টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ নিয়ে আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাভুক্ত না হওয়ায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই বাঁধটি। ফলে টানা বর্ষণে হাওরে অসময়ে পানি ঢুকতে শুরু করায় ফসল রক্ষায় নিজ থেকে উদ্যোগ নিচ্ছেন কৃষকরা।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে নজরখালি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) ভোর থেকে বাঁধের অরক্ষিত অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকে বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের শঙ্কার কারণ।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নানা তদবিরের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বাঁধও প্রকল্পভুক্ত করা হয়। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধটি বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
৮২টি গ্রামের কৃষকের দাবি, এই বাঁধের আওতায় প্রচুর ফসলি জমি থাকলেও টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট (আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি) হওয়ার অজুহাতে পাউবো বাঁধ নির্মাণে আগ্রহ দেখায় না। ফলে প্রতি বছর হাওরে পানি ঢুকলে ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার এসব গ্রামের কৃষকরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করে তাদের ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন।
বরাবরের মতো এবারও তিন উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে নজরখালি বাঁধ সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো অংশ এবং তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের একাংশ এই হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এই চার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়।
নজরখালি বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানালেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রুপনগর গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের জমিতে উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের অনেক কৃষকের জমি রয়েছে। হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ নির্মাণ করে না। তাই ফসল রক্ষায় আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হয়।’
তিনি আরও জানান, ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকরা প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে, যা দিয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, ‘কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও নজরখালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতি বছরই কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত নয়। তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।’

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ নিয়ে আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাভুক্ত না হওয়ায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই বাঁধটি। ফলে টানা বর্ষণে হাওরে অসময়ে পানি ঢুকতে শুরু করায় ফসল রক্ষায় নিজ থেকে উদ্যোগ নিচ্ছেন কৃষকরা।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে নজরখালি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) ভোর থেকে বাঁধের অরক্ষিত অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকে বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের শঙ্কার কারণ।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নানা তদবিরের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বাঁধও প্রকল্পভুক্ত করা হয়। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধটি বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
৮২টি গ্রামের কৃষকের দাবি, এই বাঁধের আওতায় প্রচুর ফসলি জমি থাকলেও টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট (আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি) হওয়ার অজুহাতে পাউবো বাঁধ নির্মাণে আগ্রহ দেখায় না। ফলে প্রতি বছর হাওরে পানি ঢুকলে ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার এসব গ্রামের কৃষকরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করে তাদের ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন।
বরাবরের মতো এবারও তিন উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে নজরখালি বাঁধ সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো অংশ এবং তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের একাংশ এই হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এই চার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়।
নজরখালি বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানালেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রুপনগর গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের জমিতে উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের অনেক কৃষকের জমি রয়েছে। হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ নির্মাণ করে না। তাই ফসল রক্ষায় আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হয়।’
তিনি আরও জানান, ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকরা প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে, যা দিয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, ‘কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও নজরখালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতি বছরই কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত নয়। তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।’

আপনার মতামত লিখুন