মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ। হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফলানো সোনার ফসলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
উৎপাদন খরচের চেয়েও বাজারে আলুর দর কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে এ অঞ্চলের হাজারো কৃষকের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গজারিয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আর রোগবালাই কম হওয়ায় আলুর আকার ও মান বেশ ভালো হয়েছে। তবে ফসলের এই প্রাচুর্যই এখন কৃষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গজারিয়ার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা জমি থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু দামের কথা জিজ্ঞেস করতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সেই তুলনায় আলুর দাম তলানিতে।
টেঙারচর গ্রামের কৃষক আলী আহমদ বলেন, “গতবার লোকসান হওয়ায় এইবার আবাদ কম করছি। ত্রিশ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি ।” তিনি জানান, এক বিঘা (স্থানীয় মাপে ৩৩ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করতে যে খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করে সেই টাকা উঠছে না।
স্থানীয় আরেক কৃষক ডালিম মিয়া বলেন, “আমার জমিতে মোটামুটি আলুর ফলন ভালো হইছে। তবে দাম কম থাকায় লস হইতে পারে। এমনে প্রতি বছর লোকসান হইলে কৃষক আর আলু চাষ করবে না ।”
তার ভাষ্য, “বাড়িত রাখলে আলু পইচ্চা যায়, কোলেস্টরে (কোল্ডস্টোর বা হিমাগার) রাহনের (রাখার) জায়গা পাওয়া কঠিন। আমরা এখন কী করমু বুঝতাছি না।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করতে কৃষকদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে গজারিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন আলু উত্তোলনের শুরুতে মাঠপর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিঘা প্রতি গড়ে ৮০ মণ আলুর ফলন ধরে মোট বিক্রির দাম পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা আর নতুন আলুর সাথে বাজারে পুরনো আলুর বাড়তি সরবরাহের কারণে দাম অনেকটা কমে গেছে। ফলে খুচরা বাজারে আলুর দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে চাষিরা নায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক সংবাদকে বলেন, “এবার গজারিয়ায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে, এখন দাম কিছুটা কম হলেও আলুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।”
খেত থেকে আলু তুলে বস্তায় নেওয়া হচ্ছে। ছবি: প্রতিনিধি
এদিকে, ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধার ও সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু সংগ্রহের উদ্যোগ না নিলে আগামীতে তারা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ। হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফলানো সোনার ফসলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
উৎপাদন খরচের চেয়েও বাজারে আলুর দর কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে এ অঞ্চলের হাজারো কৃষকের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গজারিয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আর রোগবালাই কম হওয়ায় আলুর আকার ও মান বেশ ভালো হয়েছে। তবে ফসলের এই প্রাচুর্যই এখন কৃষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গজারিয়ার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা জমি থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু দামের কথা জিজ্ঞেস করতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সেই তুলনায় আলুর দাম তলানিতে।
টেঙারচর গ্রামের কৃষক আলী আহমদ বলেন, “গতবার লোকসান হওয়ায় এইবার আবাদ কম করছি। ত্রিশ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি ।” তিনি জানান, এক বিঘা (স্থানীয় মাপে ৩৩ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করতে যে খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করে সেই টাকা উঠছে না।
স্থানীয় আরেক কৃষক ডালিম মিয়া বলেন, “আমার জমিতে মোটামুটি আলুর ফলন ভালো হইছে। তবে দাম কম থাকায় লস হইতে পারে। এমনে প্রতি বছর লোকসান হইলে কৃষক আর আলু চাষ করবে না ।”
তার ভাষ্য, “বাড়িত রাখলে আলু পইচ্চা যায়, কোলেস্টরে (কোল্ডস্টোর বা হিমাগার) রাহনের (রাখার) জায়গা পাওয়া কঠিন। আমরা এখন কী করমু বুঝতাছি না।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করতে কৃষকদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে গজারিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন আলু উত্তোলনের শুরুতে মাঠপর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিঘা প্রতি গড়ে ৮০ মণ আলুর ফলন ধরে মোট বিক্রির দাম পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা আর নতুন আলুর সাথে বাজারে পুরনো আলুর বাড়তি সরবরাহের কারণে দাম অনেকটা কমে গেছে। ফলে খুচরা বাজারে আলুর দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে চাষিরা নায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক সংবাদকে বলেন, “এবার গজারিয়ায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে, এখন দাম কিছুটা কম হলেও আলুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।”
খেত থেকে আলু তুলে বস্তায় নেওয়া হচ্ছে। ছবি: প্রতিনিধি
এদিকে, ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধার ও সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু সংগ্রহের উদ্যোগ না নিলে আগামীতে তারা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

আপনার মতামত লিখুন