ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। টেকনাফ, নাফ নদী ও বান্দরবানের ঘুমধূম সীমান্ত হয়ে গভীর রাতে বস্তাভর্তি ইয়াবার চালান ঢুকছে বাংলাদেশে। এসব চালান চোরাই পথে কক্সবাজার হয়ে সারা দেশের মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো তৎপরতা সত্ত্বেও মাদক এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বাহিনীটি। এসব অভিযানের সময় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির একাধিক ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নৌবাহিনী ও র্যাবের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে রামু সেক্টরের আওতাধীন উখিয়ার সুইচগেইট সংলগ্ন নাফ নদী ও কেওড়া বন এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা মায়ানমার থেকে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র চোরাকারবারি দলকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। তাদের চ্যালেঞ্জ করলে কারবারিরা বিজিবির ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই গোলাগুলির একপর্যায়ে কারবারিরা পিছু হটে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তখন বিজিবি গুলি বন্ধ রাখে। পরে নৌবাহিনী ও র্যাবের সহায়তা নিয়ে নাফ নদী ও বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। ওই একই রাতে উখিয়ার মনিরঘোনা এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই দুটি অভিযান মিলিয়ে এক রাতেই প্রায় ১০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দের ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া গত ১৩ মার্চ কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাঁটাখাল এলাকায় টহলরত বিজিবি সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে ঢোকার সময় চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুইটি বস্তা ফেলে পালিয়ে গেলে সেখান থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বছির আহমেদ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। তিনি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কক্সবাজার সীমান্তের বাঁশঝাড় এলাকা থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করে বিজিবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান ও কোরবানির ঈদের সময় মাদকের চাহিদা ও দাম বাড়ায় এ সময় সীমান্ত পথে ইয়াবা প্রবেশের চেষ্টা বহুগুণে বেড়ে যায়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব ইয়াবার চালান স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রগুলোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মাদক স্পটে পৌঁছে যায়।
বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ এবং বেশ কিছু ছোটখাটো চোরাকারবারি গ্রেপ্তার হলেও, এসব চক্রের মূল হোতা বা গডফাদাররা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পাহারা ও মাদক প্রতিরোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। টেকনাফ, নাফ নদী ও বান্দরবানের ঘুমধূম সীমান্ত হয়ে গভীর রাতে বস্তাভর্তি ইয়াবার চালান ঢুকছে বাংলাদেশে। এসব চালান চোরাই পথে কক্সবাজার হয়ে সারা দেশের মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো তৎপরতা সত্ত্বেও মাদক এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বাহিনীটি। এসব অভিযানের সময় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির একাধিক ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নৌবাহিনী ও র্যাবের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে রামু সেক্টরের আওতাধীন উখিয়ার সুইচগেইট সংলগ্ন নাফ নদী ও কেওড়া বন এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা মায়ানমার থেকে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র চোরাকারবারি দলকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। তাদের চ্যালেঞ্জ করলে কারবারিরা বিজিবির ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই গোলাগুলির একপর্যায়ে কারবারিরা পিছু হটে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তখন বিজিবি গুলি বন্ধ রাখে। পরে নৌবাহিনী ও র্যাবের সহায়তা নিয়ে নাফ নদী ও বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। ওই একই রাতে উখিয়ার মনিরঘোনা এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই দুটি অভিযান মিলিয়ে এক রাতেই প্রায় ১০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দের ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া গত ১৩ মার্চ কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাঁটাখাল এলাকায় টহলরত বিজিবি সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে ঢোকার সময় চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুইটি বস্তা ফেলে পালিয়ে গেলে সেখান থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বছির আহমেদ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। তিনি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কক্সবাজার সীমান্তের বাঁশঝাড় এলাকা থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করে বিজিবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান ও কোরবানির ঈদের সময় মাদকের চাহিদা ও দাম বাড়ায় এ সময় সীমান্ত পথে ইয়াবা প্রবেশের চেষ্টা বহুগুণে বেড়ে যায়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব ইয়াবার চালান স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রগুলোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মাদক স্পটে পৌঁছে যায়।
বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ এবং বেশ কিছু ছোটখাটো চোরাকারবারি গ্রেপ্তার হলেও, এসব চক্রের মূল হোতা বা গডফাদাররা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পাহারা ও মাদক প্রতিরোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন