বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল চলতি বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই হবে। এখনো আমরা সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করিনি, তবে আমার মনে হয় শিগগিরই হবে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারকে সফল অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু হওয়া বড় সাফল্য।’ তিনি আরও জানান, আগামী ১ বৈশাখ থেকে কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর নীতিগত পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন।’ সুশাসন নিশ্চিত করলে অর্থনীতি দ্রুত গতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে যোগ্যদেরই নিয়োগ দেবে। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা একাডেমিকালি অত্যন্ত দক্ষ।’ দেশে বর্তমানে 'মব কালচার' বা বিচারবহির্ভূত উচ্ছৃঙ্খলতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউট থাকবেই, এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা চাই একটি কার্যকর সংসদ যেখানে বিরোধী দল তাদের কথা বলবে।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।' এ বিষয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়- এই নীতিতেই আমরা চলছি।’ পাশাপাশি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি শাসনামলে মিডিয়া সবসময়ই সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারা বজায় রাখবে।’
মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের স্পৃহা ও গতিশীলতার প্রশংসা করেন। বর্তমান মন্ত্রিসভাকে ‘নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি ভার্সেটাইল ক্যাবিনেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল চলতি বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই হবে। এখনো আমরা সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করিনি, তবে আমার মনে হয় শিগগিরই হবে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারকে সফল অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু হওয়া বড় সাফল্য।’ তিনি আরও জানান, আগামী ১ বৈশাখ থেকে কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর নীতিগত পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন।’ সুশাসন নিশ্চিত করলে অর্থনীতি দ্রুত গতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে যোগ্যদেরই নিয়োগ দেবে। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা একাডেমিকালি অত্যন্ত দক্ষ।’ দেশে বর্তমানে 'মব কালচার' বা বিচারবহির্ভূত উচ্ছৃঙ্খলতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউট থাকবেই, এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা চাই একটি কার্যকর সংসদ যেখানে বিরোধী দল তাদের কথা বলবে।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।' এ বিষয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়- এই নীতিতেই আমরা চলছি।’ পাশাপাশি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি শাসনামলে মিডিয়া সবসময়ই সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারা বজায় রাখবে।’
মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের স্পৃহা ও গতিশীলতার প্রশংসা করেন। বর্তমান মন্ত্রিসভাকে ‘নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি ভার্সেটাইল ক্যাবিনেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন