তখন রাত। শৈলকুপার হাবিবপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মনে একটাই চিন্তা- ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলে তেল ভরপুর রাখতে হবে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। বোন জেসমিনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের বেলায়। সঙ্গে ভাগ্নে। পথে কোথাও তেল ফুরিয়ে গেলে জরুরি অবস্থার জন্য বোতলে ২০০ গ্রাম তেলও রাখলেন।
লাঙ্গলবাধ তেল পাম্পে পৌঁছে মোটরসাইকেলে তেলও ভরলেন। এরপর বাইক স্টার্ট দিতেই হঠাৎ এক যুবক এসে বাধা দেন। কোনো কথা নেই, পরিচয় নেই—শুধুই চড়-থাপ্পড়। রবিউল কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয়ে যায় বেধড়ক পিটুনি।
পাশ থেকে বোন জেসমিন এগিয়ে এলেন ভাইকে বাঁচাতে। কিন্তু তাকেও মাটিতে ফেলে পেটানো শুরু করলেন ওই যুবক। পরে আরেকজন এসে যোগ দিলেন মারধরে। রবিউল কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কারা এই লোক? কেন মারছে? কোনো উত্তর নেই।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিচয় পরিষ্কার, নির্যাতন করা যুবকটি লাঙ্গলবাধ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক (বিপি নং-কং ১২৪২)। সিভিল পোশাকে, কোনো পরিচয় ছাড়াই তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে রবিউল ও তার বোনকে পেটাতে থাকেন। সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা লাল্টু মন্ডলের ছেলে রিজওয়ান।
মারধর শেষে ভাই-বোনকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানেও গালিগালাজ। ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আনিছুজ্জামান হাজির হয়ে বললেন, 'কিছু হয়নি, এমন একটা মুচলেকায় সই করে দাও।'
রবিউল অবাক। কিছু হয়নি! তাহলে যে মারের দাগ এখনও গায়ে? আঘাতে ব্যথায় কাহিল হয়ে যাচ্ছে শরীর? বোন জেসমিনের কান্নাভেজা চোখ? তিনি সই করতে রাজি হলেন না।
স্থানীয়রা খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন। তাদের সহযোগিতায় বাড়ি ফিরলেন রবিউল, বোন ও ভাগ্নে। কিন্তু মনের ভয়, অপমান, ক্ষোভ- সবটুকু ফেলে আসতে পারলেন না পুলিশ ফাঁড়িতেই।
ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত কনস্টেবল উজ্জল মল্লিকের মন্তব্য, 'গতকাল একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো। রাতেই তো সেটা ঠিক হয়ে গেছে।'যুবদল নেতা রিজওয়ানের বক্তব্য, 'আমি তো মারধর করিনি। আমি উল্টো উনাদের ঠেকিয়েছি।'
আর ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিছুজ্জামান বললেন, 'গতকাল একটু ভুলবুঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মিসাংসা করে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। একটা ঘটনা ঘটে গেলে কিছু তো করার নেই।'
ক্ষমা চেয়ে নিয়েই কি শেষ? ভুলবুঝাবুঝি বলে কি এতটুকু সত্য ঢাকা যায়? রবিউল ভাবছেন, রাতে বাড়ি ফিরলেও মনের ভেতর একটা কিছু পুড়ছে।ঈদের আনন্দ যেন মাটি হয়ে গেল লাঙ্গলবাধ পাম্পের সামনেই।

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
তখন রাত। শৈলকুপার হাবিবপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মনে একটাই চিন্তা- ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলে তেল ভরপুর রাখতে হবে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। বোন জেসমিনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের বেলায়। সঙ্গে ভাগ্নে। পথে কোথাও তেল ফুরিয়ে গেলে জরুরি অবস্থার জন্য বোতলে ২০০ গ্রাম তেলও রাখলেন।
লাঙ্গলবাধ তেল পাম্পে পৌঁছে মোটরসাইকেলে তেলও ভরলেন। এরপর বাইক স্টার্ট দিতেই হঠাৎ এক যুবক এসে বাধা দেন। কোনো কথা নেই, পরিচয় নেই—শুধুই চড়-থাপ্পড়। রবিউল কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয়ে যায় বেধড়ক পিটুনি।
পাশ থেকে বোন জেসমিন এগিয়ে এলেন ভাইকে বাঁচাতে। কিন্তু তাকেও মাটিতে ফেলে পেটানো শুরু করলেন ওই যুবক। পরে আরেকজন এসে যোগ দিলেন মারধরে। রবিউল কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কারা এই লোক? কেন মারছে? কোনো উত্তর নেই।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিচয় পরিষ্কার, নির্যাতন করা যুবকটি লাঙ্গলবাধ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক (বিপি নং-কং ১২৪২)। সিভিল পোশাকে, কোনো পরিচয় ছাড়াই তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে রবিউল ও তার বোনকে পেটাতে থাকেন। সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা লাল্টু মন্ডলের ছেলে রিজওয়ান।
মারধর শেষে ভাই-বোনকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানেও গালিগালাজ। ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আনিছুজ্জামান হাজির হয়ে বললেন, 'কিছু হয়নি, এমন একটা মুচলেকায় সই করে দাও।'
রবিউল অবাক। কিছু হয়নি! তাহলে যে মারের দাগ এখনও গায়ে? আঘাতে ব্যথায় কাহিল হয়ে যাচ্ছে শরীর? বোন জেসমিনের কান্নাভেজা চোখ? তিনি সই করতে রাজি হলেন না।
স্থানীয়রা খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন। তাদের সহযোগিতায় বাড়ি ফিরলেন রবিউল, বোন ও ভাগ্নে। কিন্তু মনের ভয়, অপমান, ক্ষোভ- সবটুকু ফেলে আসতে পারলেন না পুলিশ ফাঁড়িতেই।
ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত কনস্টেবল উজ্জল মল্লিকের মন্তব্য, 'গতকাল একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো। রাতেই তো সেটা ঠিক হয়ে গেছে।'যুবদল নেতা রিজওয়ানের বক্তব্য, 'আমি তো মারধর করিনি। আমি উল্টো উনাদের ঠেকিয়েছি।'
আর ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিছুজ্জামান বললেন, 'গতকাল একটু ভুলবুঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মিসাংসা করে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। একটা ঘটনা ঘটে গেলে কিছু তো করার নেই।'
ক্ষমা চেয়ে নিয়েই কি শেষ? ভুলবুঝাবুঝি বলে কি এতটুকু সত্য ঢাকা যায়? রবিউল ভাবছেন, রাতে বাড়ি ফিরলেও মনের ভেতর একটা কিছু পুড়ছে।ঈদের আনন্দ যেন মাটি হয়ে গেল লাঙ্গলবাধ পাম্পের সামনেই।

আপনার মতামত লিখুন