সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি

চন্দ্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটে যাত্রীদের হাঁসফাঁস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬

চন্দ্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীরা। গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় সন্ধ্যা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যানবাহনে হাঁসফাঁস করছেন নারী-শিশুসহ হাজারো যাত্রী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর চন্দ্রা টার্মিনাল ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে লোকজনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। 

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের তিন শতাধিক পোশাক কারখানায় দ্বিতীয় ধাপে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বিকেল থেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। কিন্তু ধীরে চলা যান ও যাত্রী পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার- মোট ১০ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। 

টার্মিনালের ভেতর ও বাইরে বাস আর যাত্রীদের ঠেলাঠেলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

সিরাজগঞ্জগামী একটি বাসের সামনে দাঁড়িয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন পোশাককর্মী রওশন আরা। তিনি জানান, কারখানা ছুটির পর বিকেল সাড়ে ৪টায় বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু চন্দ্রা পেরুতেই সন্ধ্যা ৭টা বাজে। 

রওশন আরা বলেন, “শুধু চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত আসতেই ২ ঘণ্টা লেগে গেল। এখানে এসে আবার বাস দাঁড়িয়ে আছে। সামনে এগোনোর নামগন্ধ নেই। বাড়ি পৌঁছাতে রাত কটা বাজে ভেবে পাচ্ছি না। ছোট মেয়েটা ক্ষুধায় কান্না করছে।”

বগুড়াগামী আরেক যাত্রী মনজু মিয়া বলেন, “প্রতি ঈদেই এই চন্দ্রায় আটকাতে হয়। এখান থেকে যেন দুর্ভোগের মুক্তি নেই। পথে কোথাও জ্যাম না থাকলেও চন্দ্রায় না আটকে উপায় নেই। যাত্রী তোলার নামে বাসগুলো এখানে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে!”

যানজট নিরসনে কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও চরম যানবাহনের চাপ ও টার্মিনালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছেন না। অধিকাংশ কাউন্টার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে বাসে উঠার চেষ্টা করছেন, যা জটলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন বলেন, “দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কাউন্টার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাসে ওঠার জন্য জটলা পাকাচ্ছেন। তবে আগে-পরে মূল সড়ক ফাঁকাই আছে। 

পুলিশের ইন্সপেক্টর বলেন, চন্দ্রা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলে এখানে সব সময় কিছু না কিছু যানজট থাকে। আমাদের সদস্যরা কাজ করছেন, আশা করি যাত্রীদের খুব বেশি ভোগান্তি হবে না।”

কিন্তু পুলিশের এই আশ্বাসের বিপরীতে চন্দ্রায় আটকা পড়া হাজারো মানুষের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত যেন হাঁসফাঁসের।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


চন্দ্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীরা। গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় সন্ধ্যা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যানবাহনে হাঁসফাঁস করছেন নারী-শিশুসহ হাজারো যাত্রী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর চন্দ্রা টার্মিনাল ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে লোকজনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। 

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের তিন শতাধিক পোশাক কারখানায় দ্বিতীয় ধাপে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বিকেল থেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। কিন্তু ধীরে চলা যান ও যাত্রী পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার- মোট ১০ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। 

টার্মিনালের ভেতর ও বাইরে বাস আর যাত্রীদের ঠেলাঠেলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

সিরাজগঞ্জগামী একটি বাসের সামনে দাঁড়িয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন পোশাককর্মী রওশন আরা। তিনি জানান, কারখানা ছুটির পর বিকেল সাড়ে ৪টায় বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু চন্দ্রা পেরুতেই সন্ধ্যা ৭টা বাজে। 

রওশন আরা বলেন, “শুধু চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত আসতেই ২ ঘণ্টা লেগে গেল। এখানে এসে আবার বাস দাঁড়িয়ে আছে। সামনে এগোনোর নামগন্ধ নেই। বাড়ি পৌঁছাতে রাত কটা বাজে ভেবে পাচ্ছি না। ছোট মেয়েটা ক্ষুধায় কান্না করছে।”

বগুড়াগামী আরেক যাত্রী মনজু মিয়া বলেন, “প্রতি ঈদেই এই চন্দ্রায় আটকাতে হয়। এখান থেকে যেন দুর্ভোগের মুক্তি নেই। পথে কোথাও জ্যাম না থাকলেও চন্দ্রায় না আটকে উপায় নেই। যাত্রী তোলার নামে বাসগুলো এখানে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে!”

যানজট নিরসনে কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও চরম যানবাহনের চাপ ও টার্মিনালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছেন না। অধিকাংশ কাউন্টার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে বাসে উঠার চেষ্টা করছেন, যা জটলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন বলেন, “দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কাউন্টার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাসে ওঠার জন্য জটলা পাকাচ্ছেন। তবে আগে-পরে মূল সড়ক ফাঁকাই আছে। 

পুলিশের ইন্সপেক্টর বলেন, চন্দ্রা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলে এখানে সব সময় কিছু না কিছু যানজট থাকে। আমাদের সদস্যরা কাজ করছেন, আশা করি যাত্রীদের খুব বেশি ভোগান্তি হবে না।”

কিন্তু পুলিশের এই আশ্বাসের বিপরীতে চন্দ্রায় আটকা পড়া হাজারো মানুষের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত যেন হাঁসফাঁসের।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত