রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর ডিপোতে জ্বালানি তেলের ‘পর্যাপ্ত মজুত’ থাকার পরও বাইরে তেলে সংকট রয়েই গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে পাম্পে গিয়ে সাধারণ ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ি তেল না পেয়ে বিরক্ত। তাদের প্রশ্ন, “সরকার রেশনিং তুলে নিলো, তারপরও কেন পাম্প থেকে সীমিত পরিমাণে তেল দেয়া হচ্ছে?”
পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, “তারা তাদের জন্য বরাদ্দ তেল পাচ্ছেন না। ডিপো থেকে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।”
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক পেট্রোল পাম্প মালিক সংবাদকে বলেন, তার পাম্পে তেল ছিল না। আশপাশের আরও কয়েকটি পাম্পেরও একই অবস্থা। গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) বিষয়টি অবহিত করেন। বিএনপির ওই জনপ্রতিনিধি (এমপি) বিষয়টি স্থানীয় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নজরে আনতে বলেন।
এই পাম্প মালিকের অভিযোগ, বিষয়টি তিনি ডিসিকে জানালে, ডিসি উল্টো তার (পাম্প মালিক) ওপর ক্ষেপে যান। পরদিন তার পাম্পে তেল আছে কিনা, তা দেখতে মোবাইল কোর্ট পাঠান।
পাম্প মালিকের দাবি, তার পাম্পে কোন তেল ছিল না। তবে পাম্পের একপাশে ঝোলানো একটি কাগজে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ যে পরিমাণ লেখা ছিল, তা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা অনুযায়ি লেখা হয়নি। তাই তাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট।
ডিপোতে লাইন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মেঘনা অয়েল ডিপোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের ট্রাক ও ট্যাঙ্কারকে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ডিপোর কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন নেতাদের যোগসাজশে’ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে ‘বেআইনিভাবে’। তবে ডিপোর কর্মীদের দাবি, হেড অফিসের তালিকা অনুযায়ী তারা তেল দিচ্ছেন।
হঠাৎ ডিপোতে প্রতিমন্ত্রী অমিত
জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার আকস্মিক মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পাদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপো এলাকায় যান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডিপোর সার্বিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সে বিষয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান। জ্বালানি তেলের অবৈধ লেনদেন যাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
সতর্ক বার্তা
উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “চোরাইভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা মজুদের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এই সংসদ সদস্য গত ১৭ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র।
রেশনিং নেই, তবু লাইন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে সারা দেশে তেলের রেশনিং শুরু করে সরকার। ওই সময় আতঙ্কিত হয়ে লোকজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
রেশনিংয়ের শুরুতে সরকারের জারি করা আদেশে বলা হয়েছিল, মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল দেওয়া হবে। এ ছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কন্টেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে রেশনিং ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়। রাইডশেয়ারিং চালকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেলের জ্বালানির সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়।
ঈদের ছুটি, ভিড় কম
একই সাথে সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বিবেচনায় গত রোববার থেকে রেশনিং ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু পাম্পগুলোতে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ি তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা, সোমবারও এমন অভিযোগ এসেছে। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে।

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর ডিপোতে জ্বালানি তেলের ‘পর্যাপ্ত মজুত’ থাকার পরও বাইরে তেলে সংকট রয়েই গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে পাম্পে গিয়ে সাধারণ ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ি তেল না পেয়ে বিরক্ত। তাদের প্রশ্ন, “সরকার রেশনিং তুলে নিলো, তারপরও কেন পাম্প থেকে সীমিত পরিমাণে তেল দেয়া হচ্ছে?”
পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, “তারা তাদের জন্য বরাদ্দ তেল পাচ্ছেন না। ডিপো থেকে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।”
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক পেট্রোল পাম্প মালিক সংবাদকে বলেন, তার পাম্পে তেল ছিল না। আশপাশের আরও কয়েকটি পাম্পেরও একই অবস্থা। গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) বিষয়টি অবহিত করেন। বিএনপির ওই জনপ্রতিনিধি (এমপি) বিষয়টি স্থানীয় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নজরে আনতে বলেন।
এই পাম্প মালিকের অভিযোগ, বিষয়টি তিনি ডিসিকে জানালে, ডিসি উল্টো তার (পাম্প মালিক) ওপর ক্ষেপে যান। পরদিন তার পাম্পে তেল আছে কিনা, তা দেখতে মোবাইল কোর্ট পাঠান।
পাম্প মালিকের দাবি, তার পাম্পে কোন তেল ছিল না। তবে পাম্পের একপাশে ঝোলানো একটি কাগজে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ যে পরিমাণ লেখা ছিল, তা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা অনুযায়ি লেখা হয়নি। তাই তাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট।
ডিপোতে লাইন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মেঘনা অয়েল ডিপোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের ট্রাক ও ট্যাঙ্কারকে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ডিপোর কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন নেতাদের যোগসাজশে’ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে ‘বেআইনিভাবে’। তবে ডিপোর কর্মীদের দাবি, হেড অফিসের তালিকা অনুযায়ী তারা তেল দিচ্ছেন।
হঠাৎ ডিপোতে প্রতিমন্ত্রী অমিত
জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার আকস্মিক মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পাদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপো এলাকায় যান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডিপোর সার্বিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সে বিষয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান। জ্বালানি তেলের অবৈধ লেনদেন যাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
সতর্ক বার্তা
উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “চোরাইভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা মজুদের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এই সংসদ সদস্য গত ১৭ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র।
রেশনিং নেই, তবু লাইন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে সারা দেশে তেলের রেশনিং শুরু করে সরকার। ওই সময় আতঙ্কিত হয়ে লোকজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
রেশনিংয়ের শুরুতে সরকারের জারি করা আদেশে বলা হয়েছিল, মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল দেওয়া হবে। এ ছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কন্টেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে রেশনিং ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়। রাইডশেয়ারিং চালকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেলের জ্বালানির সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়।
ঈদের ছুটি, ভিড় কম
একই সাথে সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বিবেচনায় গত রোববার থেকে রেশনিং ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু পাম্পগুলোতে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ি তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা, সোমবারও এমন অভিযোগ এসেছে। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন