ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বহনকারী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের অদূরে লাইনচ্যুত হয়ে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পরেই উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত বগি সরানোসহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা, পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী ও চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি নিজেসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার জংশনের অদূরে ছাতনীগ্রামের বাগবাড়ি এলাকায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাট জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বগুড়ার সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার প্ল্যাটফর্মের অদূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এদিকে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেললাইনের ত্রুটির কারণে লাইনম্যান বিপদসংকেত দিলেও ট্রেনচালক তা খেয়াল করেননি বা উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, এ কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আহতদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুজার গাফফার জানান, তার হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন আহত চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার কার্যক্রম ও লাইন পুনরুদ্ধারের কাজ তদারকি করছেন।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বহনকারী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের অদূরে লাইনচ্যুত হয়ে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পরেই উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত বগি সরানোসহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা, পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী ও চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি নিজেসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার জংশনের অদূরে ছাতনীগ্রামের বাগবাড়ি এলাকায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাট জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বগুড়ার সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার প্ল্যাটফর্মের অদূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এদিকে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেললাইনের ত্রুটির কারণে লাইনম্যান বিপদসংকেত দিলেও ট্রেনচালক তা খেয়াল করেননি বা উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, এ কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আহতদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুজার গাফফার জানান, তার হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন আহত চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার কার্যক্রম ও লাইন পুনরুদ্ধারের কাজ তদারকি করছেন।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন