বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে বিশ্বব্যাংক-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের কর্মক্ষম তরুণদের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পাননি। এই তথ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। একই সময়ে শ্রমবাজারে প্রবেশকারী ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণের বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। এই ব্যবধান দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে তরুণীদের ক্ষেত্রে। নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশের পথে তুলনামূলক বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি কেবল কর্মসংস্থানের প্রশ্ন নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো অপরিহার্য।
সরকার কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি ইতিবাচক দিক। তবে কেবল অগ্রাধিকার নির্ধারণ যথেষ্ট নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই এখানে মুখ্য। দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বেসরকারি খাত নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এগিয়ে আসে।
বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নীতিগত জটিলতা, ব্যবসা শুরুর প্রতিবন্ধকতা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর না হলে কর্মসংস্থানের গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক প্রশ্নে টেকসই সমাধান আসতে হলে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে প্রবৃদ্ধির সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে বিশ্বব্যাংক-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের কর্মক্ষম তরুণদের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পাননি। এই তথ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। একই সময়ে শ্রমবাজারে প্রবেশকারী ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণের বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। এই ব্যবধান দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে তরুণীদের ক্ষেত্রে। নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশের পথে তুলনামূলক বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি কেবল কর্মসংস্থানের প্রশ্ন নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো অপরিহার্য।
সরকার কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি ইতিবাচক দিক। তবে কেবল অগ্রাধিকার নির্ধারণ যথেষ্ট নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই এখানে মুখ্য। দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বেসরকারি খাত নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এগিয়ে আসে।
বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নীতিগত জটিলতা, ব্যবসা শুরুর প্রতিবন্ধকতা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর না হলে কর্মসংস্থানের গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক প্রশ্নে টেকসই সমাধান আসতে হলে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে প্রবৃদ্ধির সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

আপনার মতামত লিখুন