্রেডলের কলামিস্ট, এশিয়া টাইমসের এডিটর অ্যাট লার্জ ও ইউরেশিয়া–বিষয়ক স্বাধীন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার তার এক প্রবন্ধে এমনটা ব্যাখ্যা করেছেন। প্রবন্ধে বলেছেন, রণক্ষেত্রে ইরানকে কার্যত অজেয় করে তুলেছে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা। ইরানের সামরিক গ্রিড এখন পুরোপুরি বাইদু স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হানা ও জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষম। 

চীন ইরানকে দীর্ঘপাল্লার রাডারও সরবরাহ করেছে।  অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সমন্বয়ের কৌশল শিখিয়েছে ইরানকে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ হামলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক রণক্ষেত্রে। হরমুজ প্রণালিতে এখন কেবল সেই তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে, যাদের লেনদেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এখন চীনের আন্তঃসীমান্ত ব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা (সিআইপিএস)-এর মাধ্যমে ইউয়ানে নিষ্পত্তি হচ্ছে। ফলে ১৯৭৪ সাল থেকে টিকে থাকা পেট্রোডলার ব্যবস্থার কার্যকর অবসান ঘটছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া

চীনের সাম্প্রতিক ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এই কৌশলের মূল চালিকাশক্তি। ২০৩০ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে ধরে রাখা, ডিজিটাল অর্থনীতিকে জিডিপির ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেইজিং। 

এসব লক্ষ্য অর্জনের পথে পেট্রোডলার ব্যবস্থাকে চূর্ণ করে পেট্রো-ইউয়ান প্রতিষ্ঠা করা এখন প্রধান হাতিয়ার। বিশ্লেষক পেপে এসকোবারের মতে, ইরান ও চীন আসলে খেলছে ‘গো’-র মতো ধৈর্যশীল দাবা খেলা। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বোর্ড সাজিয়ে তারা এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তাদের পরাজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ।  বহুপক্ষীয় জোট, বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা ও নব্যসিল্ক রোডের মতো উদ্যোগে বিনিয়োগ করে তারা গড়ে তুলেছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক শক্তিশালী বিকল্প ধারা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত