ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। পবিত্র রমজানের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে এই মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এ সড়কগুলোয় অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড ও বাজার উচ্ছেদ এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মতে, প্রশাসনের গাফিলতিই এর মূল কারণ। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকা। গত কয়েক দিন ধরে এই অংশের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল অনেকটাই ধীরগতিতে হচ্ছে।
বিশেষ করে আদর্শ সদর উপজেলার টিপড়া বাজার ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এর মধ্যে কিছু চালক উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার, পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজি ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায়ও প্রায়ই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উল্টোপথে চলা রিকশা ও অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
একই অবস্থা কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কেও। ময়নামতি, কংশনগর, দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও বাজার। সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতি যানজটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বাগমারা বাজার, লাকসাম, খিলা বাজার ও নাথের পেটুয়া বাজার এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ফারজানা পরিবহনের যাত্রী জামাল হোসেন জানান, সকাল ১০টায় কুমিল্লা থেকে বেরিয়ে কংশনগর বাজারে এসে আধা ঘণ্টার বেশি আটকে আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মহাসড়কে এত সিএনজি যে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। আইন না মেনে এসব যানবাহন ওভারটেকিং করে যানজট বাড়াচ্ছে।
ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী লিয়াকত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম বলেন, উল্টোপথে গাড়ি চললেও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি নেই। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদেও প্রশাসন ভূমিকা রাখছে না। ঈদে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে তারা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে বলে তারা অভিযোগ করেন।
যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পরস্পরকে দায়ী করছে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন সওজের কাজ। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব। অবৈধ পার্কিং ও স্ট্যান্ড বন্ধেও তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ২০০ জন অতিরিক্ত সদস্যও পাওয়া গেছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। পবিত্র রমজানের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে এই মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এ সড়কগুলোয় অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড ও বাজার উচ্ছেদ এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মতে, প্রশাসনের গাফিলতিই এর মূল কারণ। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকা। গত কয়েক দিন ধরে এই অংশের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল অনেকটাই ধীরগতিতে হচ্ছে।
বিশেষ করে আদর্শ সদর উপজেলার টিপড়া বাজার ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এর মধ্যে কিছু চালক উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার, পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজি ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায়ও প্রায়ই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উল্টোপথে চলা রিকশা ও অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
একই অবস্থা কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কেও। ময়নামতি, কংশনগর, দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও বাজার। সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতি যানজটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বাগমারা বাজার, লাকসাম, খিলা বাজার ও নাথের পেটুয়া বাজার এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ফারজানা পরিবহনের যাত্রী জামাল হোসেন জানান, সকাল ১০টায় কুমিল্লা থেকে বেরিয়ে কংশনগর বাজারে এসে আধা ঘণ্টার বেশি আটকে আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মহাসড়কে এত সিএনজি যে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। আইন না মেনে এসব যানবাহন ওভারটেকিং করে যানজট বাড়াচ্ছে।
ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী লিয়াকত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম বলেন, উল্টোপথে গাড়ি চললেও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি নেই। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদেও প্রশাসন ভূমিকা রাখছে না। ঈদে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে তারা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে বলে তারা অভিযোগ করেন।
যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পরস্পরকে দায়ী করছে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন সওজের কাজ। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব। অবৈধ পার্কিং ও স্ট্যান্ড বন্ধেও তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ২০০ জন অতিরিক্ত সদস্যও পাওয়া গেছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন