সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইরান যুদ্ধ: বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাসকে জরুরি বার্তা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ: বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাসকে জরুরি বার্তা

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনকে জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী সব মার্কিন মিশনকে ‘ইমার্জেন্সি অ্যাকশন কমিটি’ (ইএসি) আহ্বান করতে বলা হয়েছে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত এবং জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবে। এই নির্দেশনায় সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম এই সংকটকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন মিশনে একযোগে সতর্কবার্তা পাঠানো হলো।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ইতোমধ্যে বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ড্রোন হামলায় মার্কিন দূতাবাসের একটি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে কানাডার টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গোলাগুলি এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোতে দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার মাত্রা আরও বেশি। একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ইরাকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় ২৯২টি হামলা চালিয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানে সম্প্রতি ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যদিও তা বিস্ফোরিত হয়নি, তবু ঘটনাটি নিরাপত্তা ঝুঁকির গভীরতা স্পষ্ট করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও বলেছে, এ ধরনের ইএসি বৈঠক তাদের নিয়মিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্দেশনা ইঙ্গিত দিচ্ছে- ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬


ইরান যুদ্ধ: বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাসকে জরুরি বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনকে জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী সব মার্কিন মিশনকে ‘ইমার্জেন্সি অ্যাকশন কমিটি’ (ইএসি) আহ্বান করতে বলা হয়েছে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত এবং জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবে। এই নির্দেশনায় সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম এই সংকটকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন মিশনে একযোগে সতর্কবার্তা পাঠানো হলো।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ইতোমধ্যে বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ড্রোন হামলায় মার্কিন দূতাবাসের একটি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে কানাডার টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গোলাগুলি এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোতে দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার মাত্রা আরও বেশি। একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ইরাকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় ২৯২টি হামলা চালিয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানে সম্প্রতি ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যদিও তা বিস্ফোরিত হয়নি, তবু ঘটনাটি নিরাপত্তা ঝুঁকির গভীরতা স্পষ্ট করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও বলেছে, এ ধরনের ইএসি বৈঠক তাদের নিয়মিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্দেশনা ইঙ্গিত দিচ্ছে- ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত